BBC navigation

বিজ্ঞানের আসর

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 18 ডিসেম্বর, 2012 12:06 GMT 18:06 বাংলাদেশ সময়

মেডিয়া প্লেয়ার

পাঁউরুটিতে ছাতা পড়া ঠেকানো সম্ভব!

শুনুনmp3

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প মিডিয়া প্লেয়ারে বাজান

পাঁউরুটিতে ছাতা পড়া ঠেকাবে যে মাইক্রোওয়েভ

ঘর-গেরস্থালির কাজ যারা সামলান, তারা প্রত্যেকেই জানেন পাঁউরুটিতে ছাতা পড়ে যাওয়াটা কত বড় একটা সমস্যা।

বাজার থেকে পাঁউরুটির প্যাকেট কিনে আনলেন, তারপর দুটো দিন যেতে না-যেতেই রুটির মধ্যে সবুজ-কালো ছত্রাকের সংক্রমণ – আর তারপর প্যাকেট ধরে সেই পাঁউরুটি ফেলে দেওয়া, রান্নাঘরে এ জিনিস হামেশাই ঘটছে।

কিন্তু মার্কিন একটি কোম্পানি এখন দাবি করছে তারা এই সমস্যার সমাধান পেয়ে গেছে – এবং তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে পাঁউরুটিকে টানা দুমাস ধরে ছত্রাকমুক্ত রাখা সম্ভব।

bread

পাঁউরুটিতে ছাতা পড়াটা এক বিরাট সমস্যা!

তাদের পরীক্ষায় দেখা গেছে পাঁউরুটির স্লাইসগুলোকে যদি বিশেষ ধরনের এক মাইক্রোওয়েভ ওভেনে দশ সেকেন্ড মতো গরম করা যায়, তাহলে সেই স্পোর-গুলো নির্মূল করা সম্ভব, যেগুলো পাঁউরুটিতে ছাতা ফেলে।

মার্কিন এই সংস্থাটির নাম মাইক্রোজ্যাপ, তাদের প্রধান নির্বাহী ডন স্টাল দাবি করছেন এই সহজ ও সাধারণ প্রযুক্তিটি পাঁউরুটির আয়ু বাড়ানোর জন্য খুব উপযোগী হতে পারে।

ফলমূল, শাকসব্জি সব কিছুর জন্যই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে, তবে শুধু পাঁউরুটির আয়ু বাড়াতে পারলেই যে এই মাইক্রোওয়েভ নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যাবে তাতে বোধহয় কোনও সন্দেহ নেই।

উন্নত বিশ্বে ছাতা পড়ে খাবারের অপচয় আসলেই একটা বিরাট সমস্যা – শুধু ব্রিটেনেই মোট যত পাঁউরুটি কেনা হয়, তার এক-তৃতীয়াংশ শেষ পর্যন্ত খাওয়া হয় না।

ফলে এই পদ্ধতি হয়তো খাবারের অপচয় ঠেকাতে পারবে, কিন্তু বিবিসির পরিবেশ সংবাদদাতা সতর্ক করে দিচ্ছেন এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য বিরাট খরচ সম্পর্কে।

তাঁর বক্তব্য, খরচটা একটু নাগালে থাকলে হয়তো এটাকেই বলা যেত স্লাইসড ব্রেডের পরে পাঁউরুটির ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা!

টেক্সট মেসেজ পাঠানোর কুড়ি বছর পূর্তি

মোবাইল ফোনে এসএমএস বা টেক্সট মেসেজের আদানপ্রদান এখন এতটাই জলভাত হয়ে গেছে যে একদিন এই প্রযুক্তি আমাদের হাতের নাগালে ছিল না, ভাবলেও বোধহয় অনেকে আঁতকে উঠবেন।

অথচ টেক্সট মেসেজের ইতিহাস বেশিদিনের নয় – বিশ্বে প্রথম টেক্সট মেসেজটি পাঠানো হয়েছিল আজ থেকে ঠিক কুড়ি বছর আগে, এই ডিসেম্বর মাসেই।

text_messages

ব্রিটিশ ফোন কোম্পানি ভোডাফোনের একজন কর্মী নিল পাপওয়ার্থ তাঁর এক সহকর্মীকে মেরি ক্রিশমাস লিখে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছিলেন – আর টেক্সট মেসেজের যাত্রার সেই শুরু।

তার পর থেকে সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ কোটি টেক্সট বিনিময় হয়েছে, এবং বিশ্বের কোনও কোনও প্রান্তে টেক্সট মেসেজের জনপ্রিয়তা তো ফোন কলকেও ছাড়িয়ে গেছে।

তো বিশ্বের প্রথম টেক্সট মেসেজটি কীভাবে পাঠানো হয়েছিল এবং সেই মেসেজটা যে ঠিকঠাক পৌঁছেছে তা জানার পর কেমন অনুভূতি হয়েছিল, বিবিসিকে সে অভিজ্ঞতার কথাই বর্ণনা করেছেন নিল পাপওয়ার্থ, অনুষ্ঠানে থাকবে তাঁর কথা।

কম খরচে চাঁদে অভিযান

চাঁদে মানুষের পদার্পণের পর অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় কেটে গেছে – তবে চন্দ্র অভিযান এখনও যে খুব সহজ, কম খরচের একটা প্রকল্প – তা কিন্তু মোটেই বলা যাবে না।

কিন্তু আমেরিকার কলোরাডো-তে একটি বেসরকারি সংস্থা এখন পরিকল্পনা করছে, ২০২০ সালের মধ্যেই তারা চাঁদে মানুষসমেত মহাকাশযান পাঠাবে – আর সেই অভিযানে খরচ হবে এখনকার বিভিন্ন সরকারি মহাকাশ প্রকল্পের ভগ্নাংশ মাত্র।

armstrong_pie

চাঁদের মাটিতে নিল আর্মস্ট্রংয়ের সেই বিখ্যাত পদার্পণ

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় আগে কাজ করেছেন, এমন বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীও গোল্ডেন স্পাইক নামে এই কোম্পানিতে যুক্ত আছেন - আর তাঁরা এই প্রস্তাবিত চন্দ্র অভিযানের জন্য বিভিন্ন রকেট ও মহাকাশযানের নকশা ও নির্মাণের কাজও শুরু করে দিয়েছেন।

পেশাদার মহাকাশচারী নয় – বরং সাধারণ মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর চেষ্টায় যুক্ত যে সব কোম্পানি, তাদেরই অন্যতম গোল্ডেন স্পাইক – কিন্তু সংস্থার চেয়ারম্যান জেরি গ্রিফিনস সরাসরি বলছেন সাধারণ মানুষের জন্য মহাকাশ-পর্যটন তাদের এই প্রকল্পের লক্ষ্য নয়, বরং তারা নজর দিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের ওপর, বিজ্ঞানচর্চার ওপর।

চন্দ্র অভিযানের ক্ষেত্রে এখনও বিপুল খরচের ধাক্কাটাই সবচেয়ে বড় বাধা – যে কারণে বহু উন্নয়নশীল, বা উন্নত দেশও এখনও পর্যন্ত চাঁদে তাদের অভিযাত্রীদের পাঠানোর কথা ভাবেনি।

গোল্ডেন স্পাইক এই খরচের বাধাটা ভাঙারই চেষ্টা করছে এবং সংস্থার প্রধান নির্বাহী অ্যালান স্টার্ন দাবি করছেন, তাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অনেকের পক্ষেই হয়তো চাঁদে হাত বাড়ানোর স্বপ্ন সফল হবে – অন্তত খরচটা অনেক কমে আসবে :

apollo_11_mission_moon

চাঁদে নাসার অ্যাপোলো-১১ অভিযান

উদাহরণ হিসেবে তিনি কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা ধরুন দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশের নামও উল্লেখ করছেন – যারা তাদের এই চন্দ্র অভিযানের ব্যবসায় আগ্রহী হতে পারে।

আসলে এটাকে বলা যেতে পারে মহাকাশচর্চা – যেটা এতদিন হাতেগোনা কয়েকটা দেশের পরিসরেই সীমাবদ্ধ ছিল – তার ব্যাপক আন্তর্জাতিকীকরণের চেষ্টা!

গোল্ডেন স্পাইকের হিসেব মতো একবার বাস্তবায়িত হলে এই প্রকল্পে মোটামুটি একশো চল্লিশ কোটি ডলার খরচেই দুজন মানুষকে তারা দুদিনের জন্য চাঁদে ঘুরিয়ে আনতে পারবে - বিজ্ঞানের গণতন্ত্রায়ন বোধহয় একেই বলে!

এ সপ্তাহের বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন শুভজ্যোতি ঘোষ।

Multimedia

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻