BBC navigation

বিজ্ঞানের আসর : যে দ্বীপ কখনও ছিলই না!

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 11 ডিসেম্বর, 2012 10:27 GMT 16:27 বাংলাদেশ সময়

মেডিয়া প্লেয়ার

বিজ্ঞানের আসর : যে দ্বীপ কখনও ছিলই না!

শুনুনmp3

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প মিডিয়া প্লেয়ারে বাজান

যে দ্বীপ কখনও ছিলই না!

দিনকয়েক আগে অস্ট্রেলিয়ার একদল বিজ্ঞানী সবাইকে চমকে দিয়ে দাবি করেছেন, বিভিন্ন সামুদ্রিক চার্ট কিংবা গুগল আর্থ-সহ পৃথিবীর নানা মানচিত্রে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি দ্বীপকে দেখানো হলেও আসলে সেই দ্বীপটির নাকি কোনও অস্তিত্বই নেই।

মহাসাগরের বুকে এই কথিত দ্বীপটির অবস্থান ছিল অস্ট্রেলিয়া আর কোরাল সি-র বুকে ফরাসি-প্রশাসিত নিউ ক্যালেডোনিয়ার ঠিক মাঝামাঝি।

sandy_island

গুগল ম্যাপে সেই স্যান্ডি আইল্যান্ড!

গুগল ম্যাপসে দ্বীপটার একটা গালভারী নামও দেওয়া হয়েছিল – স্যান্ডি আইল্যান্ড, কিংবা বালুদ্বীপ। কিন্তু সম্প্রতি ওই অঞ্চলে একটি ভূতাত্ত্বিক অভিযানে গিয়ে ইউনিভার্সিটি অব সিডনি-র বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে দেখেছেন – ওখানে ওরকম কোনও দ্বীপের চিহ্নমাত্র নেই, বদলে আছে শুধু সাগরের নীল জল।

ওই অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সিডনি ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী মারিয়া সেটন। তিনি বলছিলেন, 'আমরা জানতাম আমরা কোথায় ছিলাম, আমাদের জাহাজে জিপিএস-ও ছিল – কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন সমুদ্রতটরেখার হিসেব ও জাহাজগুলোর মেরিন চার্ট থেকে যে তথ্য আমরা পেয়েছিলাম, তার সঙ্গে আমরা যা দেখছিলাম তা মিলছিল না!'

আসলে সেই ২০০০ সাল বা তারও আগে থেকেই এই দ্বীপটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রকাশনাতেও নিয়মিত দেখানো হয়ে এসেছে। কিন্তু সিডনি ইউনিভার্সিটির দলটি আচমকাই লক্ষ্য করে, যেখানে ওই দ্বীপটি আছে বলে বলা হচ্ছিল সেখানে গুগল আর্থে আচমকাই দেখানো হচ্ছে ব্ল্যাক-আউট করে দেওয়া একটা এলাকা, ম্যাপে শুধু একটা অন্ধকার জায়গা!

তখনই অভিযাত্রী দল সিদ্ধান্ত নেয়, তারা তাদের গতিপথ পাল্টে অন্য রাস্তায় যাবে, নিজের চোখে পরখ করে দেখবে দ্বীপটা আদৌ আছে কি না। তারপরই জাহাজের ক্যাপ্টেনকে বলে তারা গতিপথ পাল্টান, আর গিয়ে দেখেন তাদের অনুমান সঠিক - দ্বীপটা আদৌ ওখানে নেই!

গোটা ঘটনা থেকে বোধহয় এটাই ভাবার – এই উপগ্রহ মানচিত্র আর গ্লোবাল পজিশনিং স্যাটেলাইটের যুগেও বিজ্ঞানীদের খুব সাধারণ ভুল হয়ে যাওয়াটা মোটেই বিচিত্র নয়। আর হাতেকলমে পরীক্ষা করতে গেলে সেই ভুলটা ধরাও পড়ে যায় – এই যা রক্ষে!

বৈজ্ঞানিক গুপ্তচরবৃত্তি কোনটা ?

চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন – এই অভিযোগে দীর্ঘ আট বছর তুষারাচ্ছন্ন সাইবেরিয়ার এক জেলে কাটাত হল রুশ বিজ্ঞানী ভ্যালেন্টিন ডানিলভকে। প্রোফেসর ডানিলভ ছিলেন রাশিয়ার একজন নামকরা মহাকাশ বিজ্ঞানী, কিন্তু মহাকাশ প্রযুক্তি বিষয়ক নানা গোপন তথ্য তিনি মোটা অর্থের বিনিময়ে চীনকে পাচার করেছেন, এই অভিযোগে তাঁকে ২০০১ সালে গ্রেফতার করা হয়।

বিচারে জুরিরা তাঁকে অব্যাহতি দিলেও রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট পরের বছরই সেই রায় বাতিল করে দেয় এবং তাঁকে চোদ্দ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়।

valentin_danilov

প্রোফেসর ভ্যালেন্টিন ডানিলভ

অবশেষে আট বছর জেলে কাটানোর পর তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন – এবং মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন বিজ্ঞান নিয়েই তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন, তবে মহাকাশ গবেষণা আর কখনওই নয়।

তবে প্রোফেসর ডানিলভ বরাবরের মতো এখনও দাবি করছেন – তিনি কখনওই কোনও অন্যায় করেননি। ফলে ইউরোপীয়ান মানবাধিকার আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি মামলা লড়ে যাবেন – কারণ তাঁর মতে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটাই একেবারে হাস্যকর।

তিনি বলেন, 'আসলে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা গোয়েন্দাদের চোখে মহাকাশ শব্দটার সঙ্গে যুক্ত যে কোনও কিছুই মারাত্মক গোপনীয় একটা ব্যাপার। এর মধ্যে সব কিছুই পড়ে – একেবারে সব কিছু! এমন কী পৃথিবী যে গোল সেটাও তাদের কাছে একটা খুব গোপন তথ্য – কাজেই বুঝতেই পারছেন, আমি দু:খিত!'

বিজ্ঞানীদের যে প্রায়ই দেশের সরকার বা কর্তৃপক্ষের কাছে হেনস্তা হতে হয়, সেটা নতুন ঘটনা নয় – ইতিহাসে তার ভূরি ভূরি নজির আছে।

কিন্তু প্রফেসর ডানিলভ যে দিকে ইঙ্গিত করেছেন সেটা তাৎপর্যপূর্ণ – বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা সবাই প্রায় যে সব তথ্য জানেন, সেগুলোর আদানপ্রদানকে কি আদৌ বৈজ্ঞানিক গুপ্তচরবৃত্তি বলা যাবে?

গ্রেপফ্রুটের বিপজ্জনক দিক

কানাডার একদল বিজ্ঞানী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বাতাবিলেবু গোত্রের সাইট্রাস ফল গ্রেপফ্রুট অনেক রোগীর জন্যই মারাত্মক প্রাণঘাতী হয়ে দেখা দিতে পারে – বিশেষ করে তারা যদি কয়েকটি প্রেসক্রিপশন ড্রাগ বা ওষুধ নিয়মিত সেবন করে থাকেন।

গ্রেপফ্রুট যে কয়েকটি বিশেষ ওষুধকে শরীরের ভেতর ভাঙতে বাধা দেয় এবং ফলে সেই সব ওষুধের ওভারডোজ হয়ে যেতে পারে – এই বিপদটার কথা অবশ্য অনেক দিনই জানা। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা দেখছেন – গ্রেপফ্রুটের সঙ্গে খাওয়াটা অত্যন্ত বিপজ্জনক, এরকম ওষুধের তালিকাটা আসলে অনেক লম্বা।

Grape_fruit

বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বাতাবিলেবু!

অন্টারিও-র লন্ডনে লওসন হেল্থ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ড: ডেভিড বেইলি এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি বিবিসিকে বলেন এধরনের ওষুধের সংখ্যা আগে যা ভাবা হয়েছিল, এখন দেখা যাচ্ছে আসলে তার দ্বিগুণেরও বেশি।

তিনি জানান, গ্রেপফ্রুটের রসের সঙ্গে মিশে যে সব ওষুধ সাঙ্ঘাতিক প্রাণঘাতী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, ২০০৮ সালেও সেরকম ওষুধের সংখ্যা ছিল মাত্র সতেরোটা। কিন্তু এখন ২০১২তে এসে আমরা দেখছি সেটা অন্তত ৪৪য়ে এসে ঠেকেছে।

এই সব ওষুধের সঙ্গে গ্রেপফ্রুটের রসের বিক্রিয়ার জেরে হঠাৎ করে মৃত্যু হতে পারে, কিডনি কাজ থামিয়ে দিতে পারে, শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে – এমন কী শরীরের অস্থিমজ্জা বা বোন ম্যারো তৈরির ক্ষমতাও লোপ পেয়ে যেতে পারে।

এই সব ওষুধের অনেকগুলোই উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসার বা উচ্চ কোলেস্টরলের চিকিৎসার কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। কানাডার বিজ্ঞানীরা তাদের রিপোর্টে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই ওষুধগুলোর সঙ্গে গ্রেপফ্রুটের এই মারাত্মক সংযোগের কথা চিকিৎসকদেরও অনেকটাই অজানা।

কাজেই বিপজ্জনক ওষুধের সঙ্গে মিশে সামান্য বাতাবিলেবুরও যে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা আছে, এটা সবারই জেনে রাখা ভাল!

ড: জোসেফ ই মারে (১৯১৯-২০১২)

বিশ্বে প্রথম অর্গ্যান ট্রান্সপ্লান্ট বা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সফল অস্ত্রোপচারটি করেছিলেন যে চিকিৎসক, সেই ডক্টর জোসেফ ই মারে মারা গেলেন গত মাসে। আমেরিকার বস্টনে তিনি যখন নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে মারা যান, তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

প্রায় ষাট বছর আগে, ১৯৫৪ সালে তিনি দুজন আইডেন্টিকাল ট্যুইন বা অবিকল একই রকম দুই যমজ ভাইয়ের একজনের দেহ থেকে কিডনি নিয়ে অপরজনের দেহে প্রতিস্থাপন করেছিলেন। পরে সেই পদ্ধতিকে তিনি যমজ সন্তানদের বাইরেও অন্যদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেছিলেন সফলভাবে।

joseph_murray

ড: জোসেফ ই মারে

তাঁর প্রথম সফল ট্রান্সপ্লান্টের পঞ্চাশ বছর পূর্তির উৎসব যখন হয়, সেই ২০০৪র ডিসেম্বরে ড: মারে তাঁর স্মৃতিচারণায় বলেছিলেন – প্রথম যখন বুঝলেন তাঁর পদ্ধতিটা কাজ করছে, সে ছিল এক অবিস্মরণীয় মুহুর্ত।

তিনি বলেছিলেন, 'মোট তিনটে জায়গায় জোড়া দেওয়ার ছিল, আর আমাদের এই জাংকশনগুলোর কাজ শেষ করতে দেড় ঘন্টা মতো সময় লাগল। কিন্তু কিডনিটা কাজ করছে কি না, তা দেখার জন্য যখন আমরা ক্ল্যাম্পটা খুলে দিলাম – সেই মুহুর্তটা আমি কখনও ভুলব না। কিডনিটা ফুলে উঠল, শিরা আর ধমনীতে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল – ঠিক একটা স্বাভাবিক কিডনির মতো! সাঙ্ঘাতিক একটা মুহুর্ত ছিল সেটা!'

ড: মারে সেই যুগান্তকারী অস্ত্রোপচার করেছিলেন বস্টনেরই একটি হাসপাতালে – আর নব্বই বছর পেরিয়ে তিনি চলে গেলেন বস্টনের সেই একই হাসপাতালে।

তাঁর অসাধারণ উদ্ভাবনের স্বীকৃতিতে ১৯৯০ সালে চিকিৎসাবিদ্যায় যৌথভাবে নোবেল পুরস্কারও পেয়েছিলেন ড: মারে, আর তাঁর শুরু করা অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি আজও নতুন জীবনের আশা জোগাচ্ছে পৃথিবীজোড়া লক্ষ লক্ষ রোগীকে!

এ সপ্তাহের বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন শুভজ্যোতি ঘোষ

Multimedia

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻