
গ্রামীনফোন
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে তীব্র কর্মী অসন্তোষের জের ধরে ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় একদিনের জন্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্মচারী ছাঁটাই ও কিছু কর্মীর কার্যালয়ে প্রবেশাধিকার বন্ধের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মূখে কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপ নেয় বলে গ্রামীণফোন কর্মীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে গ্রামীণফোনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন , ছাঁটাই প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা কিছু কর্মচারী বাকী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অফিসে ঢুকতে বাধা দেয়ার পর সবাইকে বাসা থেকে কাজ করতে পরামর্শ দেয়া হয়।
গ্রামীণফোনের কর্মচারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান , সকালে বেশ কিছু কর্মী কোম্পানীটির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দেখতে পান যে তাদের অ্যাক্সেস কার্ড কাজ করছে না, অর্থাৎ কার্ড ব্যবহার করার পরও দরজা খুলছে না।
এরপর এসব কর্মী সেখানে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং অন্যদেরকেও তাতে শামিল হতে আহবান জানান। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে সেখানে কয়েকশো কর্মী জড়ো হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
"যেকোন প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাই হতেই পারে। কিন্তু যে পদে একজন কর্মী দুই বছরের বেশী সময় ধরে কাজ করছে, সেই পদের জন্যে সেই কর্মীকে আবার পরীক্ষা দিতে বাধ্য করছে কর্তৃপক্ষ।"
মোহাম্মদ ওমর ফারক, সভাপতি, গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন
এক পর্যায়ে এদের প্রতি সমর্থন জানায় নতুন গঠিত সংগঠন গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন।
এই সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন , যারা কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি তাঁরা হলেন সেইসব কর্মী যাদের চাকুরীচ্যুত করা হচ্ছে।
গ্রামীণফোনে বর্তমানে জনবল ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে এবং এ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে।
তিনি বলেন , ''গ্রামীনফোনের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি অনিশ্চিয়তার মধ্যে বাস করছেন। ফলে তাঁরা বিক্ষোভ করেছেন এবং আমরা তাতে সমর্থন জানিয়েছি।''
ওমর ফারুক দাবি করেন যে কর্তৃপক্ষ অনেকটা অনৈতিক ও বেআইনীভাবে কর্মী ছাঁটাই করছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ।
তিনি বলেন , ''যেকোন প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাই হতেই পারে, কিন্তু আমরা কোম্পানিকে বলেছি আইনী পথে আমাদেরকে জানিয়ে তা করতে।''
''কিন্তু যে পদে একজন কর্মী দুই বছরের বেশী সময় ধরে কাজ করছে, সেই পদের জন্যে সেই কর্মীকে আবার পরীক্ষা দিতে বাধ্য করছে কর্তৃপক্ষ।''
তবে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ বলছে, যে ৪৮ জন কর্মীকে বাদ দেয়ার একটি প্রক্রিয়া চলছিল এবং তাদেরকে পুরো জুলাই মাস ছুটি দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও সকালে তাঁরা গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অন্যদেরকে ভবনে ঢুকতে বাধা দেয়।
এ ব্যাপারে কোম্পানির প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা কাজী মনিরুল কবির বলেন , টেলিযোগাযোগের মতো একটি গতিশীল শিল্পে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম থাকতে হলে এবং গ্রাহকদের সেরা সেবাটি দিতে হলে কিছু পূনর্গঠনের কাজ করতেই হয়। আমরা সেই কাজটিই করছি।
তিনি বলেন , এই প্রক্রিয়াটি গতবছর থেকেই চলছে। শুধু যে চাকরি কমে গেছে তা নয়, বরং নতুন চাকরিও তৈরি হয়েছে এবং আমাদের ভেতর থেকেই কর্মীরা সুযোগ পেয়েছেন সেইসব নতুন চাকরিতে যাওয়া জন্যে।
তিনি জানান, গ্রামীণফোনের প্রায় ৫০০০ কর্মীর মধ্যে মাত্র দেড়শো জনকে এখন পর্যন্ত ছাঁটাই করা হয়েছে।
বিকেলে দুপক্ষের মধ্যে দাবি দাওয়া নিয়ে দীর্ঘ একটি বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়েছে যে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ বিক্ষুদ্ধ কর্মীদের সঙ্গে সোমবার আবারও বৈঠকে বসবেন।

