সংসদ সদস্যদের জন্য আচরণবিধি

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও বিরোধীদলের কিছু সদস্যের দেয়া বক্তব্যের ব্যাপারে তীব্র আপত্তি ওঠার পর সংসদ সদস্যদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একটি আইন পাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সংসদে এই বিলটি পেশ করেছিলেন আওয়ামী লীগের সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী।

এই বিলে বলা হয়েছে যে দুই পক্ষের সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি অসংসদীয় আচরণের জন্যে দায়ী সদস্যদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে স্পিকারের কাছে সুপারিশ করবেন।

জাতীয় সংসদে দেয়া কিছু সদস্যের বক্তব্যের শালীনতার ব্যাপারে এর আগে সমালোচনা হলেও, এই সমালোচনা তীব্র হয়েছে সম্প্রতি বিরোধীদলের সদস্যরা সংসদে যোগ দেয়ার পর।

এ সময় দুই পক্ষের সদস্যরাই এমন কিছু শব্দ তাদের বক্তব্যে ব্যবহার করেন, যাকে শালীনতার চুড়ান্ত লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করা হয়েছে। দুই দলের কিছু সংসদ সদস্যও এমনকি এই সমালোচনায় যোগ দেন।

আর এই প্রেক্ষাপটেই সাবের হোসেন চৌধুরী উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁর পেশ করা সংসদ সদস্য আচরণ বিলটি পাশ করতে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিলটি অতি দ্রুত পাশ করা প্রয়োজন

সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু

তিনি জানান যে সবার আগে তিনি এ নিয়ে আলোচনা করবেন সংসদের স্পিকারের সঙ্গে, কারণ বিলটি এখন সংসদের সম্পত্তি। এরপর আলোচনা করা হবে চীফ হুইপ এবং প্রয়োজনবোধে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে।

এক বছরেরও বেশী আগে সাবের চৌধুরী বিলটি সংসদে পেশ করার পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যে বেসরকারী বিল সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। ঐ কমিটির সভাপতি, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু মনে করেন, আইন করে সংসদ সদস্যদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিলটি অতি দ্রুত পাশ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি অসংসদীয় ও শিষ্টাচার-বহির্ভূত যে আচরণ করা হচ্ছে, তা কিছুটা হয়তো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, যে সংসদ সদস্যরা কুরুচিপূর্ণ বাক্য বিনিময় করছেন, শুধু তাঁরাই জনগণের সামনে হেয় হচ্ছেন না, পুরো জাতীয় সংসদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে।

“আমাদের নামের আগে মাননীয় বলা হয়। কিন্তু এটি মাননীয় শব্দের সঙ্গে যায় না। দুই তিনজনের জন্যে আমরা পুরো হাউজ অপমানিত বোধ করতে পারি না।“

সাবের হোসেন চৌধুরী জানান যে একটি নৈতিকতা কমিটি গঠনের জন্যে তিনি বিলে প্রস্তাব করেছেন।

অন্যদিকে মিঃ খসরু বলেন যে তাদের কমিটি সংসদে একটি এটিকেট কমিটি গঠনের জন্যে সুপারিশ করেছে। তিনি আরো জানান, সবার কাছে গ্রহনযোগ্য একটি সর্বদলীয় কমিটি গঠনের কথা সুপারিশকৃত বিলে বলা হয়েছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি বাজে আচরণ করে, অঙ্গ-ভঙ্গি করে, তেড়ে যায়, মুখে এমন ভাষা ব্যবহার করে যা ভদ্র সমাজে উচ্চারণও করা যায় না, তাঁর বিরুদ্ধে কী কী অ্যাকশন নেয়া যায়, তা ঐ এটিকেট কমিটি সুপারিশ করবে।

পরে স্পিকার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন, এ কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য শুধু একপাঞ্জ করলেই হয় না, কারণ সংসদে দেয়া বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

বর্তমান সংসদে সাবের চৌধুরী কুষ্ঠ আইন বাতিল সংক্রান্ত একটি বিল এনেছিলেন এবং সেটি পাশ হয়েছিল।

কিন্তু বাংলাদেশের সংসদে বেসরকারী বিল পাশ হওয়া এখনো বেশ বিরল ঘটনা।

তাই বিলটি পাশের ব্যাপারে মিঃ চৌধুরী কতটা আশা করছেন, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার্বিকভাবে যে আচরণগুলো সংসদে হচ্ছে, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে সেগুলো কাম্য নয়।

“আমি আরো উৎসাহিত বোধ করছি যে বিরোধী দলের নেতাও একই কথা বলেছেন। এ থেকে ধারণা করতে পারি যে এ ব্যাপারে তাদের মনোভাব ইতিবাচক হবে।“

মিঃ খসরু জানান, সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে বিলটি যাতে পাশ করা সম্ভব হয়, সে লক্ষ্যে তিনিও সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করবেন।

সর্বশেষ সংবাদ

অডিও খবর

ছবিতে সংবাদ

বিশেষ আয়োজন

BBC navigation

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻