
মেক্সিকোর মাদক ব্যবসার অবৈধ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবাজারে প্রবেশের ঘটনা অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের একটি উপকমিটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করছিল।
সিনেটের ঐ কমিটি তাদের তদন্ত রিপোর্টে এই অবৈধ অর্থ লেনদেনের সাথে ব্রিটিশ ব্যাংকিং জায়ান্ট এইচএসবিসির সম্পৃক্ততা থাকার প্রমাণ পেয়েছে।
উপকমিটির তাদের ঐ তদন্ত প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের যে দুটো ব্যাংকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে অর্থের যোগান দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে তাদের লেনদেনেও সাহায্য করেছে এইচএসবিসি। কমিটির রিপোর্টে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের নাম উল্লেখ করা হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে এই দুটি ব্যাংকের সাথে জঙ্গি সংগঠনগুলোর অর্থায়নের সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেছেন সত্যতা পাওয়া গেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন, বিধিবিধান ও প্রচলিত অ্যান্টি মানি লন্ডারিং আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ব্যাংক দুটি তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, যেসব কোম্পানির শেয়ার ছিল ব্যাংকগুলোতে এইচএসবিসির সাথে সেসব কোম্পানির কোনও লেনদেন নেই ।
মার্কিন সিনেটের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মালিকানাতে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক রিলিফ অর্গানাইজেশন (আইআইআরও) সহ সৌদি আরব ভিত্তিক দুটো প্রতিষ্ঠান।
এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।
এ প্রসঙ্গে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন "২০০১ সালের টুইন টাওয়ার হামলার পর কোম্পানি দুটি সন্দেহের তালিকায় আসলে তাদের সঙ্গে সবরকম লেনদেন বন্ধ করে দেয় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক"।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে ইসলামী ব্যাংকের ৩৭ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে সৌদি আরবের আল রাজি গ্রুপের হাতে।
আল রাজি অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নে জড়িত বলে সন্দেহ করে যুক্তরাষ্ট্র।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের এই দুই ব্যাংকের আন্তর্জাতিক লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী ব্যাংক (এড কনফার্মেশন) হিসেবে কাজ করেছে।















