
বুয়েটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিষয়ক শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে খ্যাত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটে উপাচার্যবিরোধী চলমান আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে।
শনিবার বুয়েটে ছাত্র-ছাত্রীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভে শিক্ষকরা অংশ নেন এবং উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সাথে দেখা করে তারা তাদের পদত্যাগের দাবি জানান।
তবে উপাচার্য তাদের বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী আগামীকাল দেশে ফিরলে তিনি তার সাথে আলাপ করে তার সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন।
এদিকে, ছাত্ররা কাল রোববার উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা পোড়ানোসহ কর্মসূচি আরো কঠোর করার কথা জানিয়েছে।
বুয়েটের উপাচার্য নজরুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাঁদের পদত্যাগের দাবিতে বেশ কয়েক মাস ধরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
গত ৭ই এপ্রিল থেকে বুয়েট শিক্ষক সমিতি তাদের কর্মবিরতি শুরু করে এবং আন্দোলনে শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষকদের দাবি বিবেচনা করার আশ্বাস দিলে তারা মে মাসে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখেন।
কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় ১৪ই জুলাই থেকে তাঁরা আবারও লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।
তার আগেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বুয়েট বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
গত সপ্তাহে লম্বা ছুটির পর বুয়েট খোলার পর অ্যাকাডেমিক সবরকম কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছেন শিক্ষকরা।
তবে আদালত থেকে শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় আজ থেকে এ আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে।
শিক্ষকদের ক্লাস বর্জনে অচল বুয়েটে এবারে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের নেতৃত্বে এসেছে।
শনিবার শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে ক্যাম্পাসে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
তারা উপাচার্যের বাড়ির সামনেও অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে।
বুয়েটের একজন ছাত্র শুভ্র চক্রবর্তী জানান তারা রোববার উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা পোড়ানোসহ বিক্ষোভ করবেন।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে বুয়েটে দীর্ঘ সময় ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে
এদিকে, শিক্ষার্থীদের সাথে বিক্ষোভে যোগ দেয়া কম্পিউটার এন্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগের একজন শিক্ষক অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বিবিসিকে বলছিলেন, শিক্ষার্থীরাই এখানে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা এখন আন্দোলন করছে।
আর তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক এস এম নজরুল ইসলাম কোন মন্তব্য করতে চাননি।
রোববার শিক্ষামন্ত্রী দেশে ফেরার পর তিনি তার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও নিশ্চিত করেন।
ওদিকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে মরিশাসে সফররত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, তিনি দেশের বাইরে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চান না।
দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে কথা বলবেন বলেও তিনি জানান।




















