বিজ্ঞানের আসর

২৭ নভেম্বর ২০১৩ শেষবার আপডেট করা হয়েছে ২৩:৩৮ বাংলাদেশ সময় ১৭:৩৮ GMT

amazon forest
আমাজনের বনভূমি

বিশ্বের বনভূমি ধ্বংসের পরিমাণ ঠিক কত তা জানার জন্য এক নতুন ধরণের মানচিত্র তৈরি করেছেন আমেরিকার বিজ্ঞানীরা।

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা নাসার ল্যন্ডস্যাট উপগ্রহ কর্মসূচির উপাত্ত ব্যবহার করে এই বৈশ্বিক মানচিত্র তৈরি করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, আমাজনের বনভুমি উজাড় হওয়া কমানো গেছে, কিন্তু সার্বিকভাবে পৃথিবীতে বনভূমি ধ্বংসের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর ঠিক কতখানি জায়গা আসলে বনভূমিতে ঢাকা, তাও বোঝা যাবে সম্পূর্ণ ইন্টারএ্যাকটিভ এই মানচিত্র থেকে। জানা যাবে, এই সহস্রাব্দে কতখানি বনভূমি ধ্বংস হয়েছে, বা নতুন কতখানি সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু যুক্তরাজ্য আর বোর্ণিওর বিজ্ঞানীরা এমন কিছু বিষয় এই মানচিত্র থেকে জানতে পেরেছেন - যা খানিকটা উদ্বেগজনকও বটে। যে পাম গাছ থেকে তেল উৎপাদন করা হয় - দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতে সেই পামগাছের ক্রমবর্ধমান ক্ষেতগুলোকেও এই মানচিত্রে বনভূমি বলে দেখানো হচ্ছে।

কিন্তু পরিবেশের ওপর এই সব পামক্ষেতের প্রতিক্রিয়া হতে পারে রীতিমত নেতিবাচক। বোর্নিওর ওই নিরক্ষীয় বনাঞ্চল যদি পামগাছের বাগানের চাপে হারিয়ে যায়, তার প্রতিক্রিয়াই বা পরিবেশ এবং জীববৈচিত্রের ওপর কি হবে?

গবেষক ড. টিম ককরোল বলছেন, "পামের ক্ষেতকে এই মানচিত্রে বনভূমির সম্প্রসারণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু পামগাছের ক্ষেত আর প্রাকৃতিক বনভূমির মধ্যে বিশাল তফাৎ। প্রাণবৈচিত্রের দিক থেকেও এটা প্রায় বনভূমির সাথে একটা কংক্রিটের কার-পার্কের তুলনা করার মতো।"

তবে এই গবেষণাপত্রের মূল রচয়িতা মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ম্যাথিউস হ্যানসেন বলছেন, এটা একটা সমৃদ্ধ মানচিত্র। শুধু বনভূমি নয়, জলাভূমি, নগরায়ন, বা পৃথিবীর কতখানি জমি ফসল আবাদের জন্য ব্যবহার হচ্ছে - এগুলো সম্পর্কেও আমরা এই মানচিত্র থেকে জানতে পারছি।

তবে এই সমস্ত অসঙ্গতিগুলো দূর করার পদক্ষেপও তারা নিচ্ছেন – যাতে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম বনাঞ্চলের মধ্যে তফাৎগুলো এতে পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করা যায়।

উজ্জ্বলতম মহাজাগতিক বিস্ফোরণ

supernova
সুপারনোভা: তারার মৃত্যু

মহাকাশ বিজ্ঞানীদের টেলিস্কোপে সম্প্রতি এমন একটি মহাজাগতিক বিস্ফোরণের চিত্র ধরা পড়েছে, যাকে বলা হচ্ছে এ যাবৎকালের সবচেয়ে উজ্জ্বলতম আলোকের বিচ্ছূরণ।

সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হচ্ছে , মহাকাশে স্থাপন করা নাসার 'সুইফট এন্ড ফার্মি' নামের এক টেলিস্কোপে এ বছরের প্রথম দিকে এই বিস্ফোরণ ধরা পড়ে।

এতে প্রায় নি:শেষ হয়ে যাওয়া একটি তারা পুরোপুরি নিভে গেছে, এবং তার ফলে তৈরি হয়েছে একটি ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণবিবর – আর সেই সময় মহাকাশ জুড়ে বিচ্ছুরিত হয়েছে গামা রশ্মির চোখ-ধাঁধানো আলোকচ্ছটা।

ঠিক কতটা উজ্জ্বল ছিল এই বিস্ফোরণ? যুক্তরাজ্যের লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী প্রফেসর পল ও’ব্রায়েন – যিনি এই সুইফট টিমেরও সদস্য - বলছেন, "এই বিস্ফোরণটা কতটা শক্তিশালী ছিল – একটা সংখ্যা দিয়ে তার হিসেব দেয়াটা সত্যি খুব কঠিন। পৃথিবীতে এনার্জির ইউনিটকে আমরা বলি 'জুল'। সেই হিসেবে ধরুন ১০ এর পেছনে ৪৭টা শূন্য বসালে সংখ্যাটা যা হয় – তত জুল ছিল এর শক্তি। অন্যভাবে বলা যেতে পারে, ১০ লাখ গ্যালাক্সির সবগুলো তারা মিলে যে শক্তি – এই একটি বিস্ফোরণের শক্তিই ছিল তার প্রায় সমান।'

আপনার মনে হয়তো প্রশ্ন জাগবে, মহাবিশ্বের কোথায়, কত দূরে ঘটেছে এই বিস্ফোরণ?

অনেকেই জানেন মহাজাগতিক দূরত্বে হিসেব করা হয় আলোকবর্ষের হিসেবে। আলোর গতিতে অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ৮৬ হাজার মাইল বেগে চললে এক বছরে আপনি যতদূর যাবেন – তাকে বলে এক আলোকবর্ষ বা লাইট ইয়ার। আর এই যে বিস্ফোরণটির কথা বলছি – তা ঘটেছে পৃথিবী থেকে ৪০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে – অর্থাৎ ওই বিস্ফোরণের আলেঅ পৃথিবীতে এসে পৌঁছাতে সময় লেগেছে ৪০০ কোটি বছর !

অধ্যাপক পল ও’ব্রায়েন আরো বলছেন, এরকম শক্তিশালী বস্তু আরো আছে বলে আমরা দেখতে পেয়েছি। কিন্তু সাধারণত পৃথিবী থেকে আরো বহু বহু দূরে। আর এই ঘটনাটি ঘটেছে অপেক্ষাকৃত কাছে। সে কারণেই পৃথিবী থেকে আমরা ওই বিস্ফোরণের আলো অন্য কোনকিছুর চাইতে অনেক বেশি পরিমাণে দেখতে পেয়েছি। ফলে এটিই মানুষের দেখা উজ্জ্বলতম বস্তু।

যাহোক, ঘটনাটি পৃথিবী থেকে অনেক দূরে ঘটার ফলে এ থেকে বিচ্ছুরিত শক্তিও মহাকাশে নিরাপদে শোষিত হয়ে গেছে। এরকম কিছু যদি পৃথিবীর আরো কাছঅকাছি ঘটতো, তাহলে পৃথিবীর প্রাণীজগতের জন্য তার ফল হতো - এক কথায় ভয়াবহ ।

যানবাহনের দূষণ কমানোর গবেষণায় নতুন চিন্তা

car pollution
মোটরযান থেকে বায়ুদূষণ

যুক্তরাষ্ট্রের আরগন ল্যাবরেটরিতে এমন এক গবেষণা চলছে যাতে যানবাহনের জ্বালানি থেকে বায়ুদূষণ কমানোর উপায় বেরুতে পারে।

যানবাহনের ইন্জিনে পেট্রল বা ডিজেল পোড়ানোর ফলে যে ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়. তা পরিবেশ দূষণের একটা বড় কারণ বলে মনে করা হয়। মাকিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের আরগন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে এখন একটি গবেষণা চলছে যাতে যানবাহনের ফসিল জ্বালানি থেকে এই দূষণের পরিমাণ কমানোর উপায় বেরুতে পারে।

এজন্য তারা ব্যবহার করছে শিকাগো শহরের বাইরে বসানো একটি পার্টিকল এক্সেলারেটর। এতে কাজ করছেন ড. ক্রিস্টোফার পাওয়েল এবং তারা এটাকে ব্যবহার এমনভাবে যাকে বলা যায় গাড়ির ইঞ্জিনের এক্সরে করার মতো।

আমরা অনেকেই জানি যে গাড়ির ইঞ্জিনের মধ্যে পেট্রোল বা ডিজেলকে পুড়িয়ে গ্যাসে পরিণত করা হয়, এবং তার চাপে পিস্টনগুলো ওঠানামা করে গাড়ির চাকাকে ঘোরায়। এই ব্যাপারটা ঠিক কি ভাবে ঘটে সেটাই পার্টিকল একসিলারেটরের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করছেন ক্রিস্টোফার পাওয়েল।

ড. পাওয়েল আশা করছেন, যানবাহনের জ্বালানিকে আরো দক্ষভাবে এবং দূষণের মাত্রা কম রেখে ব্যবহার করার একটা উপায় এই পরীক্ষা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।

এ সপ্তাহের বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন পুলক গুপ্ত।