প্রাথমিক স্কুলে নির্বাচিত পরিষদ

বাংলাদেশে সাড়ে তের হাজারেরও বেশী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শনিবার ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে।

প্রতিটি বিদ্যালয়ে সাত-সদস্যের এই ছাত্র পরিষদ বা স্টুডেন্টস্‌ কাউন্সিল বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকদের সহায়তা করবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুকাল থেকে গণতন্ত্রচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা এই নির্বাচনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে এক্ষেত্রে সুফল পেতে হলে কয়েকটি দিকে নজর রাখতে হবে।

নির্বাচনে প্রার্থী আর ভোটার, সবাই ছিল প্রাথমিক স্কুলের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা। নির্বাচন পরিচালনাও করেছে তারা। তবে নজরদারী ছিল শিক্ষকদের।

আর এর মাধ্যমে বিদ্যালয় প্রতি সর্বোচ্চ সাতজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়েছে, যারা ছাত্র পরিষদের সদস্য।

গণতন্ত্রের চর্চা

কিন্তু শিক্ষা-সিঁড়ির একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে কেন এই নির্বাচন?

মূল উদ্দেশ্য গণতন্ত্রচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা

নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব

ছাত্র পরিষদের পরিকল্পনাকারী এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব নজরুল ইসলাম খান জানান যে মূল উদ্দেশ্য গণতন্ত্রচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা, কারণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে না ওঠার ফলে বাংলাদেশের মানুষ দলবদ্ধভাবে কোন কাজ করতে পারেনা।

তিনি বলেন, আমরা একজন আরেকজনের কথা শুনতে চাইনা। অন্যকে সম্মান করি না। আমরা যদি প্রাইমারি পর্যায় থেকে এই চর্চা করাতে পানি, তাহলে একেবারে শুরু থেকে পরমত সহিষ্ণুতা বাড়বে, একে অন্যের কথা শুনবে এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।

মিঃ খান বলেন, পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে স্টুডেন্টস্‌ কাউন্সিল ব্যবস্থা রয়েছে এবং তিনি নিজে সুইডেনে গিয়ে সরেজমিনে তা দেখে এসেছেন।

ঐসব দেশের মতো বাংলাদেশেও স্কুলের পরিবেশ, মধ্যাহ্নের খাবার, শিক্ষা - ইত্যাদি ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সহায়তা করবে ছাত্র পরিষদ।

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এই উদ্যোগকে অনেকটা ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন।

ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আশংকা

এটি যেন কোনভাবেই রাজনীতির খপ্পরে না পড়ে

রাশেদা কে চৌধুরি, গণসাক্ষরতা অভিযান

তিনি বলেন, একটি দিক হতে পারে যে এর মাধ্যমে শৈশব থেকেই নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরী হবে। এটি একটি ভালো বিষয় হতে পারে, যদি আমরা ভালোভাবে এর বাস্তবায়ন করতে পারি।

কিন্তু তিনি সবাইকে খেয়াল রাখতে বলেন যে এর ফলে যেন লেখাপড়ায় কোন ব্যাঘাত না ঘটে। আর গ্রামেগঞ্জে যেন অভিভাবকদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা তৈরী না হয় যে বাচ্চাদের ভালো করতেই হবে, সামনের সারিতে থাকতে হবে।

রাশেদা চৌধুরীর আরো একটি উদ্বেগ রয়েছে ছাত্র পরিষদকে ঘিরে। তিনি চান, এটি যেন কোনভাবেই রাজনীতির খপ্পরে না পড়ে।

তিনি বলেন, একসময়ে বাংলাদেশে অনেক ইতিবাচক ধারা শুরু করেছিল ছাত্র রাজনীতি। কিন্তু এখন ছাত্র রাজনীতিতে এক ধরনের নেতিবাচক সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব যেন না পড়ে, সে জন্যে শিক্ষায়তন পর্যায়ে নজরদারী করা প্রয়োজন।

তবে নজরুল ইসলাম খান আশাবাদী যে ছাত্র পরিষদের নির্বাচন কখনোই রাজনৈতিক চরিত্র পাবে না। তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে গত দুবছর সীমিত পর্যায়ে যেসব স্কুলে নির্বাচন করা হয়েছিল, তাতে রাজনীতি কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে গোলমাল হয়েছিল। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অভাবের কারণেই তা হয়েছিল।

“আমরা যদি প্রথম থেকে সহনশীলতার সংস্কৃতি শুরু করতে পারি, অন্যের কথা শোনার অভ্যাস করি অথবা এমন একটি ভোটের ব্যবস্থা করি যেখানে ভোট কাটাকাটি হবে না, তাহলে কিন্তু এমনটা হবে না।“

মিঃ খান জানান, ভবিষ্যেতে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়েও নির্বাচিত ছাত্র পরিষদ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

অডিও খবর

ছবিতে সংবাদ

বিশেষ আয়োজন

bbc.co.uk navigation

BBC © 2012 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻