বিজয় উদযাপন করছেন পুতিন

putin_manezh_square

নির্বাচনের পর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভ্লাদিমির পুতিন।

রাশিয়ার নির্বাচনে বিজয় উদযাপন করছেন ভ্লাদিমির পুতিন এবং তার সমর্থকেরা। চার বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা মি পুতিন তৃতীয় বারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হলেন।

রাশিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ৯৯ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট প্রদান করেছেন আর তাতে প্রায় ৬৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন।

মস্কোতে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মি পুতিন তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই তার জয় হয়েছে।

অন্যদিকে বিরোধী দল নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছে এবং সোমবার আরও পরের দিকে তারা মস্কোতে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে।

এদিকে নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো বলছে, মি পুতিন আসলে ৫০ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পেয়েছেন। যা সরকারী হিসেবের চাইতে বেশ খানিকটা কম।

এছাড়াও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো একই ভোটারের একাধিক ভোট দেয়ার বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

বিজয় কনসার্ট

putin_medvedev

রাশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভকে সঙ্গে নিয়ে মি. পুতিন।

নির্বাচনের পর মি. পুতিনের বিজয়ে উল্লসিত হাজার হাজার সমর্থক রাশিয়ার পতাকা হাতে ক্রেমলিনের বাইরে এক কনসার্টে যোগ দেয়।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভকে সঙ্গে নিয়ে মি. পুতিনও সেখানে স্বল্প সময়ের জন্য আসেন। সেখানে এক বক্তৃতায় মি. পুতিন তাকে নির্বাচিত করায় রাশিয়ার জনগণকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলছিলেন, ‘প্রিয় বন্ধুরা, আমি প্রথমেই রাশিয়ার সকল নাগরিককে আমাকে ভোট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ ধন্যবাদ জানাই যারা আজ এখানে উপস্থিতি হয়েছেন এবং যারা রাশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছেন এবং আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। আমি আপনাদের একবার বলেছিলাম আমরা বিজয়ী হবো, আমরা বিজয়ী হয়েছি।‌’

সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবী মানতে নারাজ বিরোধীরা

মি. পুতিনের প্রধান প্রচার কর্মকর্তা নির্বাচনকে রাশিয়ায় এ যাবৎকালের সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন বলে দাবী করলেও বিরোধীরা তা মানতে নারাজ।

নির্বাচনে মি. পুতিনের প্রতিদ্বন্দ্বী কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী গেন্নাদি জুগানভ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন মি. পুতিনের দল নির্বাচনে জয়লাভের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন।

meeting_manezh_square

পুতিনের বিজয় উদযাপন করছেন সমর্থকেরাও।

মি জুগানভ বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশাল রাষ্ট্রীয় শক্তি কঠোর আইনের আওতায় সকল প্রার্থীর জন্য সমান আচরণ করে। তবে এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের দূর্নীতিগ্রস্থ ও অপরাধী রাষ্ট্রযন্ত্র একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে।‌’

কিছুদিন আগেও রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও একই অভিযোগ উঠেছে।

বেশিরভাগ রুশ নাগরিকের কাছে বুথ ফেরত ভোটারদের ওপর সমীক্ষায় মি পুতিনের শতকরা ৬০ ভাগ ভোট পাওয়ার বিষয়টি কোন বিস্ময়ের বিষয় ছিলনা।

তার সমর্থকরা বলছেন মি পুতিনের অভিজ্ঞতা ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য করেছে।

আর বিরোধীদের কথা হচ্ছে ডিসেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের মতোই এই নির্বাচনে দেশের মানুষের মতের প্রতিফলনের পরিবর্তে ক্রেমলিনের চাহিদা মতো আগে থেকেই ঠিক করে রাখা ফল এসেছে।

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন বিরোধীদের অভিযোগ নাকচ করে দিলেও এই সন্দেহ পরবর্তীতে সত্য হবে কিনা তা জানতে কিছুটা সময় লাগবে।

তবে ক্রেমলিনের সামনে মি পুতিনের পক্ষে যে কনসার্ট তা একটি বার্তা দিয়েছে যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে মি পুতিনের তৃতীয় যুগের সূচনা হয়েছে এবং ভোটের লড়াই শেষ।

সর্বশেষ সংবাদ

অডিও খবর

ছবিতে সংবাদ

বিশেষ আয়োজন

BBC navigation

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻