BBC navigation

বিজ্ঞানের আসর: মাথাব্যথার ওষুধ কি?

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 25 সেপ্টেম্বর, 2012 09:46 GMT 15:46 বাংলাদেশ সময়

মেডিয়া প্লেয়ার

মাথাব্যথার ওষুধ বেশি খেলে ব্যথা সারবে না, বলছেন বিজ্ঞানীরা।

শুনুনmp3

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প মিডিয়া প্লেয়ারে বাজান

মাথাব্যথার ওষুধ কি?

headache

এমন অনেকে আছেন যাদের প্রায়ই মাথাব্যথা হয়, এবং ব্যথা শুরু হলেই তারা চট করে প্যারাসিটামল বা এ্যাসপিরিনের মতো একটা ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ফেলতে ভালোবাসেন। যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে মাথাব্যথা তো সারবেই না বরং আরো ঘন ঘন হবার ঝুঁকি থাকে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে – সারা পৃথিবীতে শতকরা প্রায় পাঁচ শতাংশ লোক আছেন, যারা মাথাব্যথা নিরাময়ের জন্য এসব ওষুধ এত বেশি পরিমাণে খান যে শেষ পর্যন্ত সেই ওষুধ শরীরকে তার ওপর নির্ভরশীল করে তোলে এবং তাদের এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সেরে যাবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

একে বলে মেডিকেশন ওভারইউজ হেডেকস – বা অতিরিক্ত ওষুধ খাবার ফলে সৃষ্ট মাথাব্যথা।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে মাথাব্যথার চিকিৎসার ওপর এক নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে সেদেশের স্বাস্থ্য ও চিকিতসা সংক্রান্ত জাতীয় ইনস্টিটিউট এন আই সি ই। এতে বলা হচ্ছে কেউ যদি প্রতি মাসে দশ থেকে ১৫ দিন এসপিরিন, প্যারাসিটামল বা এজাতীয় মাথাব্যথার ওষুধ খান, তাদের আরো বেশি মাথাব্যথায় আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যুক্তরাজ্যে এমন অন্তত দশ লক্ষ লোক রয়েছেন।

painkiller

এন আই সি ই-র এই নির্দেশিকা প্রণেতাদের অন্যতম অধ্যাপক মার্টিন আন্ডারউড বলছেন, এই চক্রে আটকে যাওয়া থেকে রেহাই পাবার উপায় হলেঅ, বেদনানাশক ওষুধ খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দেয়া। তবে এটা মেনে চলার জন্য রোগীকে খুব শক্ত মানসিকতার লোক হতে হবে।

ডাক্তাররা বলছেন, হঠাৎ করে বেদনানাশক ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিলে আপনার প্রথমে বেশি বেশি ব্যথা হবে ঠিকই , কিন্তু তার পর দেথা যাবে মাথাব্যথা হলেও তা আগের মতো ঘন ঘন হচ্ছে না।

আরেকজন বিশেষজ্ঞ ডা. ব্রায়ান হোপ বলছেন, বেশির ভাগ মাথাব্যথাই এমনিতেই সেরে যায়, এর জন্য কোন ওষুধ খাবার তেমন কোন দরকার নেই। বিশ্রাম, ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত মদ্যপান না করা – এগুলোই সাধারণ মাথাব্যথা সারানোর সবচেয়ে ভালো উপায়।

নারী ও পুরুষের পার্থক্য আসলে কতটা?

men and women

এ প্রশ্ন বহুদিনের যে শারীরিক- মানসিক সক্ষমতার দিক থেকে নারী আর পুরুষ কি আসলেই সমান ? নাকি তাদের মধ্যে বড় রকমের কোন পার্থক্য আছে? থাকলেও, তা কতটা প্রাকৃতিক আর কতটা সামাজিক-সাংস্কৃতিক?

এ নিয়েই এক পরীক্ষার আয়োজন করেছিল বিবিসির বিজ্ঞান ইউনিট। বিষয় ছিল একটি শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা: কোন একটা জিনিস নিক্ষেপ করার ক্ষেত্রে ছেলেদের আর মেয়েদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ?

দেখা গেল নিক্ষেপের দক্ষতার দিক থেকে ছেলেরাই যেন এগিয়ে।

কিন্তু সত্যিকারের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় কিন্তু এসব ধারণা সঠিক বলে প্রমাণ হয় নি। আসলে নারী আর পুরুষের মধ্যে দক্ষতা-সক্ষমতার দিক থেকে তেমন কোনই পার্থক্য নেই।

এই পরীক্ষার সাথে জড়িত ছিলেন জেরি টমাস - তিনি বলছেন, আমরা ছেলে ও মেয়েদের যেটাকে বলে মোটর স্কিল –তার একটা তুলনামূলক পরীক্ষা করেছি - তাতে দেখা যায় বয়:সন্ধির আগে এক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েদের প্রায় কোন পার্থক্য নেই বললেই চলে। বয়:সন্ধির পর কিছু পার্থক্য ঘটে – কারণ তখন ছেলেদের হাত-পা বেশি লম্বা হয়, তাদের দেহে পেশীর পরিমাণ বেশি হয়।

men and women

জেরি টমাস বলছেন, 'সাধারণত: ছেলেরাই এ ধরণের দক্ষতার বেশি অনুশীলন করে, তাই এই পার্থক্যটা কতটা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সেটা বোঝার জন্য আমরা কয়েকটি দেশে জরিপ চালিয়েছি। ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানে এবং অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের মধ্যে। দেখা যাচ্ছে যে অনুশীলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও যে মেয়েরা এ ধরণের অনুশীলন করেছে তারাও নিক্ষেপের ক্ষেত্রে ছেলেদের পুরোপুরি সমকক্ষ নয়। ফলে এটা বলা যেতে পারে যে – ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে যা হযতো সহজাত, এবং অনুশীলনের সুযোগ পাওয়া-না-পাওয়া দিয়ে তা ব্যাখ্যা করা যায় না। তবে তা খুব বড় কোন পার্থক্য নয়।'

মার্কিন যুক্তরাষেট্ট্রর উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং মনোবিজ্ঞানী জ্যানেট হাইড, 'সার্বিকভাবে বলতে গেলে নারী আর পুরুলের মধ্যে সক্ষমতার ক্ষেত্রে পার্থক্যের চাইতে মিলই বেশি। গণিত বা বাচন ক্ষমতার দিক থেকে ছেলেরা ভালো বলে যা মনে করা হয় – তাতে আসলে দু পক্ষই প্রায় সমান, তাদের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই । এসব স্টিরিওটাইপ বা বদ্ধমূল ধারণাগুলো তৈরি হয়েছে কয়েক শতাব্দী ধরে, এগুলো যদিও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত নয়, তবু তা মন থেকে দূর করা খুব কঠিন।

জ্যানেট হাইড বলছেন, 'হযতো ছেলে আর মেয়ের মধ্যে শারীরিক-মানসিক ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য আছে, কিন্তু এ জরিপে আমরা যে ফলাফল পাচ্ছি - তা তাদের ভিন্নভাবে বেড়ে ওঠার কারণে আরো বড় হয়ে আমাদের কাছে ফুটে উঠছে। আসলে নারী আর পুরুষের মধ্যে পার্থক্যের চাইতে এখন সমতাই বেশি। নেতৃত্ব, আত্মমর্যাদাবোধ, গণিত বা কথা বলার ক্ষেত্রে দক্ষতার বিবেচনায় – নারী-পুরুষের পার্থক্য আগামিতে বাড়বে বলে আমি মনে করি না, বরং তা আরো কমে আসবে।'

ম্যালেরিয়াবাহী নতুন মশা?

mosquito

আফ্রিকার কেনিয়ায় পাওয়া গেছে এক নতুন ধরণের মশা যা ম্যালেরিয়ার জীবাণ বহন করতে সক্ষম।

বিশ্বে ম্যালেরিয়া রোধের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হলেও এখন নতুন এই উদ্বেগজনক খবর পাওয়া যাচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, পশ্চিম কেনিয়ায় দুটি গ্রামে তারা এক নতুন ধরণের মশার সন্ধান পেয়েছেন যা ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহন করে এবং মশারি খাটিয়ে ঘুমিয়ে এর হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।

কারণ এই নতুন ধরণের মশা সাধারণ মশার মতো রাতে কামড়ায় না, কামড়ায় সন্ধ্যের সময় - লোকজন ঘুমোতে যাবার আগেই ।

এ জরিপ অবশ্য এখনো প্রাথমিক স্তরে। তাই ম্যালেরিয়া ঠেকাতে মশারির ব্যবহার এখনো অত্যন্ত কার্যকর বলেই ধরে নিতে হবে।

এ সপ্তাহের বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন পুলক গুপ্ত।

Multimedia

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻