বিজ্ঞানের আসর

১৮ জুন ২০১৩ শেষবার আপডেট করা হয়েছে ১৬:৩৭ বাংলাদেশ সময় ১০:৩৭ GMT

আকাশে ইন্টারনেট

ইন্টারনেটে বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান গুগল আকাশে কিছু বেলুন ছাড়ছে। বেলুনগুলো ছাড়া হবে মাটি থেকে কুড়ি কিলোমিটারের মতো উপরে।

পৃথিবীর প্রত্যন্ত ও দরিদ্র এলাকা, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই, সেখানকার লোকেরা যাতে ইন্টারনেট সুবিধা পেতে পারেন সেজন্যেই এসব বেলুন আকাশে উড়ানো হচ্ছে।

এই প্রকল্পের নামকরণ করা হয়েছে প্রজেক্ট লুন।

এই উদ্যোগেরই প্রাথমিক পরীক্ষা হিসেবে হিলিয়াম গ্যাস ভর্তি বিশালাকৃতির তিরিশটির মতো বেলুন উড়ানো হয়েছে নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ড এলাকায়।

এই বেলুনগুলোতে এমন কিছু যন্ত্রপাতি রাখা হয়েছে যেখান থেকে ওয়ারল্যাস সিগন্যাল বা তারবিহীন সঙ্কেত পাঠানো সম্ভব।

আকাশের যেখানে এই বেলুনগুলো উড়বে তার নিচের বাড়িঘরে মানুষেরা এর সিগন্যাল গ্রহণ করে, ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পের ফলে পৃথিবীর প্রত্যন্ত এবং দরিদ্র গ্রামীণ এলাকা, এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যেখানে টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, সেসব এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব।

বেলুন প্রকল্পের বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের পরিকল্পনা হলো আকাশে হাজার হাজার বেলুন উড়ানো যাতে চারশো কোটি লোক, যাদের কাছে এখনও ইন্টারনেটের সুবিধা গিয়ে পৌঁছায়নি, তারাও যাতে এই বেলুনের মাধ্যমে অনলাইন সুবিধা পেতে পারেন।

এসব বেলুনের আকৃতি ছোটখাটো বিমানের সমান। ভেতরে হিলিয়াম গ্যাস। বেলুনের নিচে ঝুলবে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, রেডিও অ্যান্টেনা, কম্পিউটার, কন্ট্রোল সিস্টেম এবং একটি সোলার প্যানেল যাতে পুরো বিদ্যুৎ তৈরি হতে পারে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ইন্টারনেটের এই বেলুনগুলো থাকবে স্ট্র্যাটোসফেয়ারের ওপর। আকাশে চলাচলকারী বাণিজ্যিক বিমানগুলোর চেয়েও উপরে। খালি চোখে এগুলোকে দেখাই যাবে না। একটা বেলুন থেকে আরেকটা বেলুনের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠাও

সম্ভব হবে এবং সবকটি বেলুন একসাথে হয়ে আকাশে তৈরি করবে ইন্টারনেটের বিশাল এক নেটওয়ার্ক।

কর্মকর্তারা বলছেন, একেকটি বেলুন আকাশে একশো দিনের মতো থাকবে। এবং একটি বেলুনের নিচে চল্লিশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই বেলুনের সাহায্যে ইন্টারনেটের সংযোগ পাওয়া যাবে।

চীনের মহাকাশ অভিযান

চীনের তিনজন নভোচারীকে নিয়ে একটি মহাকাশ যান, মহাকাশে স্থাপিত একটি গবেষণাগারে অবতরণ করেছে।

লং মার্চ টু এফ রকেটে করে ইনার মঙ্গোলিয়া থেকে যাত্রা করার দু’দিন পর নভোচারীরা চীনের টিয়ানগং পরীক্ষাগারটিতে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

চীনা এই দলটির পরিকল্পনা হচ্ছে, কক্ষপথের এই মডিউলে সপ্তাহ দু’য়েকের মতো অবস্থান করা।

আর এটাই হবে কোনো নভোচারীকে নিয়ে, চীনা মহাকাশ যানের দীর্ঘতম অভিযান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন যে ক্রমশই মহাকাশে তাদের শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করছে, সর্বশেষ এই অভিযান তারই একটি নমুনা।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই অভিযানকে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করেছেন।

চীনা মহাকাশ প্রকল্পের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ল্যাবরেটরিতে তারা বেশ কিছু পরীক্ষা চালাবেন এবং পৃথিবীতে ফিরে আসার পর, শিক্ষার্থীদের সামনে তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরবেন।

এর আগে নভোচারী বহনকারী মহাকাশ যান চীন প্রথম পাঠিয়েছিলো ২০০৩ সালে। তারপর গত দশ বছরে নভোচারীদের নিয়ে চীন এটি ছাড়াও আরো চারটি যান, মহাকাশে পাঠিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহাকাশযানের খবর প্রায়শই মিডিয়াতে খবরের শিরোনাম হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো ধরনের মহাকাশ যানের ব্যাপারে মানুষের দারুণ আগ্রহ। কিন্তু এখন চীনেও খুব ধীরে ধীরে মহাকাশে শক্তিধর একটি রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মহাকাশ গবেষণায় চীনের অবস্থান এখন কোথায়-এ নিয়ে শুনবেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিষয়ক সংস্থা নাসার মহাকাশ বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষের সাক্ষাৎকার।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান: