
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৬ষ্ঠ বারের মতো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো
বাংলাদেশে আজ ১লা সেপ্টেম্বর থেকে আরেক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও আজ শনিবার থেকেই গ্রাহকদেরকে বিদ্যুতের জন্যে বাড়তি অর্থ গুনতে হবে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বি.ই.আর.সি বলছে, গ্যাসের পরিবর্তে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয় করতে সর্বশেষ এই দাম বাড়ানো হচ্ছে।
কমিশনের সদস্য সেলিম মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্য আবারও বাড়াতে হলো।‘
'সব কাজ আমরা চূড়ান্ত করে ফেলেছি। আগামী ৭/৮ তারিখের মধ্যেই আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবো এবং স্বাভাবিকভাবেই সেটা মাসের প্রথম দিন থেকেই কার্যকর হবে,' বলেন মি. মাহমুদ।
বি.ই.আর.সি বলছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবি গত জুলাই মাসে বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলো। তারপর গণ-শুনানির পর এই মূল্য ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ নিয়ে ৬ষ্ঠ বারের মতো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো।
"৩/৪ বছর আগে আমার বিদ্যুতের বিল ছিল প্রায় আড়াই হাজার টাকা এখন গত দুএকমাস ধরে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত থেকে আট হাজার টাকা"
আসমা জাহান, ঢাকার বাসিন্দা
এর আগে গত মার্চ মাসে বিদ্যুতের দাম খুচরা ও পাইকারি গ্রাহক পর্যায়ে বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
সরকারের পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি.ডি. রহমতুল্লাহ জানান, তিন বছর আগে ইউনিট-প্রতি বিদ্যুতের দাম ছিল প্রায় ২টাকা ১৫ পয়সা আর এখন এই মূল্য দাঁড়িয়েছে পাঁচ টাকার মতো।
ঢাকার একজন বাসিন্দা আসমা জাহান বলছেন, বাড়িতে আগেও তিনি ইলেকট্রনিক যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতেন এখনও সেগুলোই ব্যবহার কারণ কিন্তু বিদ্যুতের জন্যে তার খরচ দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন ৩/৪ বছর আগে তার বিদ্যুতের বিল ছিল প্রায় আড়াই হাজার টাকা এখন গত দুএকমাস ধরে তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত থেকে আট হাজার টাকা।
তিনি জানান, বর্তমান মূল্য বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার পর এক ইউনিট বিদ্যুতের জন্যে গ্রাহকদের দিতে হবে প্রায় সাত টাকা।
বি.ই.আর.সির সচিব মি. মাহমুদ বলছেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম না বাড়লে আগামী দেড় বছরের মধ্যে বাংলাদেশে এই মূল্য আর বাড়ানো হবে না।‘
বিশেষজ্ঞরা এই সঙ্কট সমাধানে গ্যাসের কূপগুলোকে সংস্কার ও গ্যাসক্ষেত্র থেকে নতুন করে গ্যসে উত্তোলনের ওপর জোর দিয়েছেন।
'বাংলাদেশে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় একমাত্র গ্যাসের মাধ্যমে তাই এই গ্যাসের উত্তোলন আরো বাড়াতে হবে,' বলেন বি.ডি. রহমতউল্লাহ।
তিনি বলেন বি.ই.আর.সির কাজ গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা কিন্তু তারা সেটা করতে ব্যার্থ হয়েছে।




















