BBC navigation

গানবাজনা করার কারণে ১৭জন আফগানকে হ‍ত্যা

সর্বশেষ আপডেট সোমবার, 27 অগাষ্ট, 2012 13:27 GMT 19:27 বাংলাদেশ সময়
মোসা কালায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে

মোসা কালায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশে নাচ-গান করা এবং তা উপভোগের জন্য তালেবান জঙ্গিরা ১৭ জনকে নির্বিচারে হত্যা করেছে।

নিহতদের মধ্যে দু’জন মহিলাও রয়েছে এবং ধারনা করা হচ্ছে এদের নাচ দেখতেই নিহত পুরুষরা জড়ো হয়েছিলেন।

বেশিরভাগ লোককেই গলা কেটে অথবা জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন রকমের খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তালেবানের দু’জন কমান্ডারের মধ্যে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

এর আগে প্রাদেশিক গভর্নরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, নাচ গান করার কারণেই তালেবান জঙ্গিরা তাদেরকে হত্যা করেছে।

হত্যাকাণ্ডের জন্যে তালেবান জঙ্গিদের দায়ী করা হচ্ছে

হত্যাকাণ্ডের জন্যে তালেবান জঙ্গিদের দায়ী করা হচ্ছে

বিভৎস এই হত্যাকান্ড এমন সময় ঘটলো যখন পশ্চিমা সৈন্যরা দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব আফগানদের ওপর দিয়ে নিজেদের প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে।
কাবুল থেকে বিবিসি সংবাদদাতা বিলাল সারোয়ারি জানান, এই দেহগুলো একটি রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।

নিহতদের মধ্যে দু'জন মহিলা। বাকি ১৫ জন পুরুষ। এদের কারও কারও যেমন গলা কেটে ফেলা হয়েছে, তেমনি কোন কোন লোককে গুলি করা হয়েছে।

যেখানে এই ঘটনাটি ঘটেছে সেই মোসা কালা জেলার গভর্নর জানিয়েছেন যে, এই পুরুষ এবং মহিলারা এক জায়গায় জড়ো হয়ে গান বাজনা করছিলেন।

তালেবান আফগানিস্তানে যে ধরনের আইন প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, তাতে গানবাজনা শোনা কিংবা নারী-পুরুষের প্রকাশ্য দেখা-সাক্ষাৎ হারাম অর্থাৎ গর্হিত অপরাধ।

বিবিসি সংবাদদাতারা বলছেন, এই ঘটনাটিতে এলাকার গ্রামের লোকজন এতই ভয় পেয়েছেন যে সোমবার সকাল থেকে সবাই দরোজায় খিল দিয়ে বসে আছেন। কেউ ঘর থেকে বাইরে বেরুচ্ছে না।

সরকার বলছে, তালেবান এই ঘটনার জন্য দায়ী।

হেলমান্দ প্রদেশের গভর্নরের একজন মুখপাত্র দায়ুদ আহমাদি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন যে এটা তালেবানেরই কাজ। তবে তিনি কীভাবে এটা নিশ্চিত হলেন সে সম্পর্কে কিছু জানাননি।

প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের জনপ্রিয়তা ক্রমশ কমছে

প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের জনপ্রিয়তা ক্রমশ কমছে

এই ঘটনা সম্পর্কে তালেবানের তরফ থেকে কোন বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।

এই ঘটনার পাশাপাশি সোমবার হেলমান্দেই তালেবানের হামলায় ১০ জন আফগান সৈন্য মারা গেছে।

ওয়াশির জেলার একটি পুলিশ চৌকির ওপর এই হামলা হয়।

প্রায় ২০০ তালেবান জঙ্গি এই হামলায় অংশ নেয় বলে জানা যাচ্ছে।

ওয়াশিরের একজন পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এএফপি বলছে, এই হামলায় আরও চারজন সৈন্য আহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও ছ’জন।

অন্যদিকে, ১১ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা বলছেন।

তালেবানের হামলায় আফগান সৈন্য যেমন মারা যাচ্ছে, তেমনি এ বছর এখন পর্যন্ত ৪২ জন বিদেশি সৈন্য নিহত হয়েছে। আর এই হামলার সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।
২০১৪ সালের শেষ নাগাদ আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে। তার পর কী হতে পারে সে সম্পর্কে নেটো জোটের একটি গোপন রিপোর্ট সম্প্রতি ফাঁস হয়ে গেছে।

এতে বলা হয়েছে আফগানিস্তানে একটি আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তোলা এবং একটি কার্যকর বেসরকারি প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য পশ্চিমা দেশগুলো গত ১০ বছরে যে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে, ২০১৪ সালের পর তা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

তালেবানের হামলায় এ বছর ৪২ জন বিদেশি সৈন্য নিহত হয়েছে

তালেবানের হামলায় এ বছর ৪২ জন বিদেশি সৈন্য নিহত হয়েছে

বিবিসির সংবাদদাতাদের অভিমত হচ্ছে, তালেবানের প্রতি জনগণ - বিশেষভাবে গ্রামীণ এলাকাগুলিতে সমর্থন বাড়ছে। দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় সরকারের আইন শুধু কাগজে কলমে। সেখানকার আসল নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে।

বিশ্লেষকদের মতে এর কারণ একাধিক। প্রথমত: যতই অর্থব্যয় করা হোক না কেন, আফগানিস্তানের সামাজিক কাঠামো এখনও আগের মতই রয়ে গেছে, যেটা তালেবানের জন্য সুবিধাজনক।

দ্বিতীয়ত: হামিদ কারজাইয়ের সরকার সারা দেশে একটি নতুন প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি।

তৃতীয় কারণ হচ্ছে, কারজাই সরকারের মধ্যে দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতা এত বেশি যে তার থেকে মানুষের আস্থা উঠে গেছে। তারা দেখছে, এই সরকারের কাছ থেকে তারা কোন সেবা পাচ্ছে না, কোনও ন্যায়বিচারও পায় না। অন্যদিকে তালেবানের আইন কঠোর এবং তৎক্ষণাৎ। ফলে সাধারণ মানুষ এটা নিয়েই খুশি।

তালেবানের প্রতিনিধিরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে কর আদায় করেন। অনেক এলাকাতে তালেবানের তৈরি ছায়া প্রশাসন কার্যকর।

এমনকি আফগান সরকারি বাহিনীর মধ্যেও তালেবানের সমর্থন বাড়ছে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻