মাঠে ময়দানে

২০ এপ্রিল ২০১৪ শেষবার আপডেট করা হয়েছে ১৭:১৭ বাংলাদেশ সময় ১১:১৭ GMT

india football
ভারতে ক্রিকেটের তোড়ে জৌলুস হারিয়েছে ফুটবল (ফাইল ফটো)

একবারে আইপিএলের ঢঙে একটি ফুটবল লীগ চালুর যে ঘোষণা গত সপ্তাহে মুম্বাইতে দেওয়া হয়েছে, তারপর থেকে ফুটবল নিয়ে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে ভারতে।

ঠিক আইপিএলের কায়দায় আটটি শহরের নামে আটটি দল কিনেছেন ফ্রাঞ্চাইজিরা। ক্রেতাদের তালিকায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রয়েছেন সালমান খান বা রনবির কাপুরের মত বলিউড তারকা, সাবেক ক্রিকেটার শচিন টেনডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি। এমনকি কলকাতা দলের ফ্রাঞ্চাইজি কনসোর্টিয়ামে রয়েছে স্পেনের শীর্ষ সারির ফুটবল ক্লাব আ্যটলেটিকো মাদ্রিদ। আইএসএলর প্রথম মৌসুম হবে অক্টোবর-নভেম্বরে। খেলতে আসছেন হারনান ক্রেসপো, ইউনবার্গের মত একসময়কার বিশ্ব তারকারা।

প্রস্তাবিত ইন্ডিয়ান সুপার লীগ বা আইএসএল ভারতে ফুটবলের বিপ্লব আনবে বলে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান আইএমজি রিলায়েন্স যে প্রচারণা চালাচ্ছে, তাতে সায় দিচ্ছেন ভারতের ফুটবল জগতের অনেক রথি মহারথি।

প্রস্তাবিত এই লীগকে অনুমোদন দিয়েছে ভারতের ফুটবল ফেডারেশন এআইএফএফ ।

কেন তারা বেসরকারি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এই উদ্যোগকে অনুমোদন দিলেন?

ফেডারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত দত্ত বিবিসিকে বলেন, ভারতীয় ফুটবলের, তার ভাষায়, ঘুমন্ত দৈত্যকে জাগিয়ে তুলতে একটা "বিস্ফোরণের দরকার ছিল, ধামাকার দরকার ছিল।"

মি দত্ত বলেন, আইএসএল ফুটবলে দর্শক ফিরিয়ে আনবে এবং ব্যবসায়ী পুঁজিরে বদৌলতে ভারতীয় ফুটবলের অবকাঠামো নির্মাণ হবে।

তবে আইএসএল নিয়ে ফুটবল জগতের অনেকেই এখনও সন্দিহান।

যেমন ভারতের প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল আই লীগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল চার্চিল ব্রাদার্সের প্রধান নির্বাহী ভালাঙ্কা আলেমো মনে করেন, ভারতের ফুটবলের মৃত্যু ডেকে আসবে এই লীগ।

তার কথা এত কিছু মানুষ ব্যবসা করবে, রিটায়ার্ড কিছু বিদেশী ফুটবলার পয়সা কামিয়ে যাবে, কিন্তু ফুটবলের কোন লাভ হবে না।

এ ধরণের উদ্বেগ কতটা যৌক্তিক?

ভারতীয় ফুটবলের সম্ভবত সবচেয়ে পরিচিত নাম, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক চুনি গোস্বামী বিবিসিকে বলেন, ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান যে দুরবস্থা তাতে যে কোন উদ্যোগই মঙ্গল।

ইউরোপীয় ফুটবলে আকাশচুম্বী মজুরি

ইউরোপের কিছু ক্লাবের ফুটবলাররা কত পয়সা আয় করেন, বহু মানুষ তা কল্পনাই করতে পারবেন না।

যে কোন খেলাধুলোয় সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পয়সা পান আবু-ধাবির মালিকানাধীন ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির ফুটবলাররা।

এ সপ্তাহে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হচ্ছে সিটির প্রতিটি ফুটবলার গড়ে বছরে প্রায় ৫৪ লাখ পাউন্ড অর্থাৎ ৯৩ লক্ষ ডলার মজুরি পান। ইয়া ইয়া তোরে বা সের্জিও আগুয়েরোর মত তারকারা এর দ্বিগুণ আয় করেন।

রিয়েল মাদ্রিদ, বার্সিলোনা, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সহ ইউরোপের আরও সাত আটটি ফুটবল ক্লাবের চিত্রও কম-বেশি একই রকম।

ফুটবলারদের মজুরি এভাবে কেন বাড়ছে? এর পরিণতি কি হচ্ছে? বিবিসির সাবেক স্পোর্টস এডিটর মিহির বোস বলেন, ফুটবল আর বাণিজ্য এখন সমার্থক হয়ে পড়ায় তারকা ফুটবলাররা এখন এখন মিউজিক বা মুভি তারকাদের মত খ্যাতি পাচ্ছেন।

শাকিল আনোয়ার