BBC navigation

বিজ্ঞানের আসর

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 16 জুলাই, 2013 15:16 GMT 21:16 বাংলাদেশ সময়

মেডিয়া প্লেয়ার

আরও নিখুঁত সময় মাপবে অপটিক্যাল ল্যাটিস ক্লক

শুনুনmp3

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প মিডিয়া প্লেয়ারে বাজান

রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণতম দশক

জাতিসংঘের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি শতাব্দীর প্রথম দশকে পৃথিবী যে ধরনের চরম আবহাওয়ার সাক্ষী থেকেছে – তা একেবারেই নজিরবিহীন।

ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের প্রস্তুত করা নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ১৮৫০ সালে যখন আধুনিক পরিমাপের পদ্ধতি চালু হয়েছে – তখন থেকে আজ পর্যন্ত এত উষ্ণতম দশক আর কখনওই আসেনি।

আর ২০০১ থেকে ২০১০ – এই দশ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা এতটা বাড়ার প্রধান কারণ একটাই, মানবসভ্যতা থেকে তৈরি কার্বন নির্গমন। এই দশকেই ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে, আমেরিকায় আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ক্যাটরিনা, পূর্ব আফ্রিকা আর আমাজন ভয়াবহ খরার কবলে পড়েছে আর পাকিস্তান ভেসে গেছে বিধ্বংসী বন্যায়।

french-michel-jarraud

ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের মহাসচিব মিচেল জারাউড

ফলে ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের মহাসচিব মিচেল জারাউড বলছেন – উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব লেভেল আউট করে গেছে বা প্রশমিত হয়ে গেছে বলে অনেকে যে দাবি করছেন তার কোনও ভিত্তি নেই।

জাতিসংঘের এই সংস্থা এই বলেও সতর্ক করে দিয়েছে, চরম এই আবহাওয়ার ফলে ইতিমধ্যেই কয়েকটা বছরে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সাঙ্ঘাতিক গরমের জন্য যে প্রাণহানি বাড়ছে – দৃষ্টান্ত দিয়ে সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন মিচেল জারাউড।

তিনি বলছেন, '২০০৩ সালে ইউরোপে যে তাপপ্রবাহ বয়ে গিয়েছিল, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন হিসেব করে দেখেছে শুধু সেটার কারণেই পশ্চিম ইউরোপে সে সময় অন্তত অতিরিক্ত ষাট হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিল। ফলে সেটার প্রভাব ছিল ব্যাপক, ভীষণ ব্যাপক। আর আমার ধারণা, শুধু রাশিয়াতেই ২০১০ সালের তাপপ্রবাহের জেরে মারা গিয়েছিলেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ।'

ফলে বিপক্ষ শিবির যা-ই বলার চেষ্টা করুক, জাতিসংঘের হুঁশিয়ারিটা খুব স্পষ্ট – উদ্বেগজনক গতিতে বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে, আর পৃথিবীকে তার মূল্যও চোকাতে হচ্ছে বহু প্রাণের বিনিময়ে। সাবধান হতে হবে এখনই!

নিখুঁত সময় মাপবে অপটিক্যাল ল্যাটিস ক্লক

সময় পরিমাপের জন্য আধুনিক ঘড়ি মানুষের নাগালে এসেছে তাও বেশ কয়েকশো বছর হল – আর মান্ধাতার আমলের বহু গ্র্যান্ডফাদার ক্লক এখনও টিক টিক করে নির্ভুল সময় মেপে যাচ্ছে, এমন উদাহরণও আছে ভূরি ভূরি।

কিন্তু আরও নিখুঁত সময় মাপার জন্যই বিজ্ঞানীরা অবশ্যই হাতঘড়ি বা দেওয়ালঘড়ি ব্যবহার করেন না, তারা শরণাপন্ন হন অ্যাটমিক ক্লকের। ১৯৬০র দশকে প্রথম উদ্ভাবিত হয়েছিল এই আণবিক ঘড়ি, যা অ্যাটমের মধ্যেকার নিয়মিত ভাইব্রেশন বা কম্পন মেপে স্থির করে দেয় একটা সেকেন্ডের নিখুঁত দৈর্ঘ্য।

optical_lattice_clocks

অপটিক্যাল ল্যাটিস ক্লক

তবে ফ্রান্সের একদল গবেষক এখন বলছেন, তারা অবিষ্কার করেছেন নতুন ধরনের এক অ্যাটমিক ক্লক – যা লেসাররশ্মির দ্রুততর কম্পন ব্যবহার করে সেকেন্ডের দৈর্ঘ্য মাপতে পারে অনেক বেশি নিখুঁতভাবে। এই ঘড়ির নাম তারা দিয়েছেন অপটিক্যাল ল্যাটিস ক্লক, আর বলা হচ্ছে ৩০ কোটি বছরে এই ঘড়ির হিসেবে ভুলচুক হতে পারে বড়জোর এক সেকেন্ড।

যে বিজ্ঞানীরা এই ঘড়ি উদ্ভাবন করেছেন, তাদেরই অন্যতম ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল টোবার জানাচ্ছেন, 'নতুন এই অ্যাটমিক ক্লকগুলো অনেক বেশি অসিলেশন পিরিওডে কাজ করে – অর্থাৎ অপটিক্যাল রেজিমের ভেতর এই নতুন ঘড়িগুলো লক্ষগুণ বেশি গতিতে অসিলেট করে, বা আন্দোলিত হয়।'

কিন্তু এত বেশি নিখুঁতভাবে সময় মেপে লাভটা কী হবে? উত্তরে বলা যায়, টেলিযোগাযোগ, স্যাটেলাইট নেভিগেশন বা শেয়ার বাজারের পারফরম্যান্স – এই সব ক্ষেত্রেই কিন্তু নির্ভুল ও নিখুঁত সময় পরিমাপের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

তবে শুধু এই ঘড়ির উদ্ভাবকরা নন, সব বিজ্ঞানীরাই মানেন যে আরও আরও বেশি নিখুঁত সময়ের পরিমাপ নানা আধুনিক প্রযুক্তিগত সিস্টেমে অপরিহার্য।

প্যারিসে যে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েটস অ্যান্ড মেজারস রয়েছে, তার সময় বিভাগের অধিকর্তা ফেলিসিটাস এরিয়াস যেমন বলছিলেন, 'আজকের দুনিয়া চলছে নেটওয়ার্ক সিনক্রোনাইজেশনের ভিত্তিতে, আর তার জন্য প্রয়োজন আরও বেশি ভালভাবে সময় মাপা।'

তাঁর কথায়, 'যে কৃত্রিম উপগ্রহগুলো পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে তার সুবাদেই আমরা পৃথিবীতে আমাদের সময় আর অবস্থান জানতে পারছি। আমাদের হাতের মোবাইল ফোন কাজ করছে – কারণ আমরা একটা নিখুঁত, স্থিতিশীল টাইমস্কেল তৈরি করতে পেরেছি। কাজেই নতুন এই ঘড়ি আগামী দিনের প্রযুক্তিকেই আরও সাহায্য করবে।'

এই অপটিক্যাল ল্যাটিস ক্লক হয়তো হাতেও পড়তে হবে না, বাড়ির দেওয়ালেও টাঙাতে হবে না – কিন্তু এর সুফল মানুষ টের পাবে নানা ভাবেই!

চলে গেলেন মাউসের উদ্ভাবক

আজকের এই কম্পিউটার আর ইন্টারনেট-নির্ভর দুনিয়ায় একটা ছোট্ট জিনিসের দিকে আমরা তেমন একটা নজর করি না – অথচ সেটা না থাকলে কম্পিউটার ব্যবহার করাই বেজায় মুশকিল হয়ে ওঠে। সেটা আর কিছুই নয়, আপনার স্ক্রিনের পাশে শুয়ে থাকা ছোট্ট মাউস – যেটা ছাড়া নেট সার্ফ করাই প্রায় অসম্ভব।

doug_engelbart

ডগলাস এঙ্গেলবার্ট (১৯২৫-২০১৩)

এই ভীষণ কাজের জিনিসটি যিনি উদ্ভাবন করেছিলেন, সেই মার্কিন প্রযুক্তিবিদ ডগলাস এঙ্গেলবার্ট এ মাসের গোড়ায় ৮৮ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়াতে প্রয়াত হলেন।

১৯৬৮ সালে সারা দুনিয়ার এক হাজারেরও বেশি কম্পিউটার বিজ্ঞানীর সামনে চমকপ্রদ এক প্রেজেন্টেশন পেশ করেছিলেন ড: এঙ্গেলবার্ট – যাতে তিনি ব্যবহার করেছিলেন দুনিয়ার প্রথম মাউস – আর সেই প্রথম যুগের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা এক সহকর্মীর সঙ্গে ভিডিওতে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন।

সেখানে তিনি বলেছিলেন, 'এখন আমি বলতে পারব না কেন আমরা এটার নাম দিয়েছি মাউস ... পছন্দ না-হলে আমি ক্ষমা চাইছি! আসলে শুরু থেকেই নামটা চলছে, আমরা কখনও পাল্টাইনি!'

এঙ্গেলবার্ট শুধু মাউসের উদ্ভাবক নন, ভিডিও কনফারেন্সিং-য়েরও জন্মদাতা তিনিই। এমন কী ই-মেইল বা ইন্টারনেটের জন্মেরও বহু আগে তিনি পূর্বাভাস করেছিলেন এই প্রযুক্তি আসতে চলেছে।

ড: এঙ্গেলবার্টের আবিষ্কার কিন্তু তাকে কোটিপতি বানাতে পারেনি – কারণ কম্পিউটারের মাউস যখন মানুষের রোজকার জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠল, ততদিনে তিনি যে মাউসের পেটেন্ট নিয়েছিলেন সেই মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে!

এ সপ্তাহের বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন শুভজ্যোতি ঘোষ

Multimedia

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻