
মেরি কলভিন ছিলেন খ্যাতিমান রণাঙ্গন সংবাদদাতা
সিরিয়ার সরকার বিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা জানিয়েছেন, সেখানে হোমস শহরে দুজন পশ্চিমা সাংবাদিক নিহত হয়েছেন৻
নিহতদের একজন হচ্ছেন মার্কিন সাংবাদিক মেরি কলভিন, অপরজন ফরাসী ফটো সাংবাদিক রেমি অচলিক৻
হোমস শহরের একটি মিডিয়া সেন্টারে সরকারি বাহিনীর নিক্ষেপ করা গোলার আঘাতে তারা নিহত হন বলে জানা গেছে৻
সিরিয়ায় গণ অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে বিদেশী সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছিল৻ কিন্তু তা সত্ত্বেও অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গত কিছুদিন ধরে লড়াইয়ের খবর সংগ্রহের জন্য সেখানে কাজ করছেন৻
মার্কিন সাংবাদিক মেরি কলভিন একজন খ্যাতিমান রণাঙ্গন সংবাদদাতা৻ লন্ডনের সানডে টাইমসের হয়ে তিনি সেখানে কাজ করছিলেন৻
সানডে টাইমস পত্রিকার কর্তৃপক্ষ মেরি কলভিনকে একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব বলে বর্ণনা করেছেন৻ মাত্র মঙ্গলবারই তিনি সিরিয়ার হোমস শহরের ওপর যে রিপোর্ট পাঠান তাতে সেখানকার পরিস্থিতিকে খুবই পীড়াদায়ক বলে বর্ণনা করেন৻
হত্যার তদন্ত হবে
ফরাসী পররাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যালা ঝুঁপে ফরাসী সাংবাদিক রেমি অচলিকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ঠিক কিভাবে তিনি মারা গেছেন সেটা তারা তদন্ত করে দেখবেন৻
এই দুই পশ্চিমা সাংবাদিক ছাড়াও বুধবার নিহত হয়েছেন সিরিয়ার আন্দোলনের একজন নেতৃস্থানীয় কর্মী রামি আল সাইদ, যিনি নিয়মিত সিরিয়ার ঘটনাবলীর ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছেলেন৻
সিরিয়ায় গণ অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে বিদেশী সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছিল৻ কিন্তু তা সত্ত্বেও অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গত কিছুদিন ধরে লড়াইয়ের খবর সংগ্রহের জন্য সেখানে কাজ করছেন৻
সিরিয়ার বিদ্রোহীদের একজন মুখপাত্র বাসমা কোডামি বলছেন, সরকারী বাহিনী বিদেশী সাংবাদিকদের টার্গেট করেই হত্যা করছে বলে তাদের বিশ্বাস৻
বাসমা কোডামি বলেন, সিরিয়ার মাটিতে এখন যা ঘটছে তার একমাত্র সাক্ষী হচ্ছে সাংবাদিকরা৻ সিরিয়ার জনগণ চায় সেখানে বাস্তবে যা ঘটছে সাংবাদিকরা তা গণমাধ্যমে তুলে ধরুক৻
তিনি বলেন, এরকম সম্ভাবনা খুব বেশি যে বাশার আল আসাদ সরকারের লোকজন হোমস শহরে যেন সাংবাদিকরা কাজ করতে না পারে, সে চেষ্টা করছে৻ সেখানে সাংবাদিকদের জন্য বিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে৻
সিরিয়ায় সাংবাদিকদের নিহত হওয়ার এই ঘটনা ঘটলো এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহনের কথা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে৻
তবে সিরিয়ার বিরুদ্ধে এ্ই বাড়তি ব্যবস্থার মানে সরাসরি বা পরোক্ষ সামরিক হস্তক্ষেপ কিনা—তা মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেন নি৻
হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জে কার্নি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সিরিয়ায় যা দরকার তা হলো একটা রাজনৈতিক সমাধান৻ আমরা এমন কোন পদক্ষেপ নিতে চাই না, যা দেশটিকে আরও বিপদজনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে৻ কিন্তু আমরা বাড়তি পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিচ্ছি না৻ সিরিয়ায় যে ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী হয়ে পড়েছে, আমাদের আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে মিলে সেরকম পদক্ষেপ আমরা নিতেই পারি৻
সিরিয়ার বিদ্রোহীরা যেন ভালোভাবে সরকারী বাহিনীর মোকাবেলা করতে পারে, সেজন্য তাদের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করার দাবি তুলছেন অনেকে৻
কিন্তু ওবামা প্রশাসন এতদিন পর্যন্ত এ ব্যাপারে খুব আগ্রহী ছিল না৻ তবে এখন সেই বিকল্প তারা একেবারে বন্ধ করে দিচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে৻










