
বাংলাদেশের উপকূলে আটক রোহিঙ্গা শরণার্থী
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে তিনটি বিদেশি এনজিও' র কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে বর্ণনা করেছে দেশটির সরকার।
ইউএনএইচসিআর এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোর কাজে বাধা না দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিল।
তবে বাংলাদেশ সরকার বলেছে , আইন ভঙ্গ করায় তিনটি এনজিও' র নিবন্ধন নবায়ন করা হয়নি।
এখন শিবিরের বাইরে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্টের নেতৃত্বে মানবিক সহযোগিতা কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
"অনেকে না বুঝে বিবৃতি দেন আইনভঙ্গকারীদের পক্ষে। তখন সেই বিবৃতির গুরুত্ব থাকে না।"
মিজারুল কায়েস, পররাষ্ট্র সচিব
জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বা ইউএনসিআর-এর বক্তব্য ছিল , তিনটি বিদেশি এনজিও ' র কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনে মারাত্নক প্রভাব ফেলবে।
ইউএনসিআর-এর পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও বিবৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোকে বাধা না দিতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিল।
কিন্তু এসব বক্তব্য সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস।
তিনি বিবিসিকে বলেছেন , '' এসব বানানা স্টেটমেন্ট যারা করেন , তাদের একটু সতর্ক হওয়া দরকার। তথ্য ঠিকভাবে জেনে তারপর তাদের প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত।''
মি. কায়েস বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি এনজিও ' র কাজ করার ক্ষেত্রে নিবন্ধনের আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। যেখানে কার্যপরিধি বলা রয়েছে।
''কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠান সেই আইন ভঙ্গ করলে , আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কোন দেশ তা মেনে নিতে পারেনা। অনেকে না বুঝে বিবৃতি দেন আইনভঙ্গকারীদের পক্ষে। তখন সেই বিবৃতির গুরুত্ব থাকে না।''

রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে জাকার্তায়
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব বলেন , বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত বিষয়গুলো ইউএনএইচসিআর এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হবে।
মেডসা স ঁ ফ্রঁতিয়ে বা এমএসএফ , অ্যাকশন সেন্টার লা ফেইম এবং মুসলিম এইড-ইউকে – এই তিনটি এনজিওকে কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে কার্যক্রম না চালাতে বলা হয়েছিল সপ্তাহ খানেক আগে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে , ঐ এনজিওগুলোর কার্যক্রম জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। তাদের নিবন্ধন নবায়ন করা হয়নি আইন ভঙ্গ করার কারণে।
কক্সবাজারে দু ' টি শিবিরে ৩০,০০০ মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। শিবিরের বাইরে অবৈধভাবে রয়েছে পাঁচ লাখের বেশি।
পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস বলেন , শিবিরে থাকা শরণার্থীদের জন্য ইউএনএইচসিআর কাজ করছে।
শিবিরের বাইরে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্টের নেতৃত্বে মানবিক সাহায্য কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মি. কায়েস বলেন, তিনি বৃহস্পতিবার ঢাকায় রেড ক্রিসেন্টের সভাপতির সাথে বৈঠক করেছেন।
রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে যাতে শূণ্যতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য রেড ক্রিসেন্ট দ্রুত কাজ শুরু করবে বলে বাংলাদেশ সরকার আশা করছে।
তবে যে তিনটি বিদেশি এনজিও ' র নিবন্ধন নবায়ন করা হয়নি। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার কাজের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার এখন বিবেচনায় নিচ্ছে না।



















