BBC navigation

আশ্বাস মিটলে তবেই ক্লাসে ফিরবেন শিক্ষার্থীরা

সর্বশেষ আপডেট শুক্রবার, 7 সেপ্টেম্বর, 2012 12:12 GMT 18:12 বাংলাদেশ সময়
buet briefing

বুয়েটের শিক্ষার্থীরা শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে তাদের সিদ্ধান্ত জানান

বাংলাদেশে প্রযুক্তি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বুয়েটের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উপ-উপাচার্যকে সরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে যোগ দেবেন না।

শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথে বৈঠকে সরকারের তরফ থেকে তাদের দাবি বাস্তবায়নের যেসব আশ্বাস দেয়া হয়েছিল সেগুলো বাস্তবায়ন না হলে তারা ক্লাসে যাচ্ছেন না ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন শুভ্র চত্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি তারা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরিস্কারভাবেই তুলে ধরেছেন।

মি: চক্রবর্তী জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীর দিক থেকে তিনটি আশ্বাস দেয়া হয়েছিল -- প্রথমত, বুয়েটে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নেয়া। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর যাতে কোন ধরনের একাডেমিক এবং প্রশাসনিক হয়রানি না করা হয় এবং এরই মধ্যে বুয়েট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে সেটি তুলে নেয়া।

শিক্ষামন্ত্রীর দিকে থেকে তৃতীয় আশ্বাস ছিল শিক্ষক সমিতির কাছে যেসব গুচ্ছ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো ব্স্তাবায়ন করা ।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন এই মূহুর্তে উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ এবং মামলা তুলে নিলেই তারা ক্লাসে যোগ দিতে তৈরি আছেন।

"দাবি মেনে নেবার পর আমরা ক্লাসে যোগ দিলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি আমরা স্পষ্ট করেই জানিয়েছি।"

শুভ্র চক্রবর্তী, আন্দোলতরত বুয়েট শিক্ষার্থী

এছাড়া উপাচার্যের পদত্যাগসহ বাকি দাবিগুলো চলমান প্রক্রিয়ার অংশ বলে বর্ণনা করছেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দালনরত শিক্ষার্থী মি: চক্রবর্তী বলছেন, “ এসব দাবি মেনে নেবার পর আমরা ক্লাসে যোগ দিলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি আমরা স্পষ্ট করেই জানিয়েছি।”

বুয়েট আন্দোলনের পটভূমি

বুয়েটের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে ৭ই এপ্রিল থেকে বুয়েট শিক্ষক সমিতি তাদের কর্মবিরতি শুরু করে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষকদের দাবি বিবেচনা করার আশ্বাস দিলে তারা মে মাসে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখেন।

বুয়েট প্রতিবাদ

বুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিবাদ শুরু করেন ৭ই এপ্রিল

কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়ায় ১৪ই জুলাই থেকে তাঁরা লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।

এরই মধ্যে ১০ই জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আকস্মিকভাবে ১১ই জুলাই বুয়েট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ ৪৪ দিন পর শনিবার ২৫শে অগাস্ট বুয়েট খুললেও শিক্ষকরা অ্যাকাডেমিক সবরকম কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন।

গত বুধবার বিকেলে বুয়েটের চলমান সংকট সমাধানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বুয়েটে শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নেবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। এ ছাড়া কাউকে শারীরিক ও একাডেমিকভাবে হয়রানি করা হবে না বলেও জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর এসব বক্তব্যে আশ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা আজ এ ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানানোর কথা বলেছিলেন।

একই ধরনের খবর

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻