BBC Bangla

মূলপাতা > খবর

বেনাপোল সীমান্ত থেকে প্রচুর কচ্ছপ উদ্ধার

Facebook Twitter Google+
28 জুলাই 2012 20:49

আহরার হোসেন

বিবিসি বাংলা, ঢাকা

tortoise

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেনাপোল সীমান্ত থেকে আজ শনিবার ভোরে এক হাজারেরও বেশি কচ্ছপ আটক করেছে সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

বিজিবি সূত্রে বলা হচ্ছে, এগুলো ভারত থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছিল এবং বিজিবির চ্যালেঞ্জের মুখেই পাচারকারীরা কচ্ছপভর্তি বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তে বেশ কয়েকদফা এধরণের কচ্ছপ আটকের ঘটনা ঘটেছে। বন কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় পাচারের জন্য বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা।

বিজিবি বলছে, বেনাপোল স্থলবন্দরের পুটখালী নামে একটি স্থানে শনিবার ভোররাতে টহল দিচ্ছিল তাদের একটি দল। এসময় দুজন মোটরসাইকেল আরোহীকে সন্দেহবশত থামতে বলে তারা।

''আরোহীরা টহলকর্মীদের নির্দেশ উপেক্ষা করে একটি বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ওই বস্তার ভেতর থেকে এক হাজার দুটি কচ্ছপ জীবিতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়।'' বলছিলেন ওই এলাকায় বিজিবির একজন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ।

আটক করা কচ্ছপগুলোকে যশোরে বন বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয়ে হস্তান্তর করেছে বিজিবি।

প্রধান বন সংরক্ষক তপন কুমার দে বলছেন, ''কচ্ছপগুলোর নব্বই ভাগই মূলত দক্ষিণ ভারতের ‘তারকা কচ্ছপ’। এগুলো সাধারণত সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য অ্যাকুরিয়ামে রাখা হয়। বাকিগুলো বাংলাদেশের মাটিতে থাকা কচ্ছপ বা ‘ল্যান্ড টরটয়েজ’।''

মিঃ দে বলছেন, দ্রুত বেড়ে ওঠেনা বলে সব ধরণের কচ্ছপই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। তাই যেকোনো ধরণের কচ্ছপ ধরা কিংবা বিক্রি করা বাংলাদেশের আইনে নিষিদ্ধ।

তিনি জানাচ্ছেন, কচ্ছপগুলো ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এগুলোকে আপাতত ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের উদ্ধারকেন্দ্রে রাখা হবে।

তারকা কচ্ছপ যেহেতু বাংলাদেশে হয় না, সেহেতু এগুলো ভারতে পাঠিয়ে দেবার জন্য সেখানকার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হবে।

এদিকে বিজিবি জানাচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বেনাপোল সীমান্ত থেকে কচ্ছপ আটকের ঘটনা ঘটলো। সবশেষ গত এপ্রিল মাসে সাড়ে তিনশো কচ্ছপ আটক করা হয়।

তপন কুমার দে বলছেন, মূলত দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় পাচারের জন্য বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা।

''বার্মা যায়। সেখান থেকে হংকং, তাইওয়ান হয়ে অন্যখানে যায়। চীনেও যায়। সেখান থেকে আবার সড়কপথে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক হয়ে ইন্দোনেশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে যায়। এসব দেশে কচ্ছপের মাংসের সুপ অত্যন্ত জনপ্রিয় খাদ্য। ভারত থেকে পাচারের জন্য আমাদের দেশটা অনেকটা ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়’।

আটক করা এসব কচ্ছপের দাম কালোবাজারে ত্রিশ লাখ টাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বন্যপ্রাণীহত্যা এবং পাচার ঠেকাতে আরো কঠোর শাস্তির বিধান করে এ মাসের শুরুতেই একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশের সরকার।

তারপরও ঠেকানো যাচ্ছেনা বন্যপ্রাণী পাচার ও নিধন। বন কর্মকর্তারা বলছেন, কচ্ছপের চলমান অবৈধ বাণিজ্যের কারণে ধীরে ধীরে এই অঞ্চল থেকে মিঠা পানির কচ্ছপ বিলীন হতে বসেছে।

বুকমার্ক করুন

Email Facebook Google+ Twitter
রিফ্রেশ