
ঢাকার স্টক এক্সচেঞ্জ (ফাইল চিত্র)
বাংলাদেশে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে যেসব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাদের ঋণের সুদ আংশিক মওকুফের সুপারিশ করেছে সরকারের গঠিত একটি কমিটি।
এ সংক্রান্ত খবরাখবর গত কয়েকদিন ধরেই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে। তবে সরকার বলছে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কিছু দিনের মধ্যেই।
কিন্তু আর্থিক বিশ্লেষকরা গত বেশ কিছুদিন ধরেই বলে আসছেন বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এখন এক ধরনের আর্থিক চাপের মধ্যে আছে।
পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের প্রেক্ষাপটে গত বছরের অক্টোবর মাসে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। কীভাবে সেটি করা হবে তার জন্য আরেকটি কমিটি করা হয়।
সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী সে কমিটি কয়েকদিন আগে সরকারের কাছে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে সেখানে যেসব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ব্যাংক ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেছেন তাদের সেই ব্যাংক ঋণের সুদ ৫০ শতাংশ মওকুফ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
ঋণ মওকুফ নিয়ে সরকারের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে, এতে খুব একটা সমস্যা হবে বলে মনে হয় না
নুরুল আমিন, এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
বেসরকারি এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন বলেন এ নিয়ে তারা সরকারের সাথে আলোচনা করেছেন এবং এতে খুব একটা সমস্যা হবে না বলেই তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন যে বাণিজ্যিক ব্যাংক ছাড়াও অনেক মার্চেন্ট ব্যাংক, যারা শুধু শেয়ার বাজারে ঋণ দিয়ে থাকে, এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবাই মিলে এতে ভূমিকা রাখবে।
সরকারের কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে ২০০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০১১ সালের ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত যারা ঋণ বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা এই সুদ মওকুফের সুবিধা পাবেন।
বেসরকারি ব্যাংকগুলো যদিও বলছে টাকার অংকে ক্ষতিপূরণ দিতে সমস্য হবে না - কিন্তু বিশ্লেষকরা ভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন। বিশ্লেসক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে ভালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না ।

শেয়ার বাজারের সামনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রতিবাদ
মি: মোয়াজ্জেম বলেন ব্যাংকগুলো এমনিতেই শেয়ার বাজার ধ্বসের ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তিনি বলেন ব্যাংকগুলো প্রতি বছর যে পরিমাণ মুনাফা করে সেক্ষেত্রে সুদ মওকুফের অংক বেশি না হলেও এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের আভাস পাওয়া যায়।
পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করার দাবীতে অনেক বিনিয়োগকারী প্রায়ই রাস্তায় বিক্ষোভ করছেন। এদেরই একজন মিজানুর রশিদ চৌধুরী বলেন ব্যাংক ঋণের সুদ আংশিক মওকুফ করলেও তারা স্থিতিশীল পুঁজিবাজার চান।
এদিকে বিশ্লেষক মি: মোয়াজ্জেম বলেন এভাবে ব্যাংক ঋণের সুদ মাফ না করে যারা বাজারে কারসাজির সাথে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে সে টাকা আদায় করলে ন্যায় বিচার হতো।
BBC © 2012 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়
কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻