BBC navigation

লন্ডনে দুহাজার বিদেশী ছাত্র বহিষ্কারের ঝুঁকিতে

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 30 অগাষ্ট, 2012 13:41 GMT 19:41 বাংলাদেশ সময়
London Metropolitan University

লন্ডনের হলওয়ে রোডে লন্ডন মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটি (ফাইল চিত্র)

লন্ডনে মেট্রোপলিটান বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাইরের দেশ থেকে শিক্ষার্থী নেবার লাইসেন্স সরকার বাতিল করে দেওয়ায় ব্রিটেন থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন দু হাজারের ওপর শিক্ষার্থী।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর সংখ্যায় বাংলাদেশীসহ দক্ষিণ এশিয় ছাত্ররা পড়তে আসেন।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের বাইরে থেকে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ভিসা অনুমোদনের অধিকার সরকার বাতিল করে দিয়েছে।

সরকারের অভিবাসন মন্ত্রী ড্যামিয়েন গ্রিন বলছেন, মেট্রোপলিটান বিশ্ববিদ্যালয় বেশ কিছু মৌলিক মানদন্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে।

মন্ত্রী বলেছেন, '' এই বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে হাজিরার বিষয়টি যথাযথ নজরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং চারভাগের একভাগ ছাত্রর ব্রিটেনে থাকারই অধিকার নেই।''

মিঃ গ্রিন আরো বলেছেন বহু শিক্ষার্থীর পর্যাপ্ত ইংরেজি জ্ঞান নেই, এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী সম্ভবত নিয়মিত ক্লাসেও উপস্থিত থাকে না।

''আমি কাউকে এ দেশ থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছি না, শুধু আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করছি,'' বলেছেন মন্ত্রী ড্যামিয়েন গ্রিন।

ড্যামিয়েন গ্রিন

ড্যামিয়েন গ্রিন

সরকারের এই সিদ্ধান্তের অর্থ দাঁড়াচ্ছে ইইউর বাইরের দেশগুলো থেকে আসা দু হাজারের বেশি ছাত্রকে এখন ৬০ দিনের মধ্যে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে না হয়ত তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

"আমি কাউকে এ দেশ থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছি না, শুধু আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করছি।"

ড্যামিয়েন গ্রিন, ব্রিটিশ অভিবাসন মন্ত্রী

বুধবার রাতে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ইউ.কে. বর্ডার এজেন্সি এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে বলেছে ছয় মাসে আগে মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটির এই সমস্যা চিহ্ণিত করে তাদের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের এই ব্যর্থতা সম্পর্কে কোনোরকম ব্যবস্থাই নেয়নি।

ইংল্যান্ডের উচ্চশিক্ষা ফান্ডিং কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা এবং শুধুমাত্র লন্ডন মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রেই এই ব্যর্থতার নজির পাওয়া গেছে।

লন্ডন মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার এবং এখানে বাংলাদেশীসহ প্রচুর দক্ষিণ এশিয় ছাত্রছাত্রী পড়াশোনার জন্য ভর্তি ছিল।

কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যুক্তরাজ্যের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে না।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এই সিদ্ধান্তের কারণে যারা বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়ছেন তাদের সাহায্য করার জন্য সরকার একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে।

ব্রিটিশ অভিবাসন মন্ত্রী ড্যামিয়েন গ্রিন বলেছেন যে তিনটি ক্ষেত্রে মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটির ব্যর্থতা ধরা পড়েছে সেগুলি হল

১. যে ১০১জন শিক্ষার্থীকে নমুনা ধরে তথ্য যাচাই করা হয়েছিল, সেখানে দেখা গেছে এদের এক চতুর্থাংশের ব্রিটেনে থাকার অধিকার নেই।

২. ইউনিভার্সিটির যেসব ফাইলপত্র পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, তার থেকে দেখা গেছে 'উল্লেখযোগ্য সংখ্যক' শিক্ষার্থীর ইংরেজি যোগ্যতা সম্পর্কে 'যথাযথ কোনো তথ্য' নেই।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের নিশ্চিত হওয়া উচিত যে ছাত্ররা ভিসা নিয়ে সেখানে পড়াশোনা করতে আসছে, তারা স্টুডেন্টস্-ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে কাজ করতে ঢুকছে না। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ নমুন পরীক্ষায় দেখেছে অর্ধেকের বেশি ছাত্রের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো রেকর্ডই নেই যে তারা ক্লাসে যোগ দিচ্ছে কীনা।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻