BBC Bangla

মূলপাতা > খবর

বাংলাদেশে চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব সুভাষ দত্তের প্রয়াণ

Facebook Twitter Google+
17 নভেম্বর 2012 01:33

সাইয়েদা আকতার

বিবিসি বাংলা, ঢাকা

সুভাষ দত্ত

সুতরাং, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী এবং বসুন্ধরা সিনেমাখ্যাত বাংলাদেশের পরিচালক সুভাষ দত্ত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ঢাকায় তাঁর নিজের বাড়িতে।

বাংলাদেশে সিনেমার শুরুর সময় থেকে যে ক’জন গুণী নির্মাতার হাতে বাংলা সিনেমা সমৃদ্ধ হয়েছে সুভাষ দত্ত ছিলেন তাদেরই একজন। আমৃত্যু সিনেমার সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন।

জন্ম ১৯৩০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। কর্মজীবন শুরু সিনেমার পোস্টার আঁকা দিয়ে। তারপর একে একে শিল্প নির্দেশনা, বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয়, এবং সিনেমা নির্মানসহ অনেকগুলো শাখায় বিচরণ করেছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এবং সিনেমা গবেষক গীতি আরা নাসরিন বলছিলেন বাংলা সিনেমায় নানামুখী অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

“সুভাষ দত্ত বাংলাদেশে ইন্ড্রাস্টিভিত্তিক যে সিনেমা জগত, সেখানে এমন একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করতেন, যার বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল। সামাজিক-বাণিজ্যিক ধারায় কিছু নির্মাণ করলেও, তিনি প্রাণপন চেষ্টা করেছেন, ভালো গল্প কিম্বা উপন্যাসের ভিত্তিতে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে। সিনেমার ভাষায় একটি গল্প বলতে।''

শুক্রবার সকালে ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন রোডে নিজের বাড়িতে মারা যান তিনি। হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন সুভাষ দত্ত।

সহকর্মীরা তার প্রয়াণকে এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন ।

অভিনেত্রী কবরী বিবিসি বাংলাকে বলেন একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর জন্ম সুভাষ দত্তের হাতেই।

''আমার হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর কাছে। সুতরাং সিনেমার জন্য তিনি একটি কিশোরী মেয়েকে খুঁজছিলেন এবং আমাকে তিনি ঐ চরিত্রের জন্য পছন্দ করেন। ''

''যখনই আমরা বাংলা ছবির কোন ক্লিপিংস দেখি, ৬০, ৭০ বা ৮০ দশকের সিনেমাগুলোকে সোনালী দিনের সিনেমা বলা হয়। এবং সেই সময়ের বেশ কয়েকজন পরিচালক সুভাষ দত্ত, খান আতাউর রহমান, জহির রায়হান, ফতে লোহানী ছিলেন। আজ সেই সোনালী দিনের শেষ পরিচালকের মহাপ্রয়ান ঘটল।'' বলেন অভিনেত্রী কবরী।

সুতরাং, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, বসুন্ধরা, আবির্ভাব, নৌকা, পালাবদল, ডুমুরের ফুল, আয়না, নূরী, আলিঙ্গনসহ অনেক দর্শক-নন্দিত ছবি নির্মান করেছেন তিনি। পরে টেলিভিশনের জন্য নাটক ও টেলিফিল্মও তৈরি করেছেন।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি অভিনয় করেছেন মঞ্চেও। ১৯৭২ সালে আরণ্যক নাট্যদলের প্রথম প্রযোজনা ‘কবর’-এ তিনি অভিনয় করেন।

কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা।

শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শনিবার সকালে তার মরদেহ রামকৃষ্ণ মিশনে রাখা হবে। এরপর বেলা ১২টার দিকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

সন্ধ্যায় পোস্তগোলা শ্মশানে এই চলচ্চিত্র নির্মাতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

বুকমার্ক করুন

Email Facebook Google+ Twitter
রিফ্রেশ