বিজ্ঞানের আসর

১৩ মে ২০১৪ শেষবার আপডেট করা হয়েছে ১৭:০১ বাংলাদেশ সময় ১১:০১ GMT

chernobyl

বন্য প্রাণীরাও যে উচ্চমাত্রার তেজষ্ক্রিয়তার সাথে নিজেদেরকে মানিয়ে নিয়ে টিকে থাকতে পারে - এই প্রথমবারের মতো তার প্রমাণ পাওয়া গেছে চেরনোবিলে।

১৯৮০-র দশকে চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনার কথা হয়তো এখনো অনেকেরই মনে আছে। গত ২৬শে এপ্রিল ছিল সেই দুর্ঘটনার ২৮তম বার্ষিকী।

১৯৮৬ সালের এই দিনে ইউক্রেনের চেরনোবিলের পারমাণবিক প্ল্যান্টের একটি রিএ্যাকটরে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। তাতে তেজষ্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে।

birds

এর পরে কেন্দ্রটি বন্ধ করে ৩০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি বিশাল এলাকায় মানুষের যাতায়াত বা আবাসন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়। সেখানকার বাসিন্দা এক লক্ষ লোকের সবাইকে অন্য এলাকায় সরিয়ে নেয়া হয়।

পুরো এলাকাটি হয়ে পড়ে বনভূমির মতো সম্পূর্ণ মানববর্জিত এলাকা। উচ্চমাত্রার তেজষ্ক্রিয়পদার্থের উপস্থিতির মধ্যেই সেখানে আবাস গড়ে তোলে পাখী ও অন্যন্য বন্য প্রাণীরা, গজিয়ে ওঠে গাছপালা ।

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টিম মুসো অনেকদিন ধরেই্ এই এলাকাটিতে যে বন্যপ্রাণীরা বাস করে তাদের ওপর তেজষ্ক্রিয়তার প্রতিক্রিয়া নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন।

chernobyl

তিনি বলছিলেন, তিনি বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করেছেন যে সেখানকার প্রাণীরা বিশেষত পাখীরা দেহে অতিরিক্ত এন্টি-অক্সিড্যান্ট সৃষ্টি করে নিজেদেরকে উচ্চমাত্রার তেজষ্ক্রিয়তার সাথে মানিয়ে নিয়েছে।

টিম মুসো বলছিলেন, যেসব পাখীরা চেরনোবিলে ভালোভাবেই টিকে আছে তাদের দেহে এমন কিছু এন্টি-অক্সিড্যান্ট তৈরি হয়েছে যা তেজষ্ক্রিয়তাজনিত ক্ষতি মোকাবিলা করতে পেরেছে।

তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের সংস্পর্শে আসার ফলে তাদের দেহকোষে যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে - তা মোকবিলা করেছে এই এন্টি অক্সিড্যান্ট।

এর পর বৈজ্ঞানিকরা যা দেখতে চাইছেন তা হলো - অন্য প্রাণীরা অণুজীবী তারাও এটা করতে পারে কিনা।

chernobyl

ভারতে নতুন প্রজাতির নাচুনে ব্যাঙ আবিষ্কার

দক্ষিণ ভারতের পাহাড়ি বনে এক সঙ্গে ১৪টি নতুন প্রজাতির ব্যাঙের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা।

এই ব্যাঙকে বলে 'ডান্সিং ফ্রগ' বা নাচুনে ব্যাঙ - কারণ প্রজনন মওসুমে এই প্রজাতির পুরুষ ব্যাঙগুলো স্ত্রী-ব্যাঙকে আকৃষ্ট করতে তাদের পা ছুঁড়ে এক ধরণের নৃত্য করে থাকে। পৃথিবীতে অনেক ধরণের নাচুনে ব্যঙের প্রজাতি আছে এগুলোকে দেখা যায় মূলত মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায়।

dancing_frog_2
নাচুনে ব্যাঙ

ভারতে এতদিন পর্যন্ত ১০ প্রজাতির নাচুনে ব্যাঙ আছে বলে জানা ছিল - তবে এখন নতুন প্রজাতিদের মিলিয়ে তার সংখ্যা দাঁড়ালো ২৪।

এই নাচুনে ব্যাঙ দেখতে খুবই ছোট, দেখতে ইঞ্চি দেড়েকের বেশি নয়। ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের দক্ষিণ থেকে কেরালা পর্যন্ত যে প্রায় ৯শ মাইল দীর্ঘ এলাকায় পশ্চিম উপকূল জুড়ে যে পার্বত্য জঙ্গল - যাকে বলা হয় ওয়েস্টার্ন ঘাট - সেখানেই পাওয়া গেছে এই ব্যাঙের সন্ধান।

বিজ্ঞানীদের যে দলটি এই গবেষণা চালিয়েছে তার প্রধান হলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সত্যভামা দাস বিজু, তিনি গত চার দশক ধরে ব্যঙের ওপর গবেষণা করছেন।

dancing_frog_2
নাচুনে ব্যাঙ

তিনি আরো কয়েকটি নতুন প্রজাতির ব্যাঙ আবিষ্কার করেছেন তবে এই নাচুনে ব্যাঙ হচ্ছে তার সবশেষ আবিষ্কার, এই নতুন প্রজাতির ব্যাঙগুলোর আবাসন সংরক্ষিত বনের বাইরে। তাই শুধু এ প্রজাতিটিই নয়, এখানকার অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থলও নানা হুমকির সম্মুখীন।

স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণের উপায় আবিষ্কার?

উল্টোপাল্টা স্বপ্ন দেখে যারা ঘুমোতে পারেন না, তাদের জন্য সুনিদ্রার আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে জার্মানির বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায়।

অনেকেই আছেন, যারা নানা রকম দু:স্বপ্ন দেখার কারণে ভালোভাবে ঘুমাতে পারেন না। প্রশ্ন হলো : স্বপ্নে মানুষ কি দেখবে তা কি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?

dream
স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ কি সম্ভব?

জার্মানিতে বিজ্ঞানীরা এক পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে তা কিছুটা হলেও সম্ভব।

গোটিংগেন গ্রাজুয়েট স্কুলের ক্লিনিক্যাল নিউরোফিজিওলজির অধ্যাপক মাইকেল নিটশে বলছিলেন, মানুষ যখন দুর্বোধ্য কোনকিছুর পরিবর্তে স্পষ্ট সহজবোধ্য স্বপ্ন দেখে - তখন কখনো কখনো তার পক্ষে সে স্বপ্নে কি দেখবে তা নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব হয়।

এই বিজ্ঞানীরা যে পরীক্ষাটি করেছেন তা হলো, মস্তিষ্কের ভেতরে দুর্বল বৈদ্যুতিক সংকেত প্রবাহিত করা। তারা দেখেছেন যে এর ফলে মানুষের উল্টোপাল্টা স্বপ্ন দেখা কমিয়ে সহজবোধ্য স্বপ্ন দেখার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া যায়। বলছিলেন অধ্যাপক নিটশে।

গবেষকরা আশা করছেন, তাদের এই আবিষ্কারকে মানসিক রোগ বা নিদ্রাহীনতার মতো সমস্যার চিকিৎসায় কাজে লাগানো যাবে।