বিজ্ঞানের আসর

৪ মার্চ ২০১৪ শেষবার আপডেট করা হয়েছে ১৭:০২ বাংলাদেশ সময় ১১:০২ GMT

autism
অটিজমে আক্রান্ত হয় বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ

মার্কিন বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় আভাস পাচ্ছেন মেয়ে শিশুদের চাইতে ছেলে শিশুদের অটিজম বা বৃদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের সমস্যাজনিত রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি।

এই বিজ্ঞানীরা ১৬ হাজার শিশুর জেনেটিক গঠনের ওপর এক জরিপ চালিয়েছেন। এই গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে অটিজমে আক্রান্ত ৫ টি শিশুর মধ্যে চারটিই ছেলে, মাত্র একটি মেয়ে। ছেলে শিশুদের চাইতে মেয়ে শিশুদের অটিজম বা বৃদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের সমস্যাজনিত রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি কম।

এর কারণ কি তা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো ঠিক স্পষ্ট নয়।

কিন্তু এখন অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের জেনেটিক গঠনের ওপর একটি ব্যাপকভিত্তিক জরিপ চালিয়ে দেখা যাচ্ছে - মেয়েশিশুদের মস্তিষ্কের কোষের জিনগত গঠন এমনই যে তা অটিজমের ঝুঁকি মোকাবিলার অধিকতর সক্ষম।

autism
অটিজম চিহ্নিত করার পরীক্ষা

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের প্রফেসর এভান আইকলার বলছেন, "আমরা ১৬ হাজার শিশুর ওপর জরিপ চালিয়েছি। তাদের ছেলে শিশু এবং মেয়ে শিশু এই দুই ভাগে ভাগ করেছি। অনুসন্ধান করেছি যে তাদের মস্তিষ্কের কোথায় ক্ষতিকর মিউটেশন হচ্ছে - যাকে বলা যায় দেহকোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।"

"দেখতে পেলাম যে মেয়েদের মধ্যে ছেলেদের চাইতে ত্রিশ ভাগ বেশি এই ধরণের মিউটেশন হচ্ছে। আমরা দেখেছি যে মেয়েদের জিনোমের ক্ষেত্রে এই ক্ষতিকর মিউটেশন বেশি হচ্ছে। যে সব দম্পতির অটিজম আক্রান্ত শিশু রয়েছে - তাদের ক্ষেত্রেও বাবার তুলনায় মায়ের এই ধরণের মিউটেশন বেশি হচ্ছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অটিজমে আক্রান্ত হতে হলে এই মিউটেশনের সংখ্যা অনেক বেশি হতে হয়। কিন্তু ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে এই মিউটেশনের সংখ্যা অনেক কম। তার মানে হচ্ছে, ছেলে শিশুদের অটিজম বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের সমস্যায় আক্রান্ত হবার ঝুঁকি মেয়েদের চাইতে বেশি। মেয়েরা এই ঝুঁকির ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত বেশি সুরক্ষিত।"

প্রফেসর আইকলার বলছেন, "এখন কথা হলো, কেন এটা হচ্ছে? আমরা অনুমান করছি যে হয়তো এক্স-ক্রোমোজোমের এ ক্ষেত্রে একটা ভুমিকা আছে। এই এক্স-ক্রোমোজোমের মধ্যে পাঁচ বা ছয় শতাংশ জিন হচ্ছে মস্তিষ্কের কাজ ও বিকাশ সংক্রান্ত। এখন ছেলেদের কোষে একটি এক্স এবং একটি ওয়াই-ক্রোমোজোম আছে, মেয়েদের ক্ষেত্রে দুটি এক্স-ক্রোমোজোম। তাই হয়তো মেয়েরা ক্ষতিকর মিউটেশনের চাপ অনেকটা বেশি সহ্য করতে পারে। এর কারণ হলো, এক্স-ক্রোমোজোমের ওপর নির্ভরশীল জিনগুলো এমন কিছু প্রোটিন ব্যবহার করে - তা অন্য আরও কিছু প্রোটিনের সাথে বিক্রিয়া করে, এবং হয়তো তার সুরক্ষার ক্ষমতা বেশি। আর অটিজমে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বাবা-মার জিন থেকে যেমন আসতে পারে, তেমনি শিশুর দেহের নতুন কোন মিউটেশন থেকেও আসতে পারে।"

autism

এ নিয়ে কথা বলেছিলাম বাংলাদেশে অটিজমের একজন বিশেষজ্ঞ - বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক নিউরোলজির অধ্যাপক মিজানুর রহমানের সাথে।

তার নিজের অভিজ্ঞতায় তিনি কি দেখেছেন, এ প্রশ্ন করা হলে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, তারা এটা অনেক আগে থেকেই খেয়াল করেছেন যে অটিজমে আক্রান্ত হবার হার ছেলে শিশুদের মধ্যে অনেক বেশি। তবে তার জেনেটিক কারণ সম্পর্কে তেমন কোন গবেষণা না হওয়ায় এ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত ছিলেন না।

তিনি বলছিলেন, তাদের নিজস্ব গবেষণায় অটিজমের পেছনে অনেক কারণ কাজ করে বলে তারা আভাস পেয়েছেন। অটিজম আক্রান্ত শিশুদের রেকর্ড পরীক্ষা করে তারা দেখেছেন জ্ন্মকালীন সমস্যা, বেশি বয়েসে বিয়ে বা সন্তান ধারণ, বুকের দুধ না খাওয়ানো ইত্যাদি নানা কারণ অটিজমের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পারমাণবিক ফিউশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে জ্বালানি চাহিদা মেটানোর গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা পারমাণবিক ফিউশনকে শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর গবেষণায় এক বড় অগ্রগতি ঘটিয়েছেন।

nuclear fusion
ফিউশন মানে দুটি পরমাণুর সংযুক্তি

ফিউশনটা কি? আমরা জানি পারমাণবিক বোমা বা পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের মূল কথা হলো একটা পরমাণুকে ভেঙে তার ভেতরকার শক্তিকে বের করে আনা। আর ফিউশন হচ্ছে ঠিক তার উল্টোটা - দুটি পরমাণুকে সংযুক্ত করে তার ভেতরের শক্তিকে মুক্ত করা।

নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা এই পরীক্ষার মাধ্যমে তারা যে জ্বালানি খরচ করেছেন তার চেয়ে বেশি উৎপাদন করেছেন।

এই বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পারমাণবিক ফিউশনের মধ্যে দিয়ে দূষণমুক্ত এবং সস্তা জ্বালানি উতপন্ন করা যাবে।

ড: মার্ক হারম্য|ন হলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর নিউ মেক্সিকোর স্যান্ডিযা ল্যাবরেটনির বিজ্ঞানী তিনি বলছিলেন, "সূর্য বা অন্যন্য তারা থেকে যে শক্তি নির্গত হচ্ছে - তার উৎস হলো এই নিউক্লিয়ার ফিউশন। এর মূল কথাটা হলো, হাইড্রোজেন বা হিলিয়ামের মতো হালকা মৌলিক পদার্থের দুটি পরমাণু সংযুক্ত হয়, তখন যে নতুন একটি পরমাণু তৈরি হয় তার ভর আগের দুটি পরমাণুর চাইতে কম। এর মানে হচ্ছে সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া বস্তুটুকু শক্তিতে পরিণত হয়ে গেছে । এভাবেই ফিউশনের মাধ্যমে এনার্জি তৈরি হয়। কিন্তু বর্তমানে আমরা পারমাণবিক শক্তি পাচ্ছি খুব ভারী মৌলিক পদার্থের পরমাণুকে ভেঙে ফেলে - যাকে বলা হয় ফিশন। কিন্তু ফিউশন থেকে আরো বেশি শক্তি পাওয়া যায়। এখানে জ্বালানিও পাওয়া কঠিন নয়, কারণ হালকা মৌলিক পদার্থ সহজলভ্য - যেমন হাইড্রোজেন তো সাগরের পানি থেকেই পাওয়া সমভব। তা ছাড়া ফিশন প্রক্রিয়ায় পারমাণবিক বর্জ্য সৃষ্টি হয়। এই বর্জ্য ধ্বংস হতেও অনেক সময় লাগে। ফিউশন থেকে যে বর্জ্য হবে তার ক্ষেত্রে এমনটা হবে না।"

nuclear fusion lab
নিউক্লিয়ার ফিউশন ল্যাবরেটরি

কিন্তু এটা একটা কঠিন প্রক্রিয়া যা এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইগনিশন ফ্যাসিলিটি গত সপ্তাহে এমন একটি ঘোসণা দিয়েছে যাতে এই স্বপ্ন বাস্তবের আরো কাছাকাছি এসেছে।

কি আছে সেই ঘোষণায়? ব্যাখ্যা করছেন প্রফেসর হারম্যান।

"এই ন্যাশনাল ইগনিশন ফ্যাসিলিটি হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম লেজার। এতে আছে ১৯২ টি লেজার বিম। এই লেজারগুলোকে একটি খুব ছোট বিন্দুর ওপর কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে এবং একে এক্সরে শক্তিতে পরিণত করে একটি গোল ক্যাপসুলের ওপর ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে ভেতরে জ্বালানির ভেতরে একটা ইমপ্লোশন অর্থাত অন্তর্মুখী বিস্ফোরণ হয়। এতে যে উচ্চ চাপ সৃষ্টি হয় তা সূর্যের ভেতরের চাপের চাইতেও বেশি। এবং এর ফলে যে শক্তির সৃষ্টি হয় - তার পরিমাণ, যতখানি বস্তু দিয়ে এ পরীক্ষা শুরু হয়েছিল - তার চাইতে বেশি। তাই আমরা এমন একটা কিছু পেয়েছি যা আগে কখনো ঘটেনি। অন্য আরো কিছু পরীক্ষাও হচ্ছে। এর একটি হলো - একটা খুব বড় চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে একটা খুব উত্তপ্ত প্লাজমার ভেতরে ফিউশন ঘটানো। এর তাপমাত্রা হতে পারে ৫০ মিলিয়ন কেলভিন পর্যন্ত। তার ফলে এখানে সব সময়ই ফিউশন ঘটতে থাকবে এবং একে একটা অব্যাহত শক্তি উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই পরীক্ষার জন্য একটি স্থাপনা এখন তৈরি হচ্ছে ফ্রান্সে।"

এসব এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়েই আছে, তবে এতে যে মৌলিক প্রাপ্তিগুলো ঘটেছে তা নিশ্চয়ই বিকল্প শক্তি উৎস খোঁজার প্রক্রিয়ায় আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।

এবারের বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন পুলক গুপ্ত।