অলিম্পিক সুরক্ষায় বসছে মিসাইল

এই বাড়িতেই মোতায়েন হচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র

এই বাড়িতেই মোতায়েন হচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র

লন্ডনে আসন্ন অলিম্পিকের সময় সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটেনের সরকার।

এমনকি পূর্ব লন্ডনে অলিম্পিক ভিলেজের কাছে একটি আবাসিক ভবনের বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে তাদের ছাদে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার পরীক্ষা চালানো হবে।

বিবিসির সংবাদদাতা মাইকেল বুকানন জানাচ্ছেন, লন্ডন অলিম্পিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আয়োজনে ব্যয় হবে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি।

অলিম্পিকের পুরো মৌসুমে বিশ্বের নানা দেশ থেকে আসা প্রতিযোগী এবং দর্শকদের প্রহরা দেবে স্নাইপার যোদ্ধা, হেলিকপ্টার আর টেমস নদীতে থাকবে সশস্ত্র টহল। সেই সাথে থাকবে ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বা মিসাইল।

পূর্ব লন্ডনের বাঙালী-প্রধান এলাকা টাওয়ার হ্যামলেটসের এক ফ্ল্যাট বাড়ির বাসিন্দাদের সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী তাদের বাড়ির ছাদে এই মিসাইল বসানোর পরিকল্পনা করছে।

বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে এই বাড়িটি মিসাইল বসানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে এই কারণে যে এখান থেকে অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ওপর আকাশের পুরোটাই দেখা যায়।

বাড়ির একজন বাসিন্দা ব্রায়ান হোয়েলান বলেন, কী ঘটতে যাচ্ছে তার ব্যাখ্যাসহ একটা লিফলেট যখন তার ফ্ল্যাটে পাঠানো হলো, তখন প্রথমে তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না।

''প্রথমে আমি ভেবেছিলাম এটা হয়তো কারও রসিকতা। কিন্তু লিফলেটে একটা টেলিফোন নম্বর দেয়া ছিল। সেটা ছিল প্রতিরক্ষা বিভাগের নম্বর। আমি সেখানে ফোন করলাম, কিন্তু কেউ সাড়া দিল না। ফলে আমার কাছে বিষয়টা খোলসা হলো না।''

লন্ডনের অলিম্পিক স্টেডিয়াম

লন্ডনের অলিম্পিক স্টেডিয়াম

তিনি জানান, ''এর আগে আমি দেখেছি সৈন্যরা ধরাধরি করে একটি বড় বাক্স এই বাড়িতে ঢোকাচ্ছে। তাই আমি ধরে নিলাম লিফলেটে যা বলা হয়েছে, তা হয়তো সত্যি।''

সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল যে লন্ডন অলিম্পিক চলার সময় যে নিরাপত্তা তৎপরতা চলবে, অলিম্পিকের ইতিহাসে এমনটি আগে আর কখনই দেখা যায়নি।

মি. হোয়েলান মনে করছেন টাওয়ার হ্যামলেটসের মত একটা ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন খুব একটা বাস্তববাদী পরিকল্পনা নয়।

ব্রিটিশ সংসদের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সংসদীয় উপ কমিটির সভাপতি হলেন ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির এমপি প্যাট্রিক মার্সার। তিনি বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র বসানো হচ্ছে শেষ রক্ষার উপায় হিসেবে।

''তারা যে নানা দিক বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে, তা পরিস্কার। আমার মনে হয় তারা শুধুমাত্র একটি জায়গা নয়, নানা জায়গায় এই মিসাইল বসানোর সম্ভাবনা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে। এটার যৌক্তিকতা আমি বুঝতে পারিছ। তবে এর মধ্যে যে একটা ঝুঁকি রয়েছে, তাও সত্যি।''

তবে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এই প্রশ্নে এখুনি কোন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

তারা জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই এই বাড়ির ওপর নকল মিসাইল বসিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হবে। পরীক্ষা সফল হওয়ার পর পরই আসল অস্ত্র বসানো হবে।

এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন থাকবে প্রায় দু’মাস এবং এগুলোর পাহারায় থাকবে অন্তত ১০ জন সৈন্য।

সর্বশেষ সংবাদ

অডিও খবর

ছবিতে সংবাদ

বিশেষ আয়োজন

bbc.co.uk navigation

BBC © 2013 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻