BBC navigation

বিজ্ঞানের আসর

সর্বশেষ আপডেট বুধবার, 9 অক্টোবর, 2013 11:50 GMT 17:50 বাংলাদেশ সময়

মেডিয়া প্লেয়ার

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ মানুষ, ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত বিজ্ঞানীরা

শুনুনmp3

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প মিডিয়া প্লেয়ারে বাজান

climate change

আইপিসিসির রিপোর্ট উপস্থাপন

মানুষের কারণেই জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ব্যাপারে তারা এখন ৯৫ ভাগ নিশ্চিত।

জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্ত:সরকার প্যানেল বা আইপিসিসি তাদের এক নতুন রিপোর্টে বলছে, ১৯৫০-এর দশক থেকে এ পর্যন্ত পৃথিবীর তাপমাত্রা যে পরিমাণ বেড়েছে – গত এক হাজার বছরেও তার নজির নেই, এবং বিজ্ঞানীরা ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত যে মানুষই এর প্রধান কারণ।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা ডব্লিউ এম ও-র মহাসচিব মিশেল জারো বলছিলেন, "এটি সারা পৃথিবীর জন্যই এক সতর্কবাণী। এই রিপোর্ট নিশ্চিত করছে যে গত ৫০ বছরে বিশ্বের জলবায়ুতে যে পরিবর্তনগুলো হয়েছে তা খুব সম্ভবত: মানুষের কর্মকান্ডের কারণেই হয়েছে। আমরা আগের চাইতে অনেক বেশি স্থির-নিশ্চিত হয়ে এ কথা বলছি। এর গভীর প্রভাব শুধু আমাদের ওপর নয়, ভবিষ্যতে অনেকগুলো প্রজন্মের ওপর পড়বে।"

climate change

মিশেল জারো

বিবিসির রজার হারাবিন বলছেন, "কয়েক হাজার বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই আইপিসিসি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, এবং এর বক্তব্য এবার একদিকে যেমন নাটকীয় - তেমনি স্পষ্ট। এখন আর সংশয়ের অবকাশ খুব একটা নেই। জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে, উষ্ণতা বাড়ছে, বায়ুমন্ডল এবং মহাসাগরগুলোর তাপমাত্রা বেড়েছে। পৃথিবীতে তুষার ও বরফ আচ্ছাদিত জায়গার পরিমাণ কমেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে।"

রিপোর্টে অবশ্য বলা হয়, ১৯৫০-এর দশক থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলেও ১৯৯৮ সাল থেকে দেখা যাচ্ছে তাপমাত্রার আর বৃদ্ধি ঘটেনি, প্রায় এক জায়গাতেই থমকে আছে।

কিন্তু রজার হারাবিন বলছেন, "আপনি যদি এই সময়কালটিকে দশক ধরে হিসেব করেন তাহলে দেখবেন অন্য চিত্র। দেখা যাবে যে প্রতি দশকেই আগের দশকের চাইতে তাপমাত্রা বেড়েছে। তার মানে দীর্ঘমেয়াদে তাপমাত্রা ঠিকই বাড়ছে।"

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রের পানির উচ্চতা ৮২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

climate change

লন্ডনে পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. সালিমুল হক এ প্রসঙ্গে বিবিসি বলছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কিছু পরিবর্তন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, এটা এক বৈজ্ঞানিক সত্য। তা থামানো এখন আর সম্ভব নয়, কারণ বিপুল পরিমাণ গ্রীনহাউস গ্যাস ইতিমধ্যেই বায়ুমন্ডলে মিশে গেছে।"

জেট-ল্যাগ কাটানোর চাবিকাঠি?

দীর্ঘ বিমানভ্রমণজনিত ক্লান্তি বা জেট-ল্যাগ কিভাবে দ্রুত সারানো যায় তার চাবিকাঠি খুঁজে পেয়েছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা ।

যাদের দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আছে তারাই জানেন জেটল্যাগ কি জিনিস। সোজা কথায়, ধরুন আপনি ঢাকা থেকে দুপুরে বিমানে উঠলেন, এবং ১২ ঘন্টা পর এমন একটি শহরে নামলেন যেখানে সকাল, কিন্তু ঢাকায় তখন মাঝরাত। তাই নতুন জায়গায় আপনার শরীর আগের সময়সুচিতেই চলতে থাকবে, সকাল বেলা ঘুম পাবে, রাতের বেলা জেগে থাকবেন। এই গোলমাল সারতে বেশ কয়েকদিন লেগে যায়। একেই বলে জেটল্যাগ।

এটা সারানোর এক নতুন উপায়ের সন্ধা্ন পেয়েছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি তাদের এই আবিষ্কার বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

jet lag

এর ব্যাখ্যা করছেন ক্রনোবায়েলজিস্ট প্রফেসর মাইকেল হেস্টিংস। তিনি বলছেন, "যখন আপনি ঘুমিয়ে থাকেন, তখনো আপনার শরীরের ভেতরে একটা ঘড়ির মতোই কাজ করতে থাকে নানা রকম এনজাইম এবং হরমোন। তারা ভোররাত থেকেই আপনার দেহকে দিনের বেলার জন্য তৈরি করতে থাকে।"

মাইকেল হেস্টিংস বলছেন, "দশ বছর আগেও আমাদের ধারণা ছিল, আমাদের চোখের স্নায়ুগুলো যেখানে মস্তিষ্কের সাথে মিশেছে সেখানে একটা জিনিস থাকে যাকে বলে সুপ্রা-কিয়েজম্যাটিক নিউক্লিয়াস বা এস সি এন – এটা হচ্ছে একটা চালের দানার মতো আকারের, এর মধ্যে আছে ১০ হাজার নিউরন। এটাকেই আমরা মানুষের দেহঘড়ির কেন্দ্রবিন্দু বলে মানতাম। তবে এখন আমরা জানতে পারছি যে এটাই একমাত্র ঘড়ি নয় – মানব দেহের সব কোষের ভেতরেই একটি করে ঘড়ির মতো কিছু বসানো আছে যা এস সি এনের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে। জাপানের এই বিজ্ঞানীরা যেটা করেছেন, সেটা হলো গবেষণাগারে ইঁদুরের দেহকোষে কিছু জেনেটিক পরিবর্তন ঘটিয়ে সেই সমন্বয়টা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন। তার ফলে দেখা যাচ্ছে যে মাত্র একদিনের মধ্যে সেই ইঁদুর জেটল্যাগের মতো প্রতিক্রিয়া কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে।"

অবশ্য এ আবিষ্কার থেকে জেটল্যাগ কাটানোর ওষুধ তৈরি পর্যন্ত পৌঁছাতে এখনো আরো অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে।

শতবর্ষ পরের জীবন কেমন হবে?

computer

১৯৭৩ সালে রেডিওটাইমসকে একটি সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন বিবিসির বিজ্ঞানবিষয়ক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক জেমস বার্ক। তার কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভবিষ্যতে মানুষের জীবন কেমন হবে - কল্পনা থেকে তারই একটা ধারণা দিতে।

তিনি বলেছিলেন যে ভবিষ্যতে অফিসে, স্কুলে, এবং বাড়িতে-বাড়িতে থাকবে কম্পিউটার। মানুষের সম্পর্কে তথ্য ধরা থাকবে ডেটাব্যাংকে, ডোসিয়ারে, পরিচয়পত্রে। কিন্তু এতে কেউ ভুরু কোঁচকাবে না, বিশেষত তরুণরা একে মেনে নেবে আনন্দের সাথেই। যন্ত্রের শব্দ তখন পখির কলকাকলির মতই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আজ কম্পিউটার মোবাইল ফোন, ফেসবুক আর ইলেকট্রনিক পাসপোর্টের যুগে এসে আমরা দেখছি, তার সেই ভবিষ্যদ্বাণীর অনেককিছুই মিলে গেছে !

তাই চল্লিশ বছর পর বিবিসি আবারো জেমস বার্কের কাছে গিয়েছিল। এটাই শুনতে যে তার কল্পনায় ৮০ বা ১০০ বছর পর পৃথিবীর মানুষের জীবনযাত্রা কেমন হবে?

মি. বার্ক বলছেন, ত্রিমাত্রিক ন্যানো-ফ্যাব্রিকেটর নামের এক প্রযুক্তির ততদিনে এত বিস্তার ঘটবে যে দারিদ্র্য বা অভাব, এগুলো অতীতের বিষয়ে পরিণত হবে।

3d printer

কি জিনিস এই ন্যানোফ্যাব্রিকেটর? জেমস বার্ক বলছেন, "সহজ ভাষায় ন্যানো-ফ্যাব্রিকেটর মানে হলো, কিছু পরমাণু জোড়া দিয়ে অণু বানানো যাবে, এবং সেই অণুগুলোকে সমন্বিত করে আবার নানা ধরণের জিনিস বানানো যাবে। এর ফলে মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য অন্য কারো দ্বারস্থ হতে হবে না। তার যা চাই সবই সে নিজে বানিয়ে নিতে পারবে। মাটি, পানি বা বাতাস থেকেই যে কোন কিছু বানানো যাবে। এক বোতল ওয়াইন থেকে শুরু করে, স্বর্ণালংকার , বা বাড়ি তৈরির জন্য ইট – সব কিছু। এতে বেশি টাকাও খরচ হবে না।"

তিনি বলছেন, "৮০ থেকে ১০০ বছর পর ন্যনোফ্যাব্রিকেটরের কল্যাণে আপনি যে কোন জায়গায় থাকতে পারবেন। আপনি পরিবেশ দূষণ করবেন না। কারণ দূষণ বলে কোন ব্যাপারই থাকবে না। আপনি সকালে উঠে আপনার থ্রিডি হলোগ্রামের আকারে আপনার বন্ধুদের সাথে ব্রেকফাস্ট করতে পারবেন। শুধু তাদের গায়ে হাত দিতে গেলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে তারা বাস্তব নয়। কিন্তু তা ছাড়া তারা বাস্তবের মতোই আপনার সাথে কথা বলবে। আপনি যে কোন নাটক গান-বাজনা অনুষ্ঠান ঘরে বসেই দেখতে পারবেন। এগুলো পরিবেশন করবে ত্রিমাত্রিক হলোগ্রাম আকারে বিখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অবতার। অসুখ-বিসুখ বা রোগ বলে কিছুই থাকবে না। আমাদের জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে না, গাছ কাটতে হবে না, পুরো পৃথিবীটাই দূষণবিহীন একটা উদ্যানে পরিণত হবে। হয়তো বাগান করাটাই মানুষের একটা বড় কাজে পরিণত হবে।"

বলতে পারেন, সায়েন্স ফিকশনের চূড়ান্ত। জেমস বার্কের এবারকার এই ভবিষ্যদ্বাণী কতটুকু মিলে যাবে?

দেখতে হলে ৮০ থেকে ১০০ বছর অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

এ সপ্তাহের বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন পুলক গুপ্ত।

Multimedia

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻