বিজ্ঞানের আসর

২ জুলাই ২০১৩ শেষবার আপডেট করা হয়েছে ১৯:৪৭ বাংলাদেশ সময় ১৩:৪৭ GMT

জীবনধারনের উপযোগী তিনটি নতুন গ্রহের সন্ধান

new planet
মহাকাশে তিনটি নতুন গ্রহ পাওয়া গেছে

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জ্যোর্তিবিজ্ঞানীদের একটি দল পৃথিবী থেকে ২২ আলোকবর্ষ দূরে তিনটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন যেখানে জীবনধারণের জন্য জল থাকা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন।

মহাকাশের গোল্ডিলকস্‌ জোন নামে একটি অংশে গ্লিয়েস সিক্স-সিক্স-সেভেন সি নামে একটি তারার চারপাশের কক্ষপথে এই গ্রহগুলো প্রদক্ষিণ করছে। এই গোল্ডিলক্স জোন মহাকাশের এমন একটি অংশ যেটা প্রাণধারনের উপযোগী।

সূর্য থেকে পৃথিবীর যে দূরত্ব তাতে পৃথিবীতে যেমন প্রাণধারণ সম্ভব, তেমনি এই তিনটি গ্রহ যে তারার চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে সেই তারা থেকেও এই গ্রহগুলোর দূরত্বও প্রাণধারণের জন্য উপযোগী।

জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা এই প্রথম একসঙ্গে মহাকাশে এতগুলো গ্রহের সন্ধান পেলেন যেখানে প্রাণধারনের রসদ রয়েছে।

এই গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী জার্মানির গত্তিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ডঃ গুইল্লেম অ্যাংগ্লাডা বলছেন এই গ্রহগুলো আকারে পৃথিবীর চেয়ে অনেক বড়। এই গ্রহগুলোর একটা পাশ যে তারার চারপাশে এগুলো ঘুরছে সবসময়েই সেই তারার দিকে ফেরানো। এর অর্থ হল এই গ্রহগুলোর একপাশে সবসময়েই দিন অর অন্যপাশে সবসময়ই রাত্রি।

তবে তিনি বলছেন এই গ্রহগুলোর জলবায়ুর সঙ্গে পৃথিবীর জলবায়ুর যেহেতু অনেক সাদৃশ্য রয়েছে, তাই এখানে জীবনধারণ খুবই সম্ভবপর।

বিজ্ঞানীরা খুবই শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করে যেসব তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন তাতে দেখা যাচ্ছে এই গ্রহগুলোতে পাহাড় রয়েছে এবং এর ভূপৃষ্ঠে রয়েছে জলও ।

এদের কক্ষপথের কেন্দ্রে যে তারা রয়েছে তার তাপমাত্রা সূর্যের থেকে কম হলেও গ্রহগুলোর সঙ্গে তারার দূরত্ব, পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যেকার দূরত্বের থেকে কম হওয়ায় গ্রহগুলোর ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অনেকটা পৃথিবীর তাপমাত্রার কাছাকাছি।

আর সে কারণেই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন ওই গ্রহগুলোতে জলের অস্তিত্ব রয়েছে। তবে এসব গ্রহে আদৌ কোনো প্রাণের হদিশ তারা এখনও পান নি।

প্রতিবন্ধী সন্তানজন্ম প্রতিরোধে নতুন আইভিএফ পদ্ধতি

3person ivf
তিনজনকে নিয়ে আইভিএফের পক্ষে ব্রিটিশ সরকার

যেসব বাপমায়ের প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাদের জন্য নতুন এক আবিস্কার চিকিৎসা জগতে নতুন এক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন যেসব দম্পতির ঝুঁকিপূর্ণ জিন বিশেষ কিছুধরনের প্রতিবন্ধিত্বের কারণ হতে পারে, সেখানে তৃতীয় এক ব্যক্তির দান করা সুস্থ জিন ভ্রূণের শরীরে প্রতিস্থাপন করে সেই প্রতিবন্ধিত্ব কাটিয়ে তোলা সম্ভব। শুধু তাই নয়, একবার সুস্থ জিন প্রতিস্থাপন করা হলে বংশ পরম্পরায় সেই পরিবর্তনের সুফল ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে তারা বলছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অরিগন হেলথ্‌ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ডঃ শুখরাত মিতালিপফ ব্যাখ্যা করেছেন যেসব ক্ষেত্রে মার থেকে শিশুর শরীরে গুরুতর মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ পরিবাহিত হবার সম্ভাবনা থাকে সেসব ক্ষেত্রে কীভাবে এই পদ্ধতি কাজ করে।

''মায়ের শরীর থেকে বিশেষ করে তার ডিম্বানু থেকে পরিবর্তিত ডিএনএ বহনকারী জিন ভ্রূণের মধ্যে সঞ্চালিত হয়। কাজেই কোনো পরিবারে মহিলার শরীরে যদি এধরনের রোগবাহী জিন থাকে তা শিশুর শরীরে ঢোকার এবং এর থেকে ওই শিশুর মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা পূর্ণমাত্রায় থাকে। কাজেই ওই দম্পতি যদি সুস্থ ও রোগের আশঙ্কামুক্ত শিশুর জন্ম দিতে চায়- এই পদ্ধতি সেক্ষেত্রে কার্যকর হবে। আমরা যেভাবে এটা করছি সেটা হল ওই মহিলার একটা ডিম আমরা বের করে নিচ্ছি- তার থেকে রোগবাহী জিনটি বের করে ফেলছি। এবং সেখানে নতুন যে জিনটি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হচ্ছে – সেটি আসছে অন্য এক মহিলার দান করা ডিম থেকে।''

এই পদ্ধতিতে একজন সন্তান জন্মের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে তিন ব্যক্তির - বাবা মা এবং তৃতীয় এক মহিলার।

এই প্রক্রিয়ায় তৃতীয় ব্যক্তি অর্থাৎ দাতা মহিলা শুধু সুস্থ ও রোগমুক্ত একটি মাইটোকন্ড্রিয়া দিচ্ছে। মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের মধ্যে শক্তি তৈরি করে- কোষ কীভাবে কাজ করবে তা নির্ধারণ করে। আমাদের মুখচোখ কেমন দেখতে হবে বা আমাদের আচরণ কেমন হবে তা মাইটোকন্ড্রিয়া ঠিক করে না।

মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের ভেতরে ঠিকভাবে শক্তি তৈরি করতে পারছে কীনা তার ওপরই নির্ভর করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বা কলা ঠিকমত কাজ করবে কীনা। বিকল মাইটোকন্ড্রিয়াই বিভিন্নধরনের প্রতিবন্ধিত্বের কারণ হয়।

আইভিএফ পদ্ধতি ব্যবহার করে এভাবে শিশুজন্মের বিষয়টি আইনানুগ করতে ব্রিটিশ সরকার এখন উদ্যোগী হয়েছে এবং এ ব্যাপারে আইন পাশ হলে ব্রিটেনই হবে প্রথম দেশ যেখানে এই পদ্ধতিতে সন্তানজন্ম সম্ভব হবে।

এই পদ্ধতির নৈতিক দিক নিয়ে ইতোমধ্যেই বিতর্ক শুরু হলেও ব্রিটেনের মুখ্য মেডিকেল অফিসার ডেম স্যালি ডেভিস বলেছেন বাপমায়ের যে জিন শিশুর পরিচয়ের মূল বাহক এই পদ্ধতি তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ কোষের ভেতরে যে নিউক্লিয়াস থাকে, তার ভেতরের ডিএনএই ঠিক করে আমাদের চোখের রং, চুলের রং, মুখের গড়ন ও আমাদের ব্যক্তিত্ব কেমন হবে। আর বিজ্ঞানীরা সেখানে হাত দিচ্ছেন না।

অরিগন বিশ্ববিদ্যালয়ের শুখরাত মিতালিপফ বলছেন মিউটেশন বা কোষ বিভাজনের ফলে পরিবর্তিত জিন যা রোগ বহন করে এই পদ্ধতির মাধ্যমে তা বের করে ফেলা হচ্ছে, ফলে রোগগ্রস্ত জিন এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে সঞ্চালিত হওয়ার ঝুঁকি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে।

শাকসব্জি কখন খাওয়া উচিত?

repolho cabbage
বাঁধাকপিতে রয়েছে ক্যান্সার ঠেকানো রাসয়নিক

শাকসব্জি খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী একথা সবাই জানে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় বলা হচ্ছে ফসল তোলার পরেও সেগুলোর মধ্যে যেহেতু বিভিন্ন রাসয়নিক উপাদান সক্রিয় থাকে, তাই সেসব রাসয়নিকের গুণাগুণ বিচার করে কখন তা খাওয়া উচিত সেটা নির্ধারণ করতে পারলে তার থেকে নানাধরনের সুফল পাওয়া সম্ভব।

আমেরিকার রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈবরসায়ন ও কোষ-জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ডঃ জ্যানেট ব্রাউন বলছেন বাঁধাকপি, ফুলকপির মত বেশ কিছু সব্জির ওপর পরীক্ষা চালিয়ে তারা দেখেছেন সেগুলো কেটে ফেলার পরেও তাদের মধ্যে কোষগুলো সজীব ও সক্রিয় অবস্থায় থাকে।

দিনের বেলা বা রাতের বেলা পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে তারা নির্দিষ্ট কিছু রাসয়নিক পদার্থ উৎপন্ন করে। ফসল তোলার পরে সব্জি মজুত রাখার সময় তা আলো আর অন্ধকারে নির্দিষ্ট সময় ধরে রাখতে পারলে তারা ওই একই রাসয়নিক তৈরি করতে সক্ষম হয়।

পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে এধরনের সব্জি গ্লুকোসিনালেট নামে একধরনের রাসয়নিক তৈরি করে যার ক্যান্সার প্রতিরোধক কিছু গুণ আছে।

জ্যানেট ব্রাউন বলছেন এধরনের সব্জি যদি রান্নাঘরে এমন জায়গায় রাখা হয় যেখানে আলো- আঁধারের নির্দিষ্ট চক্র রয়েছে, তাহলে বাঁধাকপি, ফুলকপির মত সব্জি এই রাসয়নিক উৎপন্ন করবে এবং যদি জানা যায় আলো আর অন্ধকারের তীব্রতা ঠিক কোন্‌ মাত্রায় থাকলে সবচেয়ে বেশি গ্লুকোসিনালেট তৈরি হবে তাহলে শুধুমাত্র সব্জি কোথায় রাখা হচ্ছে সেটা বিবেচনায় নিয়ে এর থেকে খাদ্যগুণের সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া সম্ভব।

এ সপ্তাহের বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মানসী বড়ুয়া