BBC navigation

বাংলাদেশ ২০১৩: অনিশ্চয়তার বছর

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 3 জানুয়ারি, 2013 09:53 GMT 15:53 বাংলাদেশ সময়

মেডিয়া প্লেয়ার

বছরজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা

শুনুনmp3

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প মিডিয়া প্লেয়ারে বাজান

বাংলাদেশে ২০১৩ সালে কি ঘটতে পারে সে বিষয়ে জ্যোতিষের মতো ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়তো কঠিন, কিন্তু কোন কোন ইস্যু বছরজুড়ে প্রাধান্য বিস্তার করবে সেটা আন্দাজ করা সহজ।

২০১৩ সালে ক্যামন হতে পারে বাংলাদেশ- বিদায়ী বছরের শেষ দিকে ঢাকার রাস্তায় অটোরিকশা চালক থেকে শুরু করে মুদি দোকানদার, সরকারি চাকুরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক যাকেই এই প্রশ্ন করেছি সবার চোখে ছিল উৎকণ্ঠার ছায়া। কারো মুখেই চটজলদি জবাব ছিল না। পরে কিছুটা সময় নিয়ে বেশিরভাগ মানুষই বলার চেষ্টা করেছেন যে ২০১৩ সাল হবে আরো একটি রাজনৈতিক সহিংসতার বছর।

কারওয়ান বাজারে একজন গৃহিনী সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে আমাকে সোজাসাপ্টা বললেন, ‘বছরটা শুরু হবে সহিংসতা দিয়ে। শেষও হবে সহিংসতায়- আপনি লিখে দিতে পারেন।‘

এ নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের সাথে যখন কথা বলেছি তাদের মুখেও ছিল কমবেশি একই রকমের উৎকণ্ঠা। তারাও বলছেন, রাজনৈতিক কারণে বছরটি হতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, স্পর্শকাতর আর ঘটনাবহুল।

অনিশ্চয়তার নির্বাচন

তত্ত্বাবধয়াক সরকার প্রশ্নে মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া

কোন ধরনের সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে আগামী সাধারণ নির্বাচন সে বিষয়ে মীমাংসায় পৌঁছাতে হবে ২০১৩ সালেই।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী জোট এখন মুখোমুখি অবস্থানে।

এই বিরোধের কারণে সারা বছরই উত্তপ্ত থাকবে রাজনীতি, এটা কমবেশি স্পষ্ট।

"বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি যেখানে চলে এসেছে সেটাকে আবার অহিংস পর্যায়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও চোখে পড়ছে না"

আবদুর রব খান, বিশ্লেষক

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুর রব খান বলছেন, ‘সমঝোতার কোন আভাস এখনও চোখে পড়ছে না।’ তার মতে, এ ধরনের ‘দুষ্ট সমস্যা’র সমাধান নির্বাচনের এতোটা আগে সাধারণত হয় না, এবারেও হবে না।

তিনি বলেন, ‘তবে বিষয়টাকে যেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল। আওয়ামী লীগ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল আর বিরোধী নেত্রীও বলেছিলেন যে নামই হোক না কেনো তাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এখন পরিস্থিতি যেখানে চলে এসেছে সেটাকে আবার অহিংস পর্যায়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও চোখে পড়ছে না।’

‘জাদুকরী পরিবর্তন’ না আসা পর্যন্ত এই সহিংস পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করেন মি. খান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে মন্ত্রীসভা গঠন করে তার অধীনে নির্বাচন হতে পারে।

রাজনৈতিক সহিংসতা

বিরোধীরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের গবেষক রওনক জাহান বলছেন, শেষ পর্যন্ত যে ধরনের সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক না কেনো, ২০১৩ সালে বাংলাদেশের জন্যে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে একজন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা যিনি সেই সরকারের নেতৃত্ব দেবেন।

পুলিশের ওপর জামায়াত কর্মীদের চোরগোপ্তা হামলা

তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক বলুন আর অন্তর্বর্তী বলুন, বছরের সবচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একজন ব্যক্তির ব্যাপারে দু’দলের মধ্যে সমঝোতা- অর্থাৎ কে এই সরকারের প্রধান হবেন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্যে এটাই প্রধান অসুবিধা। দু’দলের কাছেই সমানভাবে গ্রহণযোগ্য কোন ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন।‘

বরাবরের মতো এই একই প্রশ্ন রাজনীতিবিদদের এবছরও তাড়া করবে।

এই প্রেক্ষাপটে এক সময় হয়তো ‘সংলাপ’ শুরু হতে পারে কিন্তু তার ফলাফল নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। অতীতের উদাহরণ টেনে তারা আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে পরিস্থিতি হয়তো সহিংস হয়ে উঠতে পারে। তবে এক সময় তারও অবসান ঘটবে। কারণ বাংলাদেশে এরকম পরিস্থিতি আগেও হয়েছে যখন মানুষ চিন্তা করতে পারছে না যে এরপর কি হবে কিন্তু হঠাৎ করেই অভাবনীয় একটা পরিবর্তন হয়েছে।

"আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যখনই এ ধরনের সহিংসতা চলতে থাকে, অথবা রাজনৈতিক অচলাবস্থা বা অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকে তখন যে কোনো কিছু হতে পারে"

মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক

অনেকেই বলছেন, এই বিরোধের জেরে কি ঘটতে পারে ২০০৭ সালে মানুষ তার উত্তর পেয়েছে। এবারও তার পুনরাবৃত্তি হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ পিস এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান বলছেন, ‘এখন পর্যন্ত যে সহিংসতা হয়েছে তা আরো অনেকগুণ বাড়তে পারে।’

‘আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যখনই এ ধরনের সহিংসতা চলতে থাকে, অথবা রাজনৈতিক অচলাবস্থা বা অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকে তখন যে কোনো কিছু হতে পারে।’ বলেন তিনি।

যুদ্ধাপরাধের বিচার

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১২ জনের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার চলছে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের

ক্ষমতায় আসার আগে আওয়ামী লীগ এই বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ফলে মেয়াদের প্রান্তে দাঁড়িয়ে সরকার চাইছে এই অঙ্গীকার কিছুটা হলেও পূরণ করতে।

অভিযুক্তদের বেশিরভাগই ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতা। তাদের বিচার বাতিলের দাবিতে দলটি এখন রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে এবং ইতোমধ্যেই তা সহিংস রূপ নিয়েছে।

"যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করতে জামায়াতে ইসলামীর দাবি আর বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবি ২০১৩ সালে আরো বেশি একাত্ম হয়ে উঠতে পারে কারণ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে পরাজিত করার লক্ষ্যে এই দুটো দলই একসাথে নির্বাচন করতে চেষ্টা করবে"

রওনক জাহান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বলছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করতে জামায়াতে ইসলামীর দাবি আর বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবি ২০১৩ সালে আরো বেশি একাত্ম হয়ে উঠতে পারে কারণ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে পরাজিত করার লক্ষ্যে এই দুটো দলই একসাথে নির্বাচন করতে চেষ্টা করবে।

‘দুটো ইস্যু আলাদা। কিন্তু দল দুটো যেহেতু জোট করে নির্বাচন করবে সেকারণে এই দুটো বিষয়কে আলাদাভাবে মীমাংসা করা সম্ভব হবে না।’ বলেন রওনক জাহান।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি যতদিন জামায়াতকে সাথে নিয়ে নির্বাচন করতে চাইবে ততদিন এই দুটো ইস্যুকে তারা একসাথে রাখবে।’

তবে আবদুর রব খান মনে করছেন, ‘যুদ্ধাপরাধের এই বিচারের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে আরো কি ঘটে তার ওপরেও নির্ভর করছে।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর ঘটনা ঘটে যাচ্ছে এবং একটা ঘটনা আরেকটা ঘটনাকে চাপা দিচ্ছে। একটা ঘটনা আরেকটার চেয়েও চাঞ্চল্যকর। ফলে আরো কতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে সেদিকেও নজর রাখতে হবে।’

পদ্মার উপর সেতু

২০১৩ সালে আরো যেসব বিষয়ের ওপর মানুষের নজর থাকবে তার একটি বহুল আলোচিত পদ্মাসেতু।

দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিয়ে যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে সরকারের শেষ বছরে তার সমাধান হয় কিনা- সে বিষয়েও প্রবল আগ্রহ থাকবে মানুষের।

পদ্মা সেতুর ভবিষ্যত নির্ভর করছে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক প্যানেলের প্রতিবেদনের ওপর

পদ্মাসেতু ছিল আওয়ামী লীগের আরো একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এই কেলেঙ্কারির কারণে সরকার কিছুটা হলেও বেকায়দায় পড়েছে।

আর এ কারণে সরকার মুখ রক্ষার চেষ্টা হিসেবে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা না পেলে নিজেদের অর্থেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

"সরকার হয়তো তার ইমেজ বাড়াতে চেষ্টা করবে যাতে নির্বাচনে তারা সুবিধা করতে পারে। কিন্তু পদ্মাসেতু নিয়ে এতো বেশি কথা হয়েছে যে বিষয়টাতে খুব সহসাই বড়ো ধরনের অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই"

আবদুর রব খান, বিশ্লেষক

কিন্তু মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান বলছেন, ‘সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের ব্যাখ্যা দিয়েছে- কখনো বলা হয়েছে যে পদ্মাসেতু নিজেদের অর্থায়নে করা হবে, আবার কখনো বলা হয়েছে এই সেতু তৈরি করা হবে মালয়েশিয়ার সহযোগিতায়। এই সমন্বয়হীনতার ফলে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে মানুষের মনে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যে নিজেদের অর্থায়নে এই সেতু তৈরি করতে পারবে তার ওপর কোন আস্থা নেই জনগণের।‘

পদ্মাসেতুর প্রতিশ্রুতি পূরণ করে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের জন্যে কীভাবে সুবিধা নিতে চেষ্টা করে- তার তৎপরতাও দেখা যাবে এ বছর। বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্ভব হলেও এ বছর তার চাইতে বেশিকিছু আশা করা কঠিন।’

আবদুর রব খান বলছেন, ‘সরকার হয়তো তার ইমেজ বাড়াতে চেষ্টা করবে যাতে নির্বাচনে তারা সুবিধা করতে পারে। কিন্তু এ নিয়ে এতো বেশি কথা হয়েছে যে বিষয়টাতে খুব সহসাই বড়ো ধরনের অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

ফলে শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের আগ্রহ কতোখানি থাকবে সেটাও দেখার বিষয়। কারণ এ বছরের মধ্যে কিছু না দেখাতে পারলে তারা এর রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পারবে না।

তিনি বলেন, ‘পদ্মাসেতু হবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নেই হবে। তবে এ বছরেই কিছু হবে বলে মনে হয় না।’

ভারত ফ্যাক্টর

নির্বাচনের কারণে প্রতিবেশী ভারতের সাথে সম্পর্ক নিয়েও ২০১৩ সালে জোর আলোচনা হবে।

ছিটমহল বিনিময়ের কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে মিছিল

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধীরা চেষ্টা করবে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে। কারণ দিল্লির পক্ষ থেকে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছিল সেগুলোর কিছুই পূরণ হয়নি।

"ভারতের সাথে সম্পর্ক নিয়ে এ বছর বহু আলোচনা হবে। কারণ সামনে নির্বাচন। ইশতেহারে ও সভা সমাবেশেও তার প্রতিফলন দেখা যাবে"

মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক

এগুলো হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, ছিটমহল বিনিময়, টিপাইমুখ বাঁধ ও সীমান্তে বেসামরিক নাগরিকের হত্যাকাণ্ড।

মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান বলছেন, ‘এই সম্পর্ক নিয়ে এ বছর বহু আলোচনা হবে। কারণ সামনে নির্বাচন। ইশতেহারে ও সভা সমাবেশেও তার প্রতিফলন দেখা যাবে।’

গত চার বছরে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার অনেকটাই একপেশে উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যা কিছু দেওয়ার ছিল তার বেশিরভাগই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভারতের কাছ থেকে প্রাপ্তি প্রায় শূণ্য।

আবদুর রব খানও আশা করছেন না যে, সরকারের শেষ মেয়াদে এসব প্রতিশ্রুতি আদায়ে বড়ো ধরনের অগ্রগতি হবে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগ এই অচলাবস্থায় পরিবর্তন আসবে না। যেসব কারণে গত চার বছরে ঢাকা কিছু আদায় করতে পারেনি, সরকারের শেষ বছরে সেই কারণগুলোতে কোন পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করছেন না।

ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব

নির্বাচনের আগেভাগে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বড়ো ছেলে তারেক রহমানের রাজনীতিতে ফিরে আসা না আসাও হতে পারে আরো একটি আলোচিত বিষয়।

তারেক রহমান

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেশ ছেড়েছেন তিনি, বর্তমানে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন লন্ডনে।

দলটি বলছে, চিকিৎসার জন্যে তিনি দেশের বাইরে আছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠলেই তিনি ফিরে যাবেন স্বদেশে।

"রাজনীতিতে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নির্ভর করছে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে নির্বাচনের আগে কি ধরনের সমেঝাতা হয় তার ওপর"

রওনক জাহান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী

মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান মনে করেন, জনপ্রিয়তার কারণে মি. রহমানের দেশে ফিরে গিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সরকার এখনও প্রমাণ করতে পারেনি। কিন্তু আবদুর রব খান মনে করেন, নির্বাচনের আগে তার দেশে ফেরার কোন সম্ভাবনা নেই। সেরকম কিছু হলেও সেটা হবে নির্বাচনের পর এবং তাও নির্ভর করছে নির্বাচনের ফলাফলের ওপর।

তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বলছেন, রাজনীতিতে তার প্রত্যাবর্তন নির্ভর করছে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে নির্বাচনের আগে কি ধরনের সমেঝাতা হয় তার ওপর।

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এখনও অনেক মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। তবে এটাও ঠিক যে বিএনপির যতো রকমের পোস্টার চোখে পড়ে তাতে যে তিনজনের ছবি থাকে তার একটি তারেক রহমানের।’

আওয়ামী লীগের পোস্টারে এরকম তৃতীয় মুখের সম্ভাবনা খুবই কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত চার বছরে যেহেতু এরকম মুখ আনা হয়নি সেকারণে শেষ বছরে এসে এরকম কিছু আশা করাও কঠিন।

তবে তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নতুন মুখের সম্ভাবনা কম হলেও নির্বাচনের আগে সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিতি কোণঠাসা নেতারা হয়তো পুনর্বাসিত হতে পারেন।

অন্যান্য প্রসঙ্গ

ঢাকার কাছে একটি গার্মেন্ট কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয় অন্তত ১১১ জন শ্রমিক

রাজনীতি ছাড়াও আরো যেসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে তার একটি হচ্ছে গার্মেন্ট কারখানায় নিরাপত্তা।

গত বছরের শেষ দিকে একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১১ জন নিহত হওয়ার পর দেশের ভেতরে, এমনকি আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও চাপের সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে বৃহত্তম এই রপ্তানি শিল্পটিও থাকবে আলোচনায়।

আলোচনায় থাকবে দেশটির ক্রমবিকাশমান অর্থনীতিও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই খাতে আশাবাদের যথেষ্ট ভিত্তি আছে। তারা মনে করছেন যে, রাজনৈতিক এই ঘনঘটা আর অনিশ্চয়তা স্বত্বেও কৃষি, গার্মেন্ট আর রেমিটেন্সের কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে আরো বাড়তে পারে।

অনিশ্চয়তার বছর

বছরের সূচনাতেই মোটামুটি আন্দাজ করা যায় যে ২০১৩ সালের ঘটনাপ্রবাহ আবর্তিত হবে রাজনীতিকে কেন্দ্র করে। আর সেটা তুঙ্গে উঠবে বছরের দ্বিতীয় ভাগে, বিশেষ করে নির্বাচনের সময় যতোই ঘনিয়ে আসবে।

ঢাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার বিশ্বজিৎ দাস

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বলছেন, ‘রাজপথে কিছু সংঘর্ষ হবে। এটা অনিবার্য। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এটা কি এমন একটা পর্যায়ে যাবে যা তারা নিজেরাই সমাধান করতে পারবে না এবং শেষ পর্যন্ত অন্য একটা শক্তিকে ক্ষমতায় আসতে হবে নাকি শেষ মুহূর্তে তারা নিজেরা একটা সমঝোতায় আসতে পারবেন- সেটাও একটা বড় প্রশ্ন।’

তবে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ভেতর থেকে শেষ পর্যন্ত একটা সম্ভবানাও উঁকি দিতে পারে বলে বিশ্বাস করেন আবদুর রব খান। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম তাহলে ২০১৩ সাল বাংলাদেশের জন্যে সঙ্কটের না সম্ভাবনার?

"বছরটা শুরু হবে সহিংসতা দিয়ে। শেষও হবে সহিংসতায়- আপনি লিখে দিতে পারেন"

একজন গৃহিনী, ঢাকা

হাসতে হাসতে তিনি বললেন, ‘দুটোই। সঙ্কটেরও আবার সম্ভাবনারও।’

তিনি বলেন, ‘মোটের ওপর নির্বাচনের ব্যাপারে সমঝোতা হলে বোঝা যাবে যে রাজনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে তার ভেতর থেকে সম্ভাবনাও উকি দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, বছরের শেষ নাগাদ রাস্তাটা খুব বেশি মৃসন নয় কিন্তু তারপরেই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করবে বলে তার বিশ্বাস।

ঢাকার রাস্তায় মানুষের মুখে এই সম্ভাবনার কথা না শোনা গেলেও বছর শুরুর আগে তাদের দীর্ঘশ্বাসের উৎস ছিল রাজনীতি-নির্বাচন-মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আর পদ্মাসেতু।

সবকিছু মিলিয়ে ২০১৩ সাল যে বাংলাদেশের জন্যে অনিশ্চয়তা আর উত্তেজনার আরো একটি বছর হবে- এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Multimedia

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻