|
সেনা প্রত্যাহার ও জননিরাপত্তা
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
প্যানেল সদস্যরা (বাঁ থেকে): শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ড. সেলিম রায়হান, উপস্থাপক মিথিলা ফারজানা, মেহেরীন মাহমুদ এবং জুনায়েদ
আহমেদ পলক।
কথা: কাজল আব্দুল্লাহ্ , ছবি: রাসেল মাহমুদ এবারের বাংলাদেশ সংলাপের আয়োজন ছিলো ঢাকায় গত ১৫ই আগস্ট, ২০০৯ তারিখে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় এবারের আয়োজনে সকল প্যানেল সদস্যই ছিলেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি। এরা হলেন: বিএনপির সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য জুনায়েদ আহমেদ পলক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, এবং সংগীত শিল্পী মেহেরীন মাহমুদ।
আমন্ত্রিত দর্শকরা মিলনায়তনে প্রবেশের সময় যে লিখিত প্রশ্নগুলো জমা দেন প্রতিবারের মতো তা থেকেই বাছাই করে নেয়া হয় এবারের বাংলাদেশ সংলাপের প্রশ্ন সমূহ। প্যানেল সদস্যরা উত্থাপিত প্রশ্নের উপর তাৎক্ষনিকভাবে তাদের বক্তব্য কিংবা মতামত দেন। সেই সাথে উপস্থিত অন্য দর্শকরাও সেইসব প্রশ্নের উপর বিভিন্ন মতামত প্রদানের এবং সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পান। অনুষ্ঠানের প্রথম প্রশ্ন করেন নাজমুল হক। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সাথে বাণিজ্যমন্ত্রীর কয়েক দফা আলোচনার পরও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হচ্ছেই। তিনি জানতে চান এর সমাধান কি?
বিষয়টি নিয়ে প্রথমেই বলেন জুনায়েদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও রমজান মাসকে সামনে রেখে কিছু ব্যবসায়ী ব্যক্তিগতভাবে অধিক লাভবান হতে চাইছেন। তিনি বলেন, বাজারে কোন পণ্যের সংকট দেখা দিলে টিসিবি’র মাধ্যমে আমদানি করে বাজারে সংশ্লিষ্ট পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা হবে। তিনি জানান, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে উপজেলা পর্যায়ে টিসিবি’র ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। সেলিম রায়হান এ প্রসংগে জুনায়েদ আহমেদ পলকের সাথে একমত পোষণ করেন। তবে তিনি মনে করেন, বাজার সরবরাহ ঠিক রাখার যে হাতিয়ারগুলি সরকারের কাছে রয়েছে, সেগুলি ব্যবহারে সরকার কিছুটা সময়ক্ষেপন করছেন। এসময় একজন দর্শক বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমদানী শুল্ক কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। তিনি জানতে চান আমদানী শুল্ক কমানোর ফলে বাজেটে যে ঘাটতি দেখা দিবে সেটির প্রভাব অন্যান্য খাতের উপর পড়বে কিনা? দর্শকদের মধ্যে আরেকজন মনে করেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দেশের কিছু পদ্ধতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন। আরেকজন দর্শক সরকার দলীয় সাংসদের কাছে জানতে চান, পণ্যের মজুতদারি তাৎক্ষনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় কেন? আরেকজন দর্শকের জিজ্ঞাসা ছিল টিসিবি’র নিয়োগকৃত ডিলারের কাছে পণ্য যাওয়ার পরও দ্রব্যমূল্য জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার বিষয়ে জনগণ কতটুকু আশ্বস্ত হবে?
দর্শকদের একজন জানান, বাজারে সরবরাহের ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও পণ্য সবসময় বাড়তি দামে কিনতে হয়েছে। তিনি প্যানেল সদস্যদের কাছে এর কারণ জানতে চান। মেহেরীন মাহমুদ বিষয়টি নিয়ে বলতে গিয়ে মনে করেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। তিনি আরও মনে করেন, জনপ্রতিনিধিরা জনতার কাতারে এসে বিচার করলে বিষয়টির সমাধান হওয়া সম্ভব। এ প্রসংগে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি মনে করেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার ব্যর্থতা সরকারের নেয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী রমজান মাসে টিসিবি’র মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানোর আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত টিসিবিকে কার্যকর করা হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন বাংলাদেশে পণ্য আমদানী কেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের ফলে ক্ষুদ্র আমদানীকারকরা আমদানী করতে পারছেন না। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ক্ষুদ্র আমদানীকারকদের আমদানীতে কোন প্রকার বাঁধা নেই। তিনি জানান, কোন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে সংশ্লিষ্ট সেই পণ্যটিকে আমদানী করে বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখাটাই ছিল টিসিবি’র মূল উদ্দেশ্য। তিনি জানান, পণ্যের মজুতদারি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী নিজে বাজারে অভিযান চালিয়েছেন এবং এর পাশাপাশি বাজার পর্যবেক্ষক দল গঠন করা হচ্ছে। দর্শকদের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমদানী শুল্ক কমানোর ফলে বাজেটে যে ঘাটতি দেখা দিবে সেটি মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত কোন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সম্পূরক বাজেটের মাধ্যমে সমন্বয় সাধন করা হবে। সেলিম রায়হান এ প্রসংগে আরও যোগ করেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি মাথায় রেখে টিসিবিকে কার্যকর করা উচিত। তিনি মনে করেন, সরকার টিসিবিকে কার্যকর করতে কিছুটা সময়ক্ষেপন করছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে পণ্যের আমদানী শুল্ক কমিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানোর কৌশল খুব একটা কার্যকরী নয়; বরঞ্চ এর ফলে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়। একইসাথে তিনি উল্লেখ করেন ব্যবসায়ীদের মজুতদারি ঠেকানোর জন্য একটি স্থায়ী মনিটরিং সিস্টেম থাকা উচিত।
জুনায়েদ আহমেদ পলক তার মতামত দিতে গিয়ে আরও যোগ করেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে স্থায়ী মনিটরিং সিস্টেমের পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রে আমদানী নির্ভর না হয়ে উৎপাদনে অধিক মনোযোগ দিতে হবে। শেখ মাহামুদ উল্লাহ আল মাশুক ছিলেন পরবর্তী প্রশ্নকর্তা। তিনি জানতে চান পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার সেখানকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি স্বরূপ নয় কি? এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মি. চৌধুরী মনে করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হলে সেখানকার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তিনি মনে করেন, পার্বত্য এলাকা থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হলে সীমান্তবর্তী এলাকা যেমনি সংশ্লিষ্ট সীমান্তবর্তী দেশের সেনাবাহিনীর আগ্রাসনের শিকার হবে, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী অপরাধ চক্রের তৎপরতাও বেড়ে যাবে। এ বিষয়ে মি. আহমেদ বলেন, শুধুমাত্র পার্বত্য এলাকা থেকে সেনাবাহিনী প্রতাহার করা হচ্ছে; সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নয়। তিনি জানান, পার্বত্য এলাকায় শান্তিচুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের আলোকে দেশের সীমান্তকে আগলে রেখেই সেখান থেকে পর্যায়ক্রমিকভাবে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এসময় একজন দর্শক জানান যে তিনি মনে করেন, পার্বত্য এলাকায় সেনাবহিনীর অবস্থানের কারণেই সেখানে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করেছে। আরেকজন দর্শক মন্তব্য করেন পার্বত্য এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে সেখানকার বাঙালিরা কেন বাঁধা দিচ্ছেন বিষয়টি সরকারের অনুধাবন করা উচিত। দর্শকদের একজন মনে করেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের জন্য পার্বত্য এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হলেও বাংলাদেশের জন্য সেটি হবে অশান্তিরই নামান্তর। একজন দর্শকের জিজ্ঞাসা ছিল, ভূমি সংকটের সুরাহা ছাড়া পার্বত্য সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কিনা? এ বিষয়ে মি. রায়হান মনে করেন, সেনাবাহিনী প্রত্যাহার পার্বত্য এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার সামগ্রিক সমাধানের একটি অংশ মাত্র।
তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রধান অন্তরায় হচ্ছে ভূমি সমস্যার সমাধান। তিনি মনে করেন পার্বত্যবাসীদের ন্যায্য ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা করে প্রত্যেক জাতিসত্ত্বাকে সম-অধিকার প্রদান করলেই কেবল পার্বত্য এলাকায় শান্তি স্থাপন সম্ভব হবে। এ প্রসংগে মি. আহমেদ যোগ করেন, জোর করে কোন কিছু চাপিয়ে দিয়ে শান্তি স্থাপন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বর্তমানে যে ভূমি সংস্কার আইন প্রণীত হয়েছে সেটি পার্বত্য এলাকার সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়ন করা হবে। একইসাথে তিনি উল্লেখ করেন, পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত সকল অধিবাসীদের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংসদে উত্থাপন করা হবে। মি. চৌধুরী এ প্রসংগে যোগ করেন, ভূমি সমস্যার সমাধান ছাড়া পার্বত্য এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা কোনভাবেই উচিত হবে না। এরপর প্রশ্ন করেন মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান। তিনি জানতে চান সারাদেশে ছিনতাই, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে কেন? প্রথমেই এ প্রশ্নের জবাব দেন মেহেরীন মাহমুদ। সারাদেশে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বিষয়টি জনগণের নিরাপত্তাবোধের প্রতি একটি বিরাট আঘাত। মি. চৌধুরী এ প্রসংগে বলেন, বর্তমানে সারাদেশে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এসময় একজন দর্শক দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক বিচার বহির্ভূত সন্ত্রাসী হত্যার পক্ষে সাফাই গান। আরেকজন দর্শক মনে করেন, দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নের সরকারের এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। দর্শকদের একজন মতামত দেন, বর্তমান সরকারের কাছে জনগণ নিরাপত্তার পাশাপাশি কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য দেখতে চায়। এসকল প্রশ্নের জবাবে মি. আহমেদ সারাদেশে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেন অশিক্ষা, মাদক এবং দারিদ্রের প্রকোপ। তিনি বলেন, আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার তৎপর আছে এবং বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়েছে। মি রায়হান বলেন, তিনি মনে করেন, দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী, আধুনিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া উচিত। এরপর প্রশ্ন করেন গোপাল কর্মকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি - এ দুটি বড় দলই নিজেদের গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত বলে দাবি করে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে দল দুটির ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তিনি তরুণ প্যানেল সদস্যদের কাছে জানতে চান, তরুণ নেতৃত্ব এ ধারাটি পরিবর্তনের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী? বিষয়টি নিয়ে মি রায়হান বলতে গিয়ে মনে করেন, বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা থাকলেও এদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তিনি দলের প্রতিটি স্তরে গণতন্ত্র এবং পরমত সহিষ্ণুতার চর্চা বজায় রাখার জন্য দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলকে আহবান জানান। মেহেরীন মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার চেয়েও সাধারণ মানুষের শান্তির বিষয়টি তার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এসময় একজন দর্শক প্যানেল সদস্যদের কাছে জানতে চান দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সরকারদল ও বিরোধী দলকে একত্রিত করা যায় না? আরেকজন দর্শক জানতে চান শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য জনগণের নাগরিক অধিকার হলেও সরকারী হাসপাতালে টিকিট কেটে ঢোকার নিয়ম কোন ধরনের গণতন্ত্র? এসকল প্রশ্নের জবাবে মি. আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তরুণ প্রজন্ম কর্তৃক গণতান্ত্রিক চর্চার সংস্কৃতি বাংলাদেশে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তিনি জানান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কাউন্সিলেই গণতন্ত্রের প্রতিফলন ছিল। মি. চৌধুরী এ বিষয়ে মনে করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কাউন্সিলেই সুষ্ঠু গণতন্ত্রের প্রতিফলন ঘটেনি। তিনি জানান, বর্তমানে বিএনপি দলের প্রতিটি স্তরে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা শুরু করেছে। তিনি আরও যোগ করেন সরকারদল ও বিরোধী দলের সমন্বিত শক্তি হিসেবে কাজ করার জন্য দুটি দলের আন্তরিকতাই বিশেষভাবে প্রয়োজন। এবারের অনুষ্ঠানের সর্বশেষ প্রশ্নকারী ছিলেন মো. রিয়াজুল ইসলাম। তিনি জানতে চান বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিমান কেনার প্রস্তাব কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? প্রথমেই এ প্রশ্নের জবাব দেন মি. আহমেদ। তিনি জানান, বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিমান কেনার বিষয়টি এখনও বিবেচনা পর্যায়ে আছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখলে তাদের জন্য বিমান কেনার প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের কোন অবকাশ নেই। মেহেরীন মাহমুদ এ প্রসংগে মনে করেন, ব্যক্তিগত বিমানের সংস্কৃতি বাংলাদেশে আসা উচিত। মি. রায়হান বলেন তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিমান ক্রয়ের আগে দেশের জনগণের সুবিধার কথা মাথায় রেখে যাত্রীবাহী বিমানের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা উচিত। এ সকল প্রশ্নের জবাবে মি. চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে রাষ্ট্রপতির এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিমান কেনার কোন যৌক্তিকতা নেই। (অনুষ্ঠানটি বিবিসি বাংলায় প্রচারিত হয় গত ১৬ই আগস্ট, ২০০৯ বিবিসি বাংলার ‘প্রবাহ’ অধিবেশনে৻) বাংলাদেশ সংলাপ প্রযোজনা করেছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ। |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||