রামুর বৌদ্ধপল্লী: ধ্বংসের পর বিনির্মাণ

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ শেষবার আপডেট করা হয়েছে ২২:৫৮ বাংলাদেশ সময় ১৬:৫৮ GMT

গত বছর সাম্প্রদায়িক হামলায় ধ্বংস এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার রামুর অনেক বৌদ্ধমন্দির। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল অনেক বৌদ্ধ বসতি। প্রায় এক বছর ধরে পুননির্মাণ এবং সংস্কারের পর সম্প্রতি এসব মন্দির আবার খুলে দেয়া হয়েছে।
গত বছরের ২৯শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার রামুতে সাম্প্রদায়িক হামলায় ধ্বংস এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল ১৯টি বৌদ্ধ মন্দির। ফেসবুকে নবী মোহাম্মদকে অবমাননা করা হয়েছে, এমন এক গুজবের পর বৌদ্ধ বসতিতে হামলা চালায় মুসলিমরা। ক্ষতিগ্রস্থ মন্দিরগুলো পুর্ননির্মাণ এবং সংস্কারের পর সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে।
ধ্বংসস্তুপের ওপর একেবারেই নতুন স্থাপত্য রীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন বৌদ্ধবিহার।
রামুর উত্তর মিঠাছড়িতে 'বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা বিহার'। প্রায় একশো ফুট লম্বা এই মূর্তিটি হামলায় সামান্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সামনের চত্বরটি নতুন করে তৈরি করা হয়েছে।
বিমুক্তি ভাবনা বিহারের দিকে উঠে গেছে সিঁড়ির ধাপ। পাশের ভবনটিও নতুন করে তৈরি করা।
রামুর নবনির্মিত 'লাল চিং বিহার'। আগের বিহারটি ছিল কাঠ-টিন-বাঁশের তৈরি। সেটা আগুনে ভস্মীভূত হওয়ার পর তার জায়গায় তৈরি হয়েছে এই আধুনিক ভবন।
অবয়ব ঠিক রেখে সংস্কার করা হয়েছে এই প্রাচীন উপাসনালয়গুলো।
আবারও প্রার্থনায় মুখরিত রামুর কেন্দ্রীয় সীমা বিহার। প্রার্থনায় যোগ দিতে আসা মহিলাদের একাংশ। মন্দির পুনর্নিমাণে সরকার ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় স্থানীয়রা খুশি। কিন্তু গত বছরের সেই হামলার পর সেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কতোটা পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা নিয়ে অনেকে সন্দিহান।
সীমা বৌদ্ধ বিহারের এখানে আগে ছিল টিনের চালার ভবন। সেখানে তৈরি হয়েছে বৌদ্ধ স্থাপত্য রীতিতে নতুন ইটের দালান।
রামুতে রাখাইনদের মন্দির 'উসাই ছেন'। গত বছর হামলার শিকার হয়েছিল তাদের মন্দিরও। পুরনো ভবনটি ক্ষতিগ্রস্থ হলেও মূল কাঠামো অক্ষত ছিল। সেই কাঠামো ঠিক রেখেই সংস্কার করা হয়েছে মন্দিরটি।