
নিহত সাংবাদিক দম্পতি
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকান্ডের তদন্তে ‘সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি না হওয়ার আগে সংবাদ মাধ্যমে কোন বক্তব্য না দেবার জন্য‘ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত৻
একটি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে এডভোকেট মনজিল মোরশেদের করা এক রিট আবেদনের শুনানীর পর হাইকোর্টের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী এবং বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ এ নির্দেশ দেয়৻
পাশাপাশি আদালত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওই হত্যাকান্ড সম্পর্কে মনগড়া সংবাদ প্রকাশ রোধ করতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের তথ্য সচিবের প্রতি এক নির্দেশ দেন৻
হত্যাকান্ডের তদন্তের ব্যাপারে এখন পযন্ত কেউ চিহ্নিত বা গ্রেফতার না হওয়ায় জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে৻
এডভোকেট মনজিল মোরশেদ
গত ১১ই ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি মেহেরুন রুনি এবং সাগর সরোয়ার তাদের নিজ বাড়িতে খুন হন৻ এর মধ্যে পুলিশ বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার তদন্তে অগ্রগতির কথা বলা হয়েছিল৻ কিন্তু এখনো পর্যন্ত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা বা কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় নি৻
এই প্রেক্ষাপটে হত্যাকান্ডের পর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে পুলিশের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেই মানবাধিকার সংগঠনটির পক্ষ থেকে ওই রিট করা হয়েছিল৻
আদালত একটি রুলও জারি করেছে, যাতে হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং খুনিদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না - সরকারের তথ্য ও স্বরাষ্ট্র সচিব এবং পুলিশ ও ৠাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরকে দু‘সপ্তাহের মধ্যে তার কারণ জানাতে বলা হয়৻
বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানভিত্তিক রিপোর্টিংএর ক্ষেত্রে এটা কোন বাধা হবে না৻
শাহদীন মালিক, আইন বিশেষজ্ঞ
রিট দায়েরকারী আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বিবিসিকে বলেন, হত্যাকান্ডের তদন্তের ব্যাপারে এখন পযন্ত কেউ চিহ্নিত বা গ্রেফতার না হওয়ায় জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে৻
আদালত তার নির্দেশে বলেন, তদন্তের ক্ষেত্রে সরকার যথাযথ পদক্ষেপই নিচ্ছে, তবে কিছু রাজনীতিক এমন কিছু মন্তব্য করছেন এবং কোন কোন সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন বেরুচ্ছে যা তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে৻
আদালত এ প্রসঙ্গে ওই ঘটনা সম্পর্কে বিরোধীদল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার কিছু মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেন৻
সংবাদ প্রকাশ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি সরকার যে নির্দেশ দিয়েছে তাতে অনুসন্ধানী খবর প্রকাশে এটি কোন বাধার সৃষ্টি হবে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে আইন বিশেষজ্ঞ ডঃ শাহদীন মালিক বিবিসিকে বলেন, ‘মনে হয় না৻ বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানভিত্তিক রিপোর্টিংএর ক্ষেত্রে এটা কোন বাধা হবে না৻
তিনি বলেন, ‘এ নির্দেশে ভালোই হলো যে গুজব না ছড়ানো এবং বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার কথা সবাইকে মনে করিয়ে দেয়া হলো৻ ‘











