bbc.co.uk navigation

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে প্রকাশিত খবর ঠিক নয়: সরকার

সর্বশেষ আপডেট সোমবার, 6 অগাষ্ট, 2012 15:59 GMT 21:59 বাংলাদেশ সময়

গ্রামীণ ব্যাংক

বাংলাদেশে 'গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে' বলে যে খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে - তা সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

আজ মন্ত্রীসভার এক বৈঠকের পর কেবিনেট সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেছেন, সরকারি প্রস্তাবের বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক থেকে তিনি বিদায় নেবার পর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঐ পদে স্থায়ীভাবে কেউ নিয়োগ পাননি। গত বৃহস্পতিবার সরকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগপদ্ধতি বদলাতে অর্ডিন্যান্সে পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেবার পর থেকেই তা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

বিবিসি বাংলাকে মি. ভুঁইয়া বলেন, 'গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নিয়োগ বোর্ডই করবে। চেয়ারম্যান বোর্ডের সাথে পরামর্শক্রমে একটি সিলেকশন কমিটি করবেন। ওই সিলেকশন কমিটি তিনজন প্রার্থীর একটা প্যানেল করবে। সেই প্যানেল থেকে বোর্ড এমডি নিয়োগ করবেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে।'

মি. ভুঁইয়া আরো বলেন, 'অধ্যাপক ইউনুসের ৬০ বছর অতিক্রান্ত হবার পরও গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে থাকাকে আদালত অবৈধ বলে রায় দিয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার কোন দায় নেই। কিন্তু ৬০ বছর অতিক্রান্ত হবার পর তিনি যে বেতন-ভাতা নিয়েছেন এবং বিদেশ থেকে যে অর্থ এনেছেন তার বৈধতা খতিয়ে দেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছে সরকার।'

তবে এর প্রতিক্রিয়ায় অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বিবিসিকে বলেন, কেবিনেট সচিব যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তাতে অস্পষ্টতা রয়েছে। পরিবর্তন যদি সামান্য হতো তাহলে সরকার এ পরিবর্তন করতো না।

dr yunus

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস

মি. রহমান বলেন, বেতন-ভাতা নেবার বিষয় খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে মুহাম্মদ ইউনুসকে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করাটাই মূল উদ্দেশ্য।

‌এর আগে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেয়া হয়েছিল - তা নিয়ে আজ মন্ত্রীসভায় আলোচনা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বিবৃতিতে বলেছে, সরকারের নিয়োগকৃত চেয়ারম্যানের হাতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রামীণ ব্যাংককে হুমকিতে ফেলবে। এই পদক্ষেপ 'গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি' বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

অধ্যাপক ইউনুস নিজেও এক বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, সরকারের এই উদ্যোগ ব্যাংকটিকে ধ্বংস করে দেবে, এবং গরীব ঋণগ্রহীতাদের হাত থেকে এর মালিকানা চলে যাবে।

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধীদল বিরোধী দল বিএনপিও এর সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছে।

দেশের ব্যাঙ্কিং ও অর্থনীতি খাতের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই সরকারের পদক্ষেপকে অযৌক্তিক বলে মত দিলেও অন্য অনেকে একে সঠিক বলেও দাবি করছেন।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী সরকার যেভাবে ঐ পদে নিয়োগ দিতে চায়, তা মেনে নেয়নি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বেশিরভাগ সদস্য - যাদের 'ডঃ ইউনুসপন্থী' বলে মনে করা হয়।

এ অচলাবস্থার মধ্যেই সরকার ব্যাংকটির আইন পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত তিনজনের একটি তালিকা তৈরি করবেন। আগে নিয়ম ছিল, পরিচালনা পর্ষদই ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যোগ্যদের খুঁজতে একটি বাছাই কমিটি গঠন করবে।

BBC © 2013 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻