
সিরিয়াতে সহিংসতা অব্যাহত
সিরিয়াতে সরকার উৎখাতের আন্দোলন নিয়ে একদিকে যেমন সহিংসতা বেড়েই চলেছে তার সাথে বাড়ছে সিরিয়া নিয়ে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্বও৻
সিরিয়া নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়ার ভিটো দেয়া নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটনের এক নেতিবাচক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে চীন৻
ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিষ্ট পার্টির মুখপত্র হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী পত্রিকা পিপলস ডেইলিতে মার্কিন সমালোচনাকে চরম উদ্ধত আচরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে৻
সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কি উদ্দেশ্য তার আন্তরিকতা নিয়েও এই লেখায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, ইরাকের অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাষ্ট্রের কোন অধিকার নেই আরব জনগণের হয়ে কোন কথা বলার।
সংবাদদাতারা বলছেন, এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাখঢাক না করেই যে মন্তব্য করেছেন, তাতে বেইজিং অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছে।

চীনের ভূমিকার সমালোচনা করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মূখপাত্রও সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্য কোন দেশের ওপর হস্তক্ষেপ করা থেকে চীন নিজেদেরকে সবসময় বিরত রাখে। সিরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিলো তাতে ভিটো দিয়েছিলো নিরাপত্তা পরিষদের দুটো স্থায়ী সদস্য- চীন ও রাশিয়া।
তারপর থেকেই এই দুটো দেশ পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা ও চাপের মুখে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও তার মন্তব্যের মধ্য দিয়ে এই চাপটাই অব্যাহত রেখেছেন।
কিন্তু চীন ও রাশিয়া বিশ্বাস করে যে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ রক্তক্ষয়ী সহিংসতা বন্ধের জন্যে সিরিয়াতে রাজনৈতিক সংস্কারের যেসব উদ্যোগ নিয়েছেন তাকে সেগুলো করতে দিতে হবে এবং এর মাধ্যমেই রক্তপাত বন্ধ করা সম্ভব।
সিরিয়ার ওপর বাইরে থেকে কিছু চাপিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না।
গণভোটের প্রতিক্রিয়া
সংবাদদাতারা বলছেন, গণভোটের ফলাফল পেতে আরো সময় লাগবে। কারণ রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত ভোট হয়েছে।
অব্যাহত সহিংসতা আর সরকারবিরোধীদের বয়কট ও বিক্ষোভের মধ্যেই ভোট দিয়েছে মানুষ।
কর্তৃপক্ষ বলছে, তা সত্ত্বেও প্রচুর লোকজন ভোট দিয়েছে।

সরকার বলছে, গণভোটে প্রচুর লোক ভোট দিয়েছে
সরকার বলছে, তাদের পরিকল্পিত এই রাজনৈতিক সংস্কারের ফলে সিরিয়ায় বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বিরোধীরা বলছে যে, সংবিধানের বিষয়ে তাদের কোন আপত্তি নেই, মূল আপত্তি বাশার আল আসাদের সরকারকে নিয়েই। তারা পরিবর্তন চায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে। বিরোধীদের একটাই দাবী যে প্রেসিডেন্ট আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
পর্যবেক্ষরা বলছেন, সংবিধানের ফলাফল হয়তো একটা হবে। কিন্তু এটা কতোটা গ্রহণযাগ্য হবে সেটাই বড়ো প্রশ্ন।
কারণ প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে বেশকিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরো সহিংস হয়েছে।
পশ্চিমা চাপ বাড়ছে
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সোমবার সিরিয়ার ওপর আরো কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে যদিও আগে থেকেই তেল আর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিলো।
নতুন এই নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপে সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের যেসব সম্পদ আছে সেগুলোকে ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সিরিয়া আর এসব অর্থ সম্পদ নিতে পারবে না।

নিরাপত্তা পরিষদে ভিটো দিয়েছিলো চীন ও রাশিয়া
এছাড়াও প্রেসিডেন্ট আসাদের ঘনিষ্ট সাতজন সহযোগীর ভ্রমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সিরিয়ার সাথে স্বর্ণসহ মূল্যবান পদার্থ বাণিজ্যের ওপর। এছাড়াও সিরিয়া থেকে মালবাহী কোন বিমান ইউরোপে আসতে পারবে না।
সংবাদদাতারা বলছেন, এসব সিদ্ধান্তের ফলে সিরিয়ার ওপর যে ধরনের প্রভাব পড়বে তা হয়তো এখনই কোন পার্থক্য তৈরি করবে না। কিন্তু সিরিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ যে আরো তীব্র হচ্ছে সেটা কিন্তু এর মধ্য দিয়ে আরো বেশি পরিষ্কার হয়ে উঠছে।










