BBC navigation

৩ বিদেশি এনজিওর কাজ বন্ধ ঘোষণা

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 2 অগাষ্ট, 2012 15:22 GMT 21:22 বাংলাদেশ সময়
বার্মায় নিপীড়নের শিকার বহু রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে

বার্মায় নিপীড়নের শিকার বহু রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে

বাংলাদেশের সরকার অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সেবা দিয়ে থাকে এমন তিনটি বিদেশি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ করেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার, মুসলিম এইড-ইউকে এবং মেদসা সঁ ফ্রতিয়ে বা এমএসএফ-হল্যান্ডকে কক্সবাজার জেলায় তাদের প্রকল্পগুলি বন্ধ করার আদেশ দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক জয়নুল বারী বিবিসিকে বলেছেন, তারা সরকারি নির্দেশ পালন করেছেন এবং এই তিনটি সংস্থা ইতিমধ্যেই তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে।

পশ্চিম বার্মায় গত জুন মাসে রোহিঙ্গা মুসলিম ও বৌদ্ধদের মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর প্রচুর রোহিঙ্গা শরণার্থী সমুদ্রপথে সীমান্ত পার হয়ে যখন বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির সদস্যরা তাদের অনেককেই ফেরত পাঠায়।

এর আগে থেকেই প্রচুর অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা টেকনাফে বসবাস করছিলেন।

"কিছু কিছু এনজিওর তৎপরতা সরকারের নীতির পরিপন্থী ছিল। পরে তাদের সাথে বৈঠক করে সরকারের অবস্থান জানিয়েছি। ঐ সময় মুসলিম এইডের এক কর্মকর্তাকে তারাই প্রত্যাহার করে নেয়।‌'"

জয়নুল বারী. জেলা প্রশাসক

তবে এ সময় বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তারা রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশসহ তাদের নানা রকমের সহযোগিতা করছেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেসরকারি সংস্থাগুলোর সাথে বৈঠক করে সরকারের অবস্থান জানানো হয়।

মি. বারী বিবিসি বাংলাকে বলেন, ''কিছু কিছু এনজিওর তৎপরতা সরকারের নীতির পরিপন্থী ছিল। পরে তাদের সাথে বৈঠক করে সরকারের অবস্থান জানিয়েছি। ঐ সময় মুসলিম এইডের এক কর্মকর্তাকে তারাই প্রত্যাহার করে নেয়।‌''

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো তিনটি বিদেশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে কক্সবাজারে তাদের সরকার অননুমোদিত প্রকল্প পরিচালনা বন্ধ করতে চিঠি দেয়।

তবে ঢাকায় ব্যুরোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে সব প্রকল্পে এই তিনটি সংস্থা সরকারের অনুমোদন নেয়নি, শুধু সেগুলোই বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্য প্রকল্পগুলো নিয়ম মাফিক চলবে।

কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকার দুটি ক্যাম্পে যে প্রায় ৫০,০০০-৬০,০০০ অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বসবাস করছেন অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার, মুসলিম এইড-ইউকে এবং এমএসএফ-হল্যান্ড তাদের মধ্যে জরুরি স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকে।

''কিছু কিছু এনজিওর তৎপরতা সরকারের নীতির পরিপন্থী ছিল। পরে তাদের সাথে বৈঠক করে সরকারের অবস্থান জানিয়েছি। ঐ সময় মুসলিম এইডের এক কর্মকর্তাকে তারাই প্রত্যাহার করে নেয়।‌''

বার্মায় রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে নানা দেশে।

বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে এই তিনটি বেসরকারি সংস্থার দুটির পক্ষ থেকে বলা হয় তারা অননুমোদিত সকল প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

তবে একটি সংস্থার সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান তারা 'মিনিমাম লাইফ সেভিং অ্যাক্টিভিটি' বা অসুস্থ শিশু ও নারীদের জীবন রক্ষায় কিছু কর্মসূচি টেকনাফে পরিচালনা করছিলেন।

সরকারের নির্দেশে বন্ধ করার পর এখন সরকারের অন্য সংস্থা যাতে এসব কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালনা করে নারী ও শিশুদের জীবন বাঁচায় তার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন বলে জানান ঐ কর্মকর্তা।

কেননা সরকারের এই নির্দেশে ঐ সব শরণার্থীদের স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হবে বলে শঙ্কা রয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসক মি. বারী জানান, সরকারসহ বেশ কিছু উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প সেখানে চলছে বলে তেমন কোন সমস্যা হবার সম্ভাবনা নেই।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে জাতিগত ঐ দাঙ্গায় এখন পর্যন্ত ৯০,০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻