
ঈদের ছুটিতে প্রতি বছরই মহসড়কে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ঈদের ছুটি কাটাতে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হওয়া হাজার হাজার যাত্রী বিভিন্ন মহাসড়কে আটকে পড়েছেন।
বুধবার সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ সড়ক, নৌ এবং রেলপথে ঢাকা ছেড়ে যেতে শুরু করেন। কিন্তু সড়ক পথে যারা ঢাকা ছেড়েছেন তারা বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েন।
এবারে ঈদের ছুটির সঙ্গে জাতীয় শোক দিবসের ছুটি যোগ হওয়ায় একটানা প্রায় এক সপ্তাহের জন্য লম্বা ছুটি পাচ্ছেন অনেকে। ফলে ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই অনেকে ঢাকা ছেড়ে যেতে শুরু করেছেন।
সবচেয়ে ভয়ানক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। মোজাহেরুল হক নামে চট্টগ্রামগামী এক যাত্রী জানান, তিনি সকাল দশটায় ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে রওনা হয়ে বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ কুমিল্লা সেনানিবাসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছেন।
"খুবই কষ্টে আছি, দুঃসহ যন্ত্রণার মধ্যে আছি। সাড়ে পাঁচ ঘন্টায় আমরা পাড়ি দিয়েছি দেড় ঘন্টার পথ। আমি কখন নোয়াখালি পৌঁছাবো জানি না"
যানজটে আটকে পড়া যাত্রী ওমর ফারুক
আমার সামনে পেছনে এখন শত শত গাড়ী। স্বাভাবিক সময়ে আমার এতক্ষণে চট্টগ্রামে পৌছে যাওয়ার কথা। রাস্তায় কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি, কোন গাড়ী লাইন ভাঙ্গেনি। তারপরও শত শত গাড়ী লাইনে আটকে পড়ে আছে।
ওমর ফারুক নামের আরেকজন যাত্রী তার পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন নোয়াখালি। কুমিল্লার কাছে যানজটে আটকে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে তিনি জানান, হাজার হাজার মানুষ সেখানে যানজটে আটকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
খুবই কষ্টে আছি, দুঃসহ যন্ত্রণার মধ্যে আছি। সাড়ে পাঁচ ঘন্টায় আমরা পাড়ি দিয়েছি দেড় ঘন্টার পথ। আমি কখন নোয়াখালি পৌঁছাবো জানি না।
ঈদের ছুটিতে মহাসড়কে যানজট প্রতি বছরেই ঘটে এবং সেজন্যে সরকার যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থাও নেয়। কিন্তু সেসব সত্ত্বেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।
ধারণা করা হয় ঈদে ঢাকা মহানগরীর প্রায় অর্ধেক মানুষই তাদের গ্রামের বাড়ীতে যান ছুটি কাটাতে। সে হিসেবে আগামী চার পাঁচ দিনের মধ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবেন কম পক্ষে ৫০ লক্ষ মানুষ।



















