BBCBengali.com
BBCHindi.com
BBCNepali.com
BBCSinhala.com
BBCTamil.com
BBCUrdu.com
 
সর্বশেষ আপডেট: 30 সেপ্টেম্বর, 2009 - প্রকাশের সময় 11:45 GMT
 
বন্ধুকে ইমেইল করুন   ছাপার উপযোগী সংস্করণ
দেশীয়ভাবে গ্যাস উত্তোলন সম্ভব?
 
panelists

প্যানেল সদস্যরা (বাঁ থেকে): সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, এম.এম. আকাশ, উপস্থাপক মিথিলা ফারজানা, সেলিমা আহমেদ এবং আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলন।

কথা : কাজল আব্দুল্লাহ্ , ছবি: রাসেল মাহমুদ

এবারের বাংলাদেশ সংলাপের আয়োজন ছিলো ঢাকায় গত ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ তারিখে। মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এবারের সংলাপের প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম.এম. আকাশ এবং বাংলাদেশ উইমেন্স চেম্বার অফ কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর প্রেসিডেন্ট সেলিমা আহমেদ।

অনুষ্ঠানের প্রথম প্রশ্ন করেন নার্গিস সুলতানা। তিনি জানতে চান, সম্প্রতি দুটি বিদেশী কোম্পানিকে বঙ্গোপসাগরের তেল-গ্যাস উত্তোলনের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে সেটি কতটুকু যৌক্তিক?

audience

বিষয়টি নিয়ে প্রথমেই বলেন এম.এম. আকাশ। তিনি মনে করেন, দেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানির সহায়তা নেয়া যেতে পারে, কিন্তু চুক্তির শর্তের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া জরুরি।

তিনি জানান, তেল-গ্যাস উত্তোলনে বর্তমানে বিদেশি কোম্পানির উপর যে শর্তগুলি আরোপ করা হচ্ছে তার ফলে উত্তোলিত গ্যাসের প্রায় শতভাগই দেশের বাইরে চলে যায়।

তিনি মনে করেন গ্যাস উত্তোলনের চুক্তিতে উল্লেখিত, উত্তোলিত গ্যাস রপ্তানির সুযোগ না রেখে চুক্তির শর্তগুলিকে পরিমার্জন করে পুনরায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহবান করা উচিত।

আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলন এ প্রসংগে মি. আকাশের সাথে একমত পোষণ করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের মাথায় রাখা উচিত যে তারা ভবিষ্যত বাংলাদেশের জন্য কি রেখে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, দেশের চাহিদা না মিটিয়ে বিদেশে গ্যাস রপ্তানি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

এসময় একজন দর্শক জানতে চান, বাংলাদেশী জনশক্তি তেল-গ্যাস উত্তোলনের আধুনিক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত কিনা?

দর্শকদের মধ্যে আরেকজন জানতে চান, তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রযুক্তি উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার কি ভূমিকা পালন করছেন?

আরেকজন দর্শক প্রশ্ন করেন, বাপেক্সকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহন না করে বিদেশি কোম্পানিকে তেল-গ্যাস ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত কতটুকু যৌক্তিক ছিলো?

এম.এম. আকাশ
mm akash
 তেল-গ্যাস উত্তোলনে আমাদের প্রযুক্তি না থাকলে বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে আমরা যেতেই পারি, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কি শর্তে?
 

সেলিমা আহমেদ এ বিষয়ে জানান, বাংলাদেশের জনগণ এবং ব্যবসায়ী গোষ্ঠী তাদের চাহিদা মোতাবেক গ্যাস পাচ্ছেন না। তিনি মনে করেন, স্থানীয় চাহিদা পূরণ না করে গ্যাস রপ্তানি করা ঠিক নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সরকার ভবিষ্যত চিন্তা না করেই কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে যার ফলে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহনের আশংকা থাকে।

সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এ প্রসংগে জানান, বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত নেবে না। তিনি আরও জানান, বিদেশী কোম্পানির সাথে তেল গ্যাস ইজারা চুক্তিতে দেশের স্বার্থ বিরোধী কোন শর্ত থাকলে সেটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বাতিল করা হবে।

তিনি গ্যাস নিয়ে আন্দোলনরত ব্যক্তিদের উপর পুলিশী হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানান, আন্দোলনকারী এবং সরকার কেউ কারো প্রতিপক্ষ নয়।

দর্শকদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এম.এম. আকাশ পেট্রোবাংলার একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানান, তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের স্থলভাগের প্রযুক্তি বাপেক্সের কাছে আছে।

তিনি আরও জানান, বাপেক্সের একটি রিগের সাথে আরও দুটি রিগ সংযোজন করা গেলে দেড় বছরের মধ্যে বর্তমান কূপ থেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

একইসাথে তিনি জানান, নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে গ্যাস উত্তোলনের ব্যয় (১০০ মিলিয়ন ডলার) মেটানোর তহবিল বাপেক্সের অধীনে কোম্পানিগুলির লাভ হিসেবে ব্যাংকে জমা আছে।

সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এ প্রসংগে আরও বলেন, বাপেক্সকে এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার গুরুত্বের সাথে কাজ করবে।

audience

এরপর প্রশ্ন করেন মোল্লা ওহিদুল ইসলাম। তিনি জানতে চান, পোশাকশিল্পের মন্দা মোকাবেলায় সরকারের সদিচ্ছার অভাব দেখা যাচ্ছে কিনা?

প্রথমেই এ প্রশ্নের জবাব দেন মি. মিলন। তিনি জানান, পোশাকশিল্পের মন্দা মোকাবেলায় সরকারের সদিচ্ছার যথেষ্ট অভাব দেখা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, উন্নত বিশ্বে মন্দা দেখা দিলেও বাংলাদেশ সরকার এটি প্রতিরোধে আগাম কোন ব্যবস্থা গ্রহন করে নি।

এ প্রসংগে সেলিমা আহমেদ জানান, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মন্দা মোকাবেলার জন্য বেসরকারি খাতে সরকারীভাবে অর্থের যোগান দেয়া হয়েছে।

তিনি মনে করেন, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ছাড়া এদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেইসাথে তিনি বলেন, বেসরকারী খাতের উন্নয়নের জন্য শ্রমিকপক্ষের প্রতি একতরফাভাবে সহানুভূতিশীল না হয়ে মালিকপক্ষের প্রতিও সহানুভূতি দেখাতে হবে।

এসময় একজন দর্শক জানতে চান, পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় বাড়লেও পোশাক শিল্প মালিকরা কেন শ্রমিকদের ঈদের বোনাস দেয়ার নামে সরকারের কাছে প্রণোদনা চাইছেন?

আরেকজন দর্শক জানতে চান, মন্দা মোকাবেলায় সরকার যে পদক্ষেপগুলি নিয়েছে সেগুলি বৈশ্বিক অর্থনীতির তুলনায় কতটুকু যুক্তিযুক্ত?

দর্শকদের একজন জানতে চান, পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের রেশনিং পদ্ধতিতে আনার জন্য সরকার কি ভাবছে?

সেলিমা আহমেদ
selima ahmed
 বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে সরকারই আসে তারা ভবিষ্যতটা অনেক সময় চিন্তা করে না।
 

মি. আকাশ এ প্রসংগে জানান, সরকার মন্দা মোকাবেলায় যে তহবিল গঠন করেছে সেটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পখাতকে দিতে হবে। একইসাথে তিনি মনে করেন, পোশাকশিল্পের এমন কোন ক্ষতি হয়নি যে তাদের প্রণোদনা দিতে হবে।

তিনি আরও মনে করেন, ঈদ বোনাস দেয়ার নামে শ্রমিকদের জিম্মি করে সরকারকে ব্লাকমেইল করার জন্য বিজিএমইএ সরকারের কাছে অর্থ দাবি করেছে।

মি. আলী এ বিষয়ে মনে করেন, ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন এবং বোনাস দেয়া মালিকের কর্তব্য এর সাথে প্রণোদনার কোন সম্পর্ক নেই। তিনি উল্লেখ করেন, মন্দার পরে বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশী পোশাকের চাহিদা বেড়েছে।

তিনি জানান, যেহেতু পোশাক মালিকদের ব্যবসা ভালো হচ্ছে, কাজেই এই খাতের তুলনায় দুর্বল খাতগুলির সরকারী প্রণোদনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

সেলিমা আহমেদ এ প্রসংগে যোগ করতে গিয়ে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত পোশাক শিল্পের প্রণোদনার প্রয়োজন সংক্রান্ত সঠিক তথ্য জনগণকে সরবরাহ করা।

মি. আলী আরও যোগ করেন, সরকার শ্রমিক, মালিক উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় সমান সচেতন। তিনি পোশাক শিল্প মালিকদের জানান, শ্রমিকদের প্রণোদনার বিষয়টি এমন পর্যায়ে নেয়া উচিত নয় যাতে পোশাক শিল্প খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সাথে তিনি শ্রমিকদের দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার আহবান জানান।

মি. আকাশ এ প্রসংগে যোগ করেন, সারা বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতন সবচেয়ে কম।

ehsanul huq milan
এহছানুল হক মিলন

কাজী কিবরিয়া ছিলেন পরবর্তী প্রশ্নকর্তা। তিনি জানতে চান, সরকার সোয়াইন ফ্লু মোকাবেলা করার জন্য যে প্রস্তুতি নিয়েছে সেটি সন্তোষজনক কিনা?

প্রথমেই এ প্রশ্নের জবাব দেন সেলিমা আহমেদ। তিনি মনে করেন সোয়াইন ফ্লু মোকাবেলায় সরকার কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করলেও গ্রাম পর্যায়ে সোয়াইন ফ্লু সম্বন্ধে প্রচারণা এবং চিকিৎসার দিকে একটু বেশী নজর দেয়া উচিত।

মি. মিলন এ প্রসংগে তার মতামত দিতে গিয়ে মনে করেন, সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধে সরকার যথাযথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এসময় একজন দর্শক মনে করেন, সরকার বেসরকারী সংগঠনগুলিকে সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধের প্রশিক্ষণ দিলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর সুফল পাওয়া যাবে।

আরেকজন দর্শক মনে করেন, সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধে সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাব আছে।

দর্শকদের একজন বলেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি থেকে অর্থ হাতানোর জন্য সোয়াইন ফ্লু’র নামে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।

আরেকজন দর্শক মনে করেন, সোয়াইন ফ্লু মোকাবেলায় সরকারের কথা এবং কাজের মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

একজন দর্শক জানতে চান, সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রয়োগের কোন পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা?

মি. আকাশ বিষয়টি নিয়ে মনে করেন, দাম বেশী হলে গরিব মানুষ কিভাবে সোয়াইন ফ্লু’র প্রতিষেধক পাবে সেটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।

সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী
 সোয়াইন ফ্লু মোকাবেলায় আমরা প্রথম থেকেই প্রস্তুত৻
 

একই সাথে তিনি মনে করেন, দেশী কোন ওষুধ কোম্পানি সোয়াইন ফ্লু’র প্রতিষেধক তৈরি করতে সমর্থ হলে সেই প্রতিষ্ঠানের তৈরি প্রতিষেধক বাংলাদেশে বাজারজাত করা উচিত।

মি. আলী এ প্রসংগে জানান, সরকার সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলো এবং সবাই এ ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে কাজ করেছে।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভ্ন্নি স্থানে ঘুরে তার কাছে সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধে দেশের সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক মনে হয়েছে। তিনি সবাইকে সোয়াইন ফ্লু নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন।

এসময় প্রশ্নকর্তা কাজী কিবরিয়া বলেন, সরকার সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধের আশ্বাস দিলেও বিষয়টি নিয়ে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত।

মি. আলী সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, সোয়াইন ফ্লু নিয়ে শঙ্কার কোন কারণ নেই।

মো. নুরুল করিম ছিলেন পরবর্তী প্রশ্নকর্তা। তিনি জানতে চান, সরকারের মন্ত্রী পরিষদের পাশাপাশি যে উপদেষ্টা পরিষদ আছে, তার জোরালো সাংবিধানিক ভিত্তি না থাকলে তারা যে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন সেটি বৈধতা পাবে কিনা?

প্রথমেই এ প্রশ্নের জবাব দেন মি. আকাশ। তিনি বলেন, উপদেষ্টা ও মন্ত্রীদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেশের প্রতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি মনে করেন, উপদেষ্টা এবং মন্ত্রীদের একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবার বিষয়ে সরকারকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

মি. মিলন এ প্রসংগে বলেন, নিজেদের সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ভাবার ফলে রাজনীতিবিদরা কারো উপদেশ সহ্য করতে পারেন না। তিনিও মনে করেন, উপদেষ্টা এবং মন্ত্রীদের ভেতরকার দ্বন্দ্ব দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য শুভকর নয়।

এসময় একজন দর্শক মি. মিলনের কাছে জানতে চান, বিএনপির সময়ে উপদেষ্টাদের মধ্যে সাংবিধানিক ধারা বজায় ছিলো কিনা?

আরেকজন দর্শক জানতে চান, মন্ত্রীপরিষদের ব্যর্থতার কারণেই কি সরকার উপদেষ্টাদের উপর নির্ভর করছেন?

দর্শকদের মধ্যে একজনের জিজ্ঞাসা ছিলো মন্ত্রী পরিষদের অপেক্ষাকৃত নতুন মুখ উপদেষ্টা ও মন্ত্রীদের ভেতরকার দ্বন্দ্বের কারণ কিনা?

দর্শকদের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মি. মিলন জানান, বিএনপির সময়ে যারা উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন তারা মন্ত্রীদের কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেন নি।

সেলিমা আহমেদ এ বিষয়ে মনে করেন, মন্ত্রীদের সহায়ক শক্তি হিসেবে উপদেষ্টাদের থাকা উচিত। তিনি আরও মনে করেন, উপদেষ্টা ও মন্ত্রীদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেশের নেতৃত্বকে বিভাজন করে।

একই সাথে তিনি মনে করেন, মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বিষয়টি খোলাসা করতে সরকারের আরও বলিষ্ট ভূমিকা প্রয়োজন।

মি. আলী এপ্রসঙ্গে বলেন, মন্ত্রী-উপদেষ্টা সবাই মিলে দেশের স্বার্থে কাজ করা উচিত। তিনি জানান, উপদেষ্টাদের কাজ শুধু সরকারকে পরামর্শ প্রদান করা।

তিনি আরও জানান, উপদেষ্টাদের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করার কোন ক্ষমতা নেই।

এবারের সংলাপের সর্বশেষ প্রশ্নকারী ছিলেন মো রেজাউল করিম বাবু। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিটি সরকারি এবং বেসরকারি চাকরির আবেদন পত্রের সাথে পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডার করতে হয়।

তিনি জানতে চান, বেকার যুবকদের কথা মাথায় রেখে সরকার এমন কোন ঘোষণা জারি করতে পারে কিনা যাতে সরকারি-বেসরকারি চাকরির আবেদন পত্রের সাথে কোন পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডার না করতে হয়?

প্রথমেই এ প্রশ্নের জবাব দেন মি. মিলন। তিনি মনে করেন, প্রতিটি পরিবার থেকে কমপক্ষে একজনকে চাকরি দেয়ার ঘোষণা দেয়াটা সরকারের উচিত হয়নি।

সেলিমা আহমেদ বলেন, চাকরির আবেদন পত্রের সাথে পে-অর্ডার সংশ্লিষ্ট চাকরির প্রতি আবেদনকারীর সদিচ্ছার বর্হিপ্রকাশ।

বিষয়টি নিয়ে মি. আকাশও মনে করেন, পে-অর্ডারের হাত থেকে বেকার যুবকদের রেহাই দেয়া উচিত।

সবশেষে মি. আলী এ প্রসংগে মনে করেন, চাকরির আবেদনপত্রের সাথে পে-অর্ডার না নিয়ে, উন্নত বিশ্বের মতো বেকারদের প্রণোদনা দেয়া উচিত।

(অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয় গত ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিবিসি বাংলার ‘প্রবাহ’ অধিবেশনে৻)

বাংলাদেশ সংলাপ প্রযোজনা করেছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ।

 
 
স্থানীয় লিংকস্
সর্বশেষ সংবাদ
 
 
বন্ধুকে ইমেইল করুন   ছাপার উপযোগী সংস্করণ
 
  RSS News Feed
 
BBC Copyright Logo ^^ পাতার শুরুতে
 
  প্রথম পাতা | বিশেষ আয়োজন | অনুষ্ঠান| বেতার তরঙ্গ | আবহাওয়া
 
  BBC News >> | BBC Sport >> | BBC Weather >> | BBC World Service >> | BBC Languages >>
 
  আমাদের সম্পর্কে | যোগাযোগ | সাহায্যের বোতাম | গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিবৃতি