|
প্রসংগ: নদী দখল ও আইনের প্রয়োগ
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
প্যানেল সদস্যরা (বাঁ থেকে): আব্দুল মান্নান খান, ইকবাল হাবীব, উপস্থাপক মিথিলা ফারজানা, তুরিন আফরোজ এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
কথা : কাজল আব্দুল্লাহ্, ছবি: রাসেল মাহমুদ এবারের বাংলাদেশ সংলাপের আয়োজন ছিলো ঢাকায় গত ১০ই অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে। মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় বঙ্গব্ন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এবারের সংলাপের প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবীব এবং ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক ড. তুরিন আফরোজ। আমন্ত্রিত দর্শকরা মিলনায়তনে প্রবেশের সময় যে লিখিত প্রশ্নগুলো জমা দেন প্রতিবারের মতো তা থেকেই বাছাই করে নেয়া হয় এবারের বাংলাদেশ সংলাপের প্রশ্ন সমূহ। প্যানেল সদস্যরা উত্থাপিত প্রশ্নের উপর তাৎক্ষনিকভাবে তাদের বক্তব্য কিংবা মতামত দেন। সেই সাথে উপস্থিত অন্য দর্শকরাও সেইসব প্রশ্নের উপর বিভিন্ন মতামত প্রদানের এবং সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পান। অনুষ্ঠানের প্রথম প্রশ্ন করেন নাজনীন কবির। তিনি জানতে চান নদী দখলের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার কি কি পদক্ষেপ গ্রহন করেছে? বিষয়টি নিয়ে প্রথমেই বলেন মি. ইকবাল হাবীব। তিনি মনে করেন, নদী দখলের বিরুদ্ধে অভিযান এবং নদীর সীমানা চিহ্নিতকরণ বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলা হচ্ছে না।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে তুরাগসহ বিভিন্ন নদীর দখল মুক্ত করার প্রয়াস নেয়া হলেও আবার কিছুদিনের মধ্যেই কিছু অসাধু মহল পুনরায় সেগুলি দখল করছে। তিনি মনে করেন, নদীর পাশাপাশি জলাশয়, সড়ক, বন্যা কবলিত অঞ্চল, খাল দখলের বিরুদ্ধে সরকার ও বিচার বিভাগের একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহন করা প্রয়োজন। আব্দুল মান্নান খান এ প্রসংগে সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। নদী দখলের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানের বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানান, সরকার নদী-নালা, খাল-বিল এবং বন্যা কবলিত এলাকার দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে। এসময় একজন দর্শক মন্তব্য করেন, সকল প্রকার দখলবাজদের বিরুদ্ধে আইন জারি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। দর্শকদের মধ্যে আরেকজন অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনেক প্রতিশ্রুতি প্রদান করলেও সেগুলি বাস্তবায়ন করেন নি। আরেকজন দর্শক প্রশ্ন করেন, সরকারপক্ষের লোকজনই যদি দখলবাজির সাথে যুক্ত হয় তাহলে সাধারণ জনগন কি করবে? আরেকজন দর্শক আব্দুল মান্নান খানকে বলেন, কথায় কথায় পূর্বের ইতিহাস না টেনে ভবিষ্যতের জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে সেটি বলা উচিত। দর্শকদের আরেকজন বলেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও সাংসদ পুত্রের বিরুদ্ধে দখলদারিত্বের অভিযোগে সীতাকুন্ড থানায় কোন মামলা নেয়া হয়নি। তিনি জানতে চান এ ঘটনার পর বিভিন্ন হাউজিং মালিকগন দখলদারিতে উদ্বুদ্ধ হবে কিনা? তুরিন আফরোজ এ প্রসংগে মনে করেন, সাধারণ মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও কতিপয় প্রভাবশালী অসাধু মহলের কারণে দখলদারির মতো ঘটনা ঘটছে। সরকার ও বিরোধী দল আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে গুটিকয়েক অসাধু দখলদারদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দখলবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে সরকারদল ও বিরোধীদলের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এপ্রসঙ্গে বলেন, নদী ভরাট ও দখলের ফলে দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য বিনষ্ট হতে বসেছে। তিনি মনে করেন, নদী দখলের জন্য শুধুমাত্র সরকারকে এককভাবে দায়ী না করে নদী দখলের বিরুদ্ধে সামগ্রিকভাবে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। ইকবাল হাবীব এ প্রসংগে আরও বলতে গিয়ে অভিযোগ করেন, প্রতিটি সরকারই প্রভাবশালী দখলবাজদের প্রশ্রয় দিয়ে আসছে। তিনি মনে করেন, এসব দখলবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলেই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন সফল করা সম্ভব হবে। আব্দুল মান্নান খান এ প্রসংগে যোগ করতে গিয়ে জানান, সরকার দখলবাজসহ সকল আইন অমান্যকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে। তুরিন আফরোজ এ প্রসংগে আরও যোগ করেন, উন্নত বিশ্বের মতো নদী, ভূমি, জলাশয় দখলবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ আদায় করার ব্যবস্থাও থাকা উচিত। সোহেল আহমেদ ছিলেন পরবর্তী প্রশ্নকর্তা। তিনি বলেন, সরকার সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণখাতে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত সরকারি ক্রয়ে অংশগ্রহনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলির কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা লাগবে না। তিনি জানতে চান সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে? প্রথমেই এ প্রশ্নের জবাব দেন মি. খান। তিনি জানান, নতুন ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলির সিন্ডিকেট প্রথা ভাঙ্গার জন্যই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সর্বোচ্চ ২ কোটি পর্যন্ত টাকা গণখাতে ক্রয়ের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলির কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা লাগবে না। এ বিষয়ে মি. আলমগীর বলতে গিয়ে জানান, বিএনপি ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় ক্রয়ক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধ করার জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন করেছিলো। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি কাজের সিংহভাগই সরকারদলীয় ব্যক্তিরা দখল করে নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, গণখাতে ক্রয় ও অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত নতুন আইন দেশের জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।
মি. খান এ প্রসংগে আরও যোগ করতে গিয়ে জানান, গণখাতে ক্রয় ও অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত নতুন আইনের ফলে সকলের জন্য সমান সম্ভাবনার নতুন দ্বার উম্মোচিত হবে। এ সময় একজন দর্শক বলেন, জন্মের সময় কোন মানুষ অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে না, কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা সৃষ্টি হয়। আরেকজন দর্শক জানতে চান, অভিজ্ঞতা ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলি কিভাবে কাজের মান নিশ্চিত করবে? দর্শকদের আরেকজন মনে করেন, গণখাতে ক্রয় ও অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত নতুন আইনের ফলে সকলের কাজের সম্ভাবনা তৈরী হবে। দর্শকদের মধ্যে একজন মি খানের কাছ জানতে চান, সরকার কতদিনের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলির সিন্ডিকেট প্রথা ভাঙ্গতে সক্ষম হবে? আরেকজন মি. খানের কাছে জানতে চান, সরকারী দলের নেতা কর্মীদের বাইরে অন্য ঠিকাদাররা টেন্ডার জমা দিতে না পারলে সেটি কিভাবে সকলের জন্য সমান সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে? মি. হাবীব এ প্রসংগে মনে করেন, সরকারের নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানদের ক্ষেত্রে ক্রয়সীমা ২ কোটি টাকা পর্যন্ত নির্ধারন না করে দিয়ে এই অর্থ পর্যায়ক্রমিকভাবে বন্টন করা উচিত ছিলো। সেইসাথে তিনি আরও যোগ করেন, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং সকলের অংশগ্রহন নিশ্চিত না করতে পারলে সরকারের এই আইন প্রণয়নের প্রকৃত উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তুরিন আফরোজ এ প্রসংগে বলেন, একদম নতুন ঠিকাদারদের ক্ষেত্রে গনখাতে ক্রয়ের অর্থসীমা আরও কমানো উচিত ছিলো।
তিনি মনে করেন, নতুন ঠিকাদাররা অল্প অর্থসীমার মধ্যে কাজ করে প্রথমে নিজেদের প্রমাণ করতে পারলে পরবর্তীতে তাদের অর্থসীমা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। মি. খান এ বিষয়ে আরও বলতে গিয়ে জানান, বর্তমান সরকার দরপত্র নিয়ে সকল ভ্রান্ত ধারনার অবসান ঘটাবে। তিনি আরও জানান, নতুন আইনে শুধুমাত্র একটি স্থানে দরপত্র জমা দেয়ার বিধান বাতিল করার হয়েছে। এর পাশাপাশি ইন্টারনেটে দরপত্র জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নূর মোহাম্মদ ছিলেন পরবর্তী প্রশ্নকর্তা। তার জিজ্ঞাসা ছিলো, বিডিআর বিদ্রোহের মাত্র সাত মাসের মধ্যে কিভাবে ৪৩ জন (গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ৪৭ জন) জওয়ানের মৃত্যু হলো এবং এদের প্রত্যেকেই স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে কিনা? প্রথমেই তুরিন আফরোজ এ প্রসংগে বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের পর মৃত্যুবরণ করা ৪৭ জন জওয়ানদের মধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি অমূলক না হলেও এই ৪৭ মধ্যে কতজন অস্বাভাবিকভাবে মারা গেছে সেটি উদঘাটনের জন্য সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন। এ প্রসংগে মি হাবীব মনে করেন, বিডিআর বিদ্রোহের সাথে জড়িতদের অপরাধের শাস্তি আইনের আওতায় এনে একটি স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মাধ্যমে নয়। একইসাথে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিডিআর বিদ্রোহের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি অস্বাভাবিক মৃত্যু রোধে সরকার আশু পদক্ষেপ গ্রহন করবে। এসময় একজন দর্শক মনে করেন, বিডিআর বিদ্রোহে জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনা উচিত। দর্শকদের মধ্যে আরেকজন বলেন, দেশের স্বার্থে হত্যার রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত। আরেকজন দর্শক মনে করেন, সবার আগে পিলখানা হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করতে হবে। দর্শকদের একজন সরকারের কাছে জানতে চান, কবে নাগাদ পিলখানা হত্যাকান্ডের বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব হবে? বিষয়টি নিয়ে মি. আলমগীর পিলখানা হত্যাকান্ডকে দেশের নিরাপত্তার উপর সবচেয়ে বড় আঘাত বলে অভিহিত করেন। একইসাথে তিনি মনে করেন, স্বচ্ছতার সাথে পিলখানা হত্যাকান্ডের তদন্ত করা হলে জওয়ানদের অস্বাভাবিক মৃত্যু হতো না। মি. খান জানান, সরকার পিলখানা হত্যাকান্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে নিয়ে এ সংক্রান্ত দুটি মামলার বিচারকাজ অব্যহত রেখেছে। এর পাশাপাশি তিনি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে মতামত দেন। এবারের বাংলাদেশ সংলাপের সর্বশেষ প্রশ্নকারী ছিলেন মো. আসাদুজ্জামান রিগান। তিনি সরকার দলীয় প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সারা বাংলাদেশে সারের ডিলারশিপ শুধু ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই কেন পাচ্ছেন? শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই বাংলাদেশে সারের সাব-ডিলারশিপ পাচ্ছেন এই অভিযোগকে মি. খান ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট বলে দাবি করেন। মি. আলমগীর এ প্রসংগে বলতে গিয়ে জানান, সারের সাব-ডিলারশিপের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সুপারিশ লাগে। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে সারের সাব-ডিলারশিপের প্রায় ৯৯ শতাংশ সরকার দলীয় সমর্থকরা পাচ্ছেন। মি. আলমগীরের বক্তব্যের রেশ ধরে মি. খান জানান, যে সকল চেয়ারম্যানদের সুপারিশে সারের সাব-ডিলারশিপ দেয়া হয় তাদের সিংহভাগই চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন নির্বাচিত হয়েছেন। এসময় একজন দর্শক অভিযোগ করেন, অনেকক্ষেত্রে চেয়ারম্যান কোন ডিলারের নাম প্রস্তাব করলেও থানা পর্যায়ে টিএনও’র হস্তক্ষেপে গিয়ে সেটি
সরকারি দলের মর্জিমাফিক পরিবর্তিত হচ্ছে। মি. হাবীব এই প্রসঙ্গে মনে করেন, সাব-ডিলারশিপ সংক্রান্ত সুবিধা দেয়ার স্বচ্ছতার অভাবের কারণেই জনমনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একইসাথে তিনি অভিযোগ করেন, অসাধু উপায়ে বিভিন্ন সুবিধা আদায়কারীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও সরকার দলীয় নেতাকর্মী বা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে যারা বিভিন্ন সুবিধা আদায় করছেন তাদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। তুরিন আফরোজ এ বিষয়ে বলতে গিয়ে মনে করেন, সারের সাব-ডিলারশিপ নিয়ে একটি সিন্ডিকেটের আশংকা একবোরে উড়িয়ে দেয়া যায় না। তিনি জানান, নভেম্বরের আগে সরকার এই সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোন অবস্থান না নিতে পারলে কৃষকেরা উপকৃত হবে না। সেইসাথে তিনি মনে করেন, কৃষকের সারের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ বিষয়ে সরকারের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। মি. খান এ প্রসঙ্গে আরও যোগ করতে গিয়ে বলেন, সারের ডিলারশিপ নিয়ে দলীয়করণের অভিযোগ তিনি খতিয়ে দেখবেন। এর পাশাপাশি তিনি জানান, যাদেরকে সারের ডিলারশিপ দেয়া হয়েছে তারা যাতে সরকারী বিধি মনে চলে সেটি নিশ্চিত করা হবে। সবশেষে মি. আলমগীর অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের আমলে ইউরিয়া সারের মূল্য চার দলীয় জোট সরকারের তুলনায় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে এবং আমদানীকৃত সারের উপর ভর্তূকি পুরোপুরি উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানটি বিবিসি বাংলায় প্রচারিত হয় গত ১১ই অক্টোবর, ২০০৯ প্রবাহ অধিবেশনে। বাংলাদেশ সংলাপ প্রযোজনা করেছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ। |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||