গোপন মার্কিন তারবার্তা ফাঁস করেছে যে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট সেই উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসঞ্জকে একুয়েডর যে রাজনৈতিক আশ্রয় দেবার কথা ঘোষণা করেছে, তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ব্রিটেন এবং সুইডেন।

জুলিয়ান অ্যাসঞ্জ
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেছেন মি: অ্যাসঞ্জকে নিরাপদে একুয়েডর যাবার জন্য পথ তৈরি করে দেবার কোন আইনগত ভিত্তি নেই।
অন্যদিকে সুইডেনের সরকার একুয়েডরের এই সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেছেন জুলিয়ান অ্যাসঞ্জকে একুয়েডর যে রাজনৈতিক আশ্রয় দেবার কথা ঘোষণা করেছে তাতে তারা হতাশ হয়েছেন।
মি: হেগ জানিয়েছেন, একুয়েডরের এই সিদ্ধান্তে ব্রিটেনের অবস্থানের মৌলিক কোন পরিবর্তন হবে না ।
তিনি বলেন, তাকে ফিরিয়ে দিতে আইনগতভাবে ব্রিটেনের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেটি তাদের অবশ্যই পালন করতে হবে।
মি: হেগ বলছেন, ব্রিটেনের আইন অনুযায়ী জুলিয়ান অ্যাসঞ্জের আর আপিল করার কোন সুযোগ নেই।
এখন তাকে সুইডেনের কাছে হস্তান্তরের জন্য ব্রিটেনের আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ব্রিটেন অবশ্যই সেটি পালন করবে বলে মি: হেগ উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন বন্দি বিনিময় আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার জন্য কূটনৈতিকভাবে সেটি সমাধান করতে ব্রিটেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মিঃ অ্যাসঞ্জ তাঁর সুইডেন প্রত্যর্পণ এড়ানোর জন্য লন্ডনে একুয়েডর দূতাবাসে গত দুমাস ধরে আশ্রয় নিয়ে আছেন।
সুইডেনে যৌন হামলা সংক্রান্ত এক মামলায় মিঃ অ্যাসঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি প্ররোয়ানা জারি রয়েছে, এবং ব্রিটেন ও সুইডেনের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণের চুক্তি রয়েছে।

উইলিয়াম হেগ
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, একুয়েডরের দূতাবাসে ঢুকে অভিযান চালানোর জন্য কোন হুমকি দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন এক্ষেত্রে ব্রিটেনের যে আইন রয়েছে সেটি আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতি বজায় রেখেই প্রয়োগ করতে হবে। তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন জুলিয়ান অ্যাসঞ্জ সহজে ব্রিটেন ছেড়ে যেতে পারবেন না বলেই জানালেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মি: হেগ বলছেন, জুলিয়ান অ্যাসঞ্জকে নিরাপদে ব্রিটেন ছেড়ে যেতে দেয়া হবে না। সেটি করার কোন আইনগত ভিত্তিও নেই।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে নীতির ভিত্তিতে মি: অ্যাসঞ্জকে কূটনৈতিক আশ্রয় দেয়া হয়েছে সেটি ব্রিটেন গ্রহণ করে না ।
এটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোন রীতি নয় বলে বলে তিনি বলছেন।
এদিকে একুয়েডরের রাজধানী কিটোতে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন তারা মিঃ অ্যাসঞ্জের পক্ষে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কারণ, তারা একে একুয়েডরের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন বলে মনে করেন।
প্রতিবাদকারীরা বলছেন, তারাও জুলিয়ান অ্যাসঞ্জকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার পক্ষে, একই সঙ্গে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং যেসব দেশ সে ব্যাপারে হুমকি দিচ্ছে কিংবা একুয়েডরকে তাদের নতুন উপনিবেশ বলে মনে করছে, তারও প্রতিবাদে তারা সোচ্চার হতে চান।















