নৌ ট্রানজিট ফি আদায় স্থগিত

এধরণের ভারতীয় নৌযান বাংলাদেশের নৌ ট্রানজিট ব্যবহার করে থাকে

নৌপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট ফি প্রশ্নে ভারতের আপত্তির মুখে আপাতত তা আদায় স্থগিত রেখেছে বাংলাদেশ৻

বাংলাদেশের রাজস্ব কর্তৃপক্ষ জানায় যে বাংলাদেশী নৌপথ ব্যবহার করে এমন ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ থেকে ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট ফি আদায় আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে৻

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর-এর চেয়ারম্যান ডঃ নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেছেন যে বিষয়টি নিয়ে সরকারী পর্যায়ে আরো আলাপ-আলোচনা হবে, এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর ভারতীয় জাহাজ থেকে ফি আদায় স্থগিত রাখছে।

ফি না দেওয়ার কারণে দুটো ভারতীয় জাহাজকে ট্রানজিট সুবিধা দিতে এনবিআর অস্বীকৃতি জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে দুদেশের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়৻

১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিত একটি প্রটোকলের আওতায় ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্টের জন্যে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি নৌপথ ব্যবহার করে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর চেয়ারম্যান ডঃ নাসিরউদ্দিন আহমেদ

তবে এবারই প্রথম দুটো ভারতীয় জাহাজের কাছ থেকে ট্রানজিট-ট্রানশিপমেন্ট ফি আদায়ের উদ্যোগ নেয় এনবিআর।

কিন্তু জাহাজ দুটো ফি দিতে রাজী না হওয়ায় খুলনার শেখবাড়িয়ার কাস্টমস এন্ট্রি পয়েন্টে সেগুলোকে আটকে রাখা হয়।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এরপর কুটনৈতিক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনাও শুরু হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন যে মুচলেকা রেখে দেওয়ার মাধ্যমে ভারতীয় জাহাজ দুটো ছেড়ে দেওয়ার জন্যে বলা হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যেহেতু সরকার বলেছে যে এ নিয়ে কথা উঠেছে এবং এ ব্যাপারে আলোচনা হবে, তাই সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ফি আদায় করছি না। আমরা এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দিয়েছি।

আমাদের কাস্টমস আইনেও ট্রানশিপমেন্ট ফির কথা বলা আছে

ডঃ নাসিরউদ্দিন আহমেদ , চেয়ারম্যান, এনবিআর

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন যে সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এখন সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ট্রানজিট-ট্রানশিপমেন্ট ফি নেওয়া হবে কী না।

তিনি বলেন, চলতি বছরের বাজেটে ট্রানজিট-ট্রানশিপমেন্ট ফি আরোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং এই হার হলো প্রতিটি ২০ ফুট কন্টেনারের জন্যে ১০,০০০ টাকা ও খোলা পণ্যের জন্যে টন প্রতি ১,০০০ টাকা।

ডঃ আহমেদ বলেন যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের পর প্রকাশিত যৌথ ইশতেহারে ট্রানজিট সুবিধা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এ সংক্রান্ত বিধি তৈরী করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু নৌ-ট্রানজিট নয়, যৌথ ইশতেহারে সড়ক-রেলপথের কথা বলা হয়েছে, নেপাল-ভুটানের কথাও বলা হয়েছে। এই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখেই আমরা বিধি প্রণয়ন করেছি।

“আমাদের কাস্টমস আইনেও ট্রানশিপমেন্ট ফির কথা বলা আছে। আগে ফি নেয়া হয়নি বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু আমরা এখন ফি নিতে চাই, কারণ কানেক্টিভিটি তো বাড়ছে।“

আমরা যে সিঙ্গাপুর পোর্ট ব্যবহার করি, তার জন্যে আমাদের ফি দিতে হয়।

এ কে আজাদ, এফবিসিসিআই

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাও মনে করেন যে ভারতের কাছ থেকে ট্রানজিট-ট্রানশিপমেন্ট ফি আদায় করা উচিত।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সভাপতি এ কে আজাদ এ ব্যাপারে যুক্তি দিয়ে বলেন, যে কোন দেশের সুবিধা ব্যবহার করলেই এখন ফি দিতে হয়।

“আমরা যে সিঙ্গাপুর পোর্ট ব্যবহার করি, তার জন্যে আমাদের ফি দিতে হয়।“

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন যে ট্রানজিট-ট্রানশিপমেন্টের অর্থনীতি নিয়ে আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকায় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে একটি আলোচনা হবে।

কীভাবে বাংলাদেশ এই ধরনের সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে, সে ব্যাপারে একটি গবেষণা প্রতিবেদন সেখানে উপস্থাপন করা হবে বলে ডঃ আহমেদ জানান।

সর্বশেষ সংবাদ

অডিও খবর

ছবিতে সংবাদ

বিশেষ আয়োজন

bbc.co.uk navigation

BBC © 2012 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻