
গ্রেপ্তার হওয়া মোহম্মদ ইউনুস
বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকায় পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন জইশ-ই মোহাম্মদের সাথে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।
গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, ঐ ব্যক্তি কক্সবাজারে স্থানীয় লোকজন এবং রোহিঙ্গাদের মধ্যে জঙ্গী সংগঠনটির তৎপরতা চালাতেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে।
গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, রোহিঙ্গাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন জইশ-ই মোহাম্মদের সাথে মোঃ ইউনুস নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে।
বিদেশ যাওয়ার সময় জাল পাসপোর্টসহ ওই ব্যক্তিকে আটক করার কথা জানানো হয়েছে।
"কক্সবাজারে রামুর থানায় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ ইউনুস। সেখানেই তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে জ্ঙ্গী কার্যকলাপ চালাচ্ছিলেন।"
মো: মাসুদুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা
গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মো: মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তি কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মধ্যেও জঙ্গী সংগঠনের তৎপরতা চালিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ এমনটা জানতে পেরেছে।
''কক্সবাজারে রামুর থানায় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ ইউনুস। সেখানেই তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে জ্ঙ্গী কার্যকলাপ চালাচ্ছিলেন।'' বলে জানান মো: মাসুদুর রহমান।
আরেকজন বাংলাদেশী পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গী সংগঠনটির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
তবে এই ব্যক্তি এখন পাকিস্তানে অবস্থান করছে।
অল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশের এসে আবার পাকিস্তান যাওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ এই ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মো: মাসুদুর রহমান বলেছেন , জঙ্গী সংগঠনটির একজনের পাকিস্তানে যাওয়া আসার তথ্য জানার পর গোয়েন্দা পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। সে প্রক্রিয়াতেই মোহাম্মদ ইউনুস নামের ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
আটক ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ মনে করে, এই জঙ্গী সংগঠনটির বাংলাদেশে কোনধরনের নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালানোর পরিকল্পনা ছিল না। সেধরনের কোন অবস্থান বা শক্তি এখনও তৈরি করতে পারেনি।
"বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সদস্য সন্দেহে বিভিন্ন লোককে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে মাঝেমধ্যেই। কিন্তু তারা অল্পদিনের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যায়।"
নুর খান লিটন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র
তবে পুলিশ ধারণা করছে, আটক ব্যক্তি এবং পাকিস্তানে থাকা বাংলাদেশী মিলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে জঙ্গী সংগঠনটির অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছিল।
জঙ্গী সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে গবেষণা করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নূর খান লিটন। তিনি বলছিলেন, গত কয়েক বছরে পাকিস্তান ভিত্তিক বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের বেশ কয়েকজন আটক হয়েছে। কিন্তু এগুলোর তদন্তের ফলাফল কখনও জানা যায় না।
''বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সদস্য সন্দেহে বিভিন্ন লোককে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে মাঝেমধ্যেই। কিন্তু তারা অল্পদিনের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যায়।''
এদিকে, গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ আটক মোঃ ইউনুসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়া হবে।



















