যৌতুকের দাবিতে আগুন: গৃহবধুর মৃত্যু

bangla dowry

নিহত গৃহবধুর কাছ থেকে এক লাখ টাকা যৌতুক চাওয়া হয়েছিলো বলে অভিযোগ

বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা নওগাঁয় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধুর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর তিনি মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

প্রায় এক মাস আগে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর শুক্রবার রাতে মারা যান ঐ গৃহবধু।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল জয়পুরহাটে একটি মামলা হয়েছে।

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসেবে, গতবছর যৌতুকের কারণে অন্তত ৩৪১ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌতুকের বিরুদ্ধে আইন থাকলেও এখনো এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতার অভাব রয়ে গেছে।

আমাদের কাছে তারা এক লাখ টাকা দাবি করে। সপ্তমি শুধু একটি কথাই বলেছিল, তার শাশুড়ি তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়

বিশ্বজিৎ অধিকারী, নিহত গৃহবধুর পিতা

নিহত সপ্তমি রানীর শ্বশুড়বাড়ি জয়পুরহাটে গত ১১ই জানুয়ারি এই আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে বলে তার পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে শুক্রবার রাতে মারা যান ২৩ বছর বয়সী সপ্তমী রানী।

তার বাবা বিশ্বজিৎ অধিকারী বলছিলেন, বিয়ের সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে ছেলের পরিবার থেকে তাদের কাছে যৌতুক দাবি করা হয়।

“আমাদের কাছে তারা এক লাখ টাকা দাবি করে। সপ্তমি শুধু একটি কথাই বলেছিল, তার শাশুড়ি তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।” বলেন বিশ্বজিৎ অধিকারী।

এ ঘটনার পর দীর্ঘদিন কোন মামলা না হলেও শুক্রবারই স্থানীয় থানায় এবিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার।

এই ঘটনায় নিহতের শ্বশুড় এবং শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সপ্তমী রানীর স্বামী নিখিল চন্দ্র পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলছিলেন, যৌতুকের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।

বাংলাদেশে যৌতুক প্রতিরোধে বেশ কঠোর কিছু আইন থাকলেও যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে।

যৌতুক প্রতিরোধে অনেক প্রচারণা হয়েছে, কিন্তু অনেকেই এখনো আইন মানতে রাজি না। এখানে একটি সামাজিক সমস্যা আছে। এই মানসিকতা পরিবর্তন হতে অনেক সময় লাগবে

হামিদা বেগম, আইন ও শালিস কেন্দ্র

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১১ সালে বাংলাদেশে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫০২ জন নারী, যার মধ্যে ৩৪১ জন নারীকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।

আইন ও শালিশ কেন্দ্রের সভাপতি হামিদা বেগম বলছিলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে উঠে আসা এ হত্যার সংখ্যা বাস্তবক্ষেত্রে আরো বেশি হতে পারে।

তিনি বলেন, “যৌতুক প্রতিরোধে অনেক প্রচারণা হয়েছে, কিন্তু অনেকেই এখনো আইন মানতে রাজি না। এখানে একটি সামাজিক সমস্যা আছে। এই মানসিকতা পরিবর্তন হতে অনেক সময় লাগবে।”

হামিদা বেগম বলেন, নির্যাতনের শিকার নারীরাও সবসময় আইনের আশ্রয় নেয়ার বিষয়ে সাহসী হতে পারেন না। যেকারণে আইন থাকলেও সেটা যথেষ্ট কার্যকরী হচ্ছে না।

সর্বশেষ সংবাদ

অডিও খবর

ছবিতে সংবাদ

বিশেষ আয়োজন

bbc.co.uk navigation

BBC © 2012 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻