ঢাকা-টঙ্গী: আরও দুটো রেললাইন

bangladesh railway

বাংলাদেশ রেলওয়ে

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও টঙ্গীর মধ্যে আরও দুটি রেললাইন নির্মাণের কথা ঘোষনা করেছেন দেশটির রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

তিনি জানান, সপ্তাহখানেকের মধ্যে নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে, এবং রেলপথকে নতুন করে যে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে, তারই অংশ হিসেবে রেললাইন দুটো নির্মিত হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেলখাতে সংস্কার না করা হলে আগামীতে রেলের উন্নয়নে সহজে অর্থ পাওয়া যাবে না।

রেলপথে বাকি দেশের সঙ্গে ঢাকা সংযুক্ত টঙ্গী-ঢাকা রেললাইনের মাধ্যমে। কিন্তু এই পথে রয়েছে মাত্র দুটো রেললাইন।

টেন্ডার প্রক্রিয়া

রেলমন্ত্রী সেনগুপ্তের লক্ষ্য এই পথে আরো দুটো ট্র্যাক নির্মান করা। তিনি জানান, লাইন নির্মাণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সপ্তাহখানেকের মধ্যেই শুরু করা যাবে, আর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হবে ছয়মাসের মধ্যে৻

তিনি বলেন, রেললাইনের জন্যে যে জমি প্রয়োজন হবে তা অধিগ্রহণকৃত অবস্থায় রয়েছে, যদিও এতে সরকারের দখল ছিল না।

এটাই এখন আমাদের রেলপথের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প৻

রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

কিন্তু অবৈধ দখলদারিত্বের হাত থেকে জমি উদ্ধার করা হয়েছে, তা জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকাকে যানজটের কবল থেকে মুক্ত করতে নতুন রেললাইন বসাতে হবে৻

তিনি বলেন,‘‘ আমরা এখন চেষ্টা করছি সবচেয়ে কম সময়ে টেন্ডার করতে পারি কি না। এটাই এখন আমাদের রেলপথের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প৻‘‘

প্রচুর টাকার দরকার

রেলকে একটি আলাদা মন্ত্রণালয় হিসেবে গঠন এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে এর মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার পর সরকারীভাবে এই পরিবহনের ওপর গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হচ্ছে।

মিঃ সেনগুপ্ত স্বীকার করছেন, এর জন্যে প্রচুর টাকার দরকার, তবে তা পাওয়া যাবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন৻

তিনি বলেন, পুরো রেল ব্যবস্থাকেই মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজে আনতে হবে। আর এক্ষেত্রে অর্থায়নের ব্যাপারে বিভিন্ন পক্ষ থেকেও তারা সাড়া পাচ্ছেন৻

ভারতের ১০০ কোটি ডলারের ক্রেডিট লাইন ছাড়াও এডিবি ও জাপান থেকে অর্থ পাওয়া যাবে বলে জানান মন্ত্রী।

এছাড়া, তিনি বলেন, যে সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্ব বা পিপিপি’র মাধ্যমেও অর্থায়ন হতে পারে৻

তবে মিঃ সেনগুপ্ত বলেন, বেশীরভাগ অর্থই পাওয়া যাবে ২০১৩ সালের পর৻

kamlapur

ঢাকায় কমলাপুর রেল ষ্টেশন

তবে যোগাযোগখাতের একজন বিশেষজ্ঞ এবং জাতিসংঘের এসকাপের সাবেক কর্মকর্তা ডঃ এম রহমতউল্লাহ মনে করছেন রেলখাতের সংস্কার এবং এ খাতের অর্থায়নের বিষয়টি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত৻

বছর কয়েক আগে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের একটি বৈঠকের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দুটি সংস্থাই সংস্কার কর্মসূচীর বাস্তবায়ন সাপেক্ষে রেলের জন্যে টাকা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।

দাতাসংস্থাগুলো এক্ষেত্রে রেলকে স্বায়ত্বশাসন দেয়া ও কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করতে দেয়ার সুপারিশ করে, যাতে রেল ব্যবস্থা বাণিজ্যিকভাবে টিকে থাকতে পারে৻

দাতারা রেলওয়েতে নীতিগত পরিবর্তন চাইছে, এ কথা উল্লেখ করে মিঃ রহমতউল্লাহ বলেন,রেলকে একটি সরকারী বিভাগ বানিয়ে রেখে বেসরকারীখাতের সড়ক ও নৌপরিবহনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বলা হচ্ছে। কিন্তু তা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “সরকারী বিভাগে প্রণোদনা দেয়ার কোন উপায় নেই। ভালো কাজ করলে শুধু মুখে সাবাস দিতে পারেন।“

মিঃ রহমতউল্লাহ বলেন, রেল ও নৌপথকে আরো কার্যকরী করতে ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট পলিসি শীর্ষক একটি নীতিমালা বছর তিনেক আগে তৈরী করা হলেও তা এখন মন্ত্রিসভা বিভাগে পড়ে রয়েছে।

রেলের উন্নয়নের লক্ষ্যে এটি দ্রুত গ্রহন করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন৻

সর্বশেষ সংবাদ

অডিও খবর

ছবিতে সংবাদ

বিশেষ আয়োজন

bbc.co.uk navigation

BBC © 2012 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻