
মহাজোটের শরিকেদের বৈঠক (ফাইল চিত্র)
বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন জোটে আওয়ামী লীগের সাথে শরিক দলগুলোর সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে, এই জোটের বামপন্থী এবং সমমনা ১৩টি দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নিজেরা একটি বৈঠক করেছে।
সেই বৈঠক থেকে নির্বাচনের সময়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থার ব্যাপারে এখনই আলোচনার কথা এসেছে। তবে আওয়ামী লীগ বলেছে, তাদের জোট আরও গতিশীল হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল এবং জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টিকে নিয়ে যে মহাজোট ক্ষমতায় রয়েছে, সেই জোটের শরিক দলগুলো বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ একলা চলো নীতি নিয়ে এগোচ্ছে।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে জোট টিকিয়ে রাখতে আওয়ামী লীগ শরিকদের সাথে বিভিন্ন সময়ে বৈঠকও করেছে। তবে গত তিন বছরে এই ধরনের বৈঠক ছিল হাতেগোনা কয়েকটি।
নিয়মিত বৈঠক না করা এবং কখনও বৈঠক হলেও তার সিদ্ধান্ত আমলে না নেওয়া - এসব অভিযোগও তোলা হয়েছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে তাদের জোটের বামপন্থী এবং সমমনা ১৩ টি দল বৈঠক করেছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন
যদিও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন বলেছেন,আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জোট শক্তিশালী করতে তারা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন।কিন্তু তাঁদের জোট যে সেভাবে সক্রিয় নেই সেটাও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে৻
তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে জোট সেভাবে কার্যকর নেই। শরিকদের মতামতও নেওয়া হয় না।` কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে নানান তৎপরতা চলছে বলে তারা মনে করেন, সে কারণেই জোটকে সক্রিয় করতে তারা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন বলে তিনি দাবি করেছেন।
আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বৈঠকে অংশ নেয়া শরিকদলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু না বললেও এটা পরিষ্কার যে জোটের ভেতরের সম্পর্কে টানাপোড়েন বা অসন্তোষ রয়েছে।
তবে এমন কিছু মানতে রাজি নন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, জোটকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য থেকেই ১৩টি দল আলাদা বৈঠক করেছে বলে তারা মনে করেন।

আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ
ক্ষমতাসীন জোটের ১৩ টি দলের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলোচনায় এসেছে। নির্বাচনী পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়টিকে যে বিরোধী দল বিএনপি বড় ইস্যু হিসেবে সামনে এনেছে, তা-ও আলোচনা করা হয়েছে।
ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন বলেছেন, নির্বাচনের সময় কী পদ্ধতির সরকার হবে সে ব্যাপারে এখনই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
কিন্তু মহাজোটের প্রধান শরিক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ তাদের পুরনো অবস্থানের কথাই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের দু’বছর বাকি থাকতে এখনই এ ধরনের আলোচনার প্রয়োজন নেই বলে আওয়ামী লীগ মনে করে।
অন্য দিকে মাহবুবুল আলম হানিফ এর পাশাপাশি এ কথাও বলেছেন, এখন থেকে তারা শরিকদের সাথে নিয়মিত বৈঠক করার চেষ্টা করবেন। কিন্তু শরিক দলগুলো তাতে এখনও আশ্বস্ত নয় বলেই মনে হচ্ছে।
BBC © 2012 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়
কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻