শান্তি রক্ষার পর জাতিগঠনে বাংলাদেশ

সিয়েরা লিওনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী।

সিয়েরা লিওনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন পরিচালিত হবার পর সেসব দেশের জাতিগঠনমূলক কর্মকাণ্ডে বেসামরিক মানবসম্পদ পাঠাতে তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশের সরকার।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যেসব দেশে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদস্য ও পুলিশ সদস্যরা শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন বা আছেন সেসব দেশের প্রশাসন, বিচারবিভাগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে সিভিলিয়ান ইনভল্‌ভমেন্ট বা বেসামরিক ব্যক্তিদের কাজে লাগাতে তারা চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘এখনো এক্ষেত্রে বড় সাফল্য তেমন না আসলেও কিছু ক্ষেত্রে বেসামরিক ব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই কাজ করছেন। তাছাড়া যেসব দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা ছিলেন তারা বড় বন্ধু দেশে পরিণত হয়েছে এবং জাতিসংঘে বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভোটাভুটিতে তারা বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন দেয়। এটা দেশের জন্য অনেক বড় অর্জন।‌’

আজ মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মি. মোমেন বলেন নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষে থাকছে বিশেষ আয়োজন।

প্রতিবছর দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। যারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আত্মাহুতি দিয়েছে তাদের এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশেষ সম্মান জানানো হয় এবং বিশেষ পদক দেয়া হয়।

মি মোমেন জানান, এবছর অর্থাৎ ২০১১ সালে সর্বমোট প্রায় ৭৫ জন শান্তিরক্ষী এবং তার সাথে ৩৭ জন বেসামরিক ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন মিশনে কর্মরত থাকা অবস্থায় আত্মাহুতি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশেরও সাত জন রয়েছেন। অনুষ্ঠানে তাদের বিশেষ সম্মান জানানো হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ এবং সৈন্য মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ এবং তা বেশ অনেকদিন ধরেই। বর্তমানে সর্বমোট ১০ হাজার ৬৫৩ জন শান্তিরক্ষী বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কর্মরত আছে আর এ কারণে বাংলাদেশের বিশেষ সম্মান রয়েছে।

তবে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কি করা হচ্ছে - এমন প্রশ্নের জবাবে মি মোমেন বলেন, দুর্ঘটনা যাতে কম হয় সেজন্য জাতিসংঘ সবসময় চেষ্টা করে। বাংলাদেশ চেষ্টা করছে উন্নত প্রশিক্ষণ এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়াতে।

তিনি বলেন, ‘শীঘ্রই সাপোর্ট সার্ভিসের প্রধান হিসেবে আসছেন এমন একজন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল যিনি নিজে একজন বাংলাদেশী নারী এবং আমরা আশা করছি আমাদের আরও যা যা দরকার তা আদায়ে সফল হবো।‌’

কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সহ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে এই অবদান কতটা ভূমিকা রাখতে পারছে? মি. মোমেন বলেন টাকা আয়ের দিক থেকে গত তিন বছরে ৯১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে আয় করা গেছে।

তিনি জানান বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য বড় শক্তিধর দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া সবাই বিশেষ সম্মান দেয়। তিনি বলেন, ১১৫ টি দেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকলেও বাংলাদেশ এখানে সর্বোচ্চ স্থানে এবং অবদানও অনেক। এ যাবৎ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গিয়ে বাংলাদেশের ১১০ জন নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

অডিও খবর

ছবিতে সংবাদ

বিশেষ আয়োজন

BBC navigation

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻