BBC navigation

চীনের সমর্থন পেতে বেইজিংয়ে সিরিয়ার বিশেষ দূত

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 14 অগাষ্ট, 2012 13:26 GMT 19:26 বাংলাদেশ সময়
riad hizab

আম্মানে বিবৃতি দিচ্ছেন সিরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ হিজাব

সিরিয়া সঙ্কট নিয়ে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট আসাদের দূত, বুথাইনা শাবান, মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইয়াং জিয়েচির সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে কথা রয়েছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন প্রেসিডেন্ট আসাদের দূতের সঙ্গে আলোচনার পর চীন সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিদেরও আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানোর কথা বিবেচনা করছে।

রাশিয়ার পাশাপাশি চীনও সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসনকে কূটনৈতিক সমর্থন যোগাচ্ছে। এই দুই দেশ জাতিসংঘে সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিরোধিতা করেছে।

সিরিয়ায় সংকট শুরুর সময় থেকেই চীন বলে আসছে তারা কোন দেশে সরকার বদলের নীতিকে সমর্থন করে না।

পশ্চিমা দেশগুলো যখন সিরিয়ার বিরোধীদের খোলাখুলি সমর্থন দিচ্ছে তখন চীন বলছে তারা কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে, যদিও বিরোধীরা কূটনৈতিক সমাধানের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।

"সরকার এখন দেশের মাত্র ৩০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে"

রিয়াদ হিজাব, সিরিয়ার পক্ষত্যাগকারি প্রধানমন্ত্রী

আসাদের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ কমছে?

এদিকে, জর্দানের রাজধানী আম্মান থেকে টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সিরিয়ার পক্ষত্যাগকারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ হিজাব বলেছেন প্রেসিডেন্ট আসাদের সরকার নৈতিক, অর্থনৈতিকভাবে এমনকী সামরিক দিক দিয়েও পতনের পথে । তিনি দাবি করেন সরকার এখন দেশের মাত্র ৩০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।

অবশ্য তিনি বলেছেন সিরিয়ায় ক্ষমতায় যাওয়ার কোন ইচ্ছা তার নেই, বরং বিদ্রোহীদের সমর্থনে তিনি তাদের সহযোদ্ধা হিসাবে কাজ করতে চান।

"সিরীয় সেনাবাহিনীর প্রতি আমার আহ্বান- মানুষের আন্দোলনে তাদের পাশে দাঁড়ান- যেমন ঘটেছিল মিশরে এবং তিউনিসিয়ায়। সামরিক বাহিনীতে যোগ দেবার পর আপনি যে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন তা মনে রাখুন। আপনি অঙ্গীকার করেছিলেন আপনার হাতের অস্ত্র জনগণকে রক্ষা করার জন্য- আপনার দেশের মানুষকে মারার জন্য নয়।"

মিঃ হিজাব সিরিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদেরও প্রেসিডেন্ট আসাদের পক্ষ ত্যাগ করে বিদ্রোহীদের আন্দোলনে শরিক হবার ডাক দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে সপরিবারে জর্দান পালিয়ে যাবার পর এই প্রথম সিরিয়া সরকার নিয়ে খোলাখুলি মন্তব্যে মিঃ হিজাব বলেছেন লড়াই থামাতে প্রেসিডেন্ট আসাদের ব্যর্থতার কারণেই তিনি তাঁর সরকারের প্রতি সমর্থন তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

syria

সিরিয়ায় জাতিসংঘ দূত

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তরের প্রধান ভ্যালেরি এমোস আজ (মঙ্গলবার) সিরিয়া পৌঁছেছেন।

সংঘাতের মাঝে সংকটে আটকে পড়া বেসামরিক লোকজনের জন্য জরুরি ত্রাণের সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে তিনি তিনদিনের জন্য এই সফর করছেন।

সিরিয়ান রেড ক্রিসেন্ট ত্রাণ পৌঁছে দিতে যেহেতু হিমশিম খাচ্ছে, তাই এই সফরে মিস এমোস আরও বেশি সংখ্যায় বিদেশী ত্রাণকর্মীদের ভিসা দেবার জন্য সিরিয়ার সরকারকে অনুরোধ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ ত্রাণ সংস্থার একজন মুখপাত্র অ্যান্ড্রু হারপার বিবিসিকে বলেছেন এক লাখের ওপর সিরীয় সহিংসতা এড়াতে লেবানন, জর্দান, তুরস্ক ও ইরাকে পালিয়ে গেছেন।

"জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থায় নথিভুক্ত শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারের মত। কিন্তু জর্দান সরকার আমাদের জানিয়েছে জর্দানেই এক লাখ ৫০ হাজার শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে যাদের অধিকাংশই ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল।"

বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে দশ লাখের মত মানুষ পালিয়ে গেছেন। সহিংসতার কারণে এবছর সিরিয়ায় ফসল উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কলকারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻