|
টিপাইমুখ বাঁধ পানি আগ্রাসন?
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
প্যানেল সদস্যরা (বাঁ থেকে): আবদুস শহিদ , আ.ল.ম. ফজলুর রহমান, উপস্থাপক মিথিলা ফারজানা, নূরুল কবীর এবং জয়নুল আবেদীন ফারুক।
কথা : কাজল আব্দুল্লাহ্ , ছবি: রাসেল মাহমুদ বাংলাদেশ সংলাপের এবারের আয়োজন ছিলো ঢাকায় গত ৩০শে মে, ২০০৯ তারিখে। সঞ্চালনায় ছিলেন মিথিলা ফারজানা এবং প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আবদুস শহিদ, বিএনপি নেতা ও সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুক, বিডিআর-এর সাবেক মহাপরিচালক আবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ.ল.ম. ফজলুর রহমান এবং ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’-পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর।
আমন্ত্রিত দর্শকরা মিলনায়তনে প্রবেশের সময় যে লিখিত প্রশ্নগুলো জমা দেন প্রতিবারের মতো তা থেকেই বাছাই করে নেয়া হয় এবারের বাংলাদেশ সংলাপের প্রশ্ন। প্যানেল সদস্যরা উত্থাপিত প্রশ্নের উপর তাৎক্ষনিকভাবে তাদের বক্তব্য, মতামত অথবা মন্তব্য প্রদান করেন, সেই সাথে উপস্থিত অন্য দর্শকরাও প্রশ্নের উপর বিভিন্ন মতামত প্রদানের এবং সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পান। অনুষ্ঠানের প্রথম প্রশ্ন করেন, বদরুল ইসলাম। পিলখানা হত্যাকান্ডের সরকারী তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের রেশ ধরে তিনি জানতে চান এই হত্যাকান্ডের মূল কুশীলবদের আদৌ চিহ্নিত করা যাবে কিনা? বিষয়টি নিয়ে প্রথমেই বলেন নূরুল কবীর। তিনি জানান পিলখানা হত্যাকান্ড বাংলাদেশের জাতীয় এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য কত ভয়ংকর হুমকি ছিলো এটা যদি সরকার উপলব্ধি করে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে তাহলে অবশ্যই এই হত্যাকান্ডের মূল হোতাদের বের করা সম্ভব। এছাড়া তিনি মনে করেন ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য পিলখানা হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের বের করা খুব বেশী দরকার।
আ.ল.ম. ফজলুর রহমান পিলখানা হত্যাকান্ডের মূল কুশীলবদের চিহ্নিত করার জন্য আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। সেইসাথে তিনি জানান, মূল কুশীলবদের চিহ্নিত করার পরেই পিলখানা হত্যাকান্ডের বিচারকাজ শুরু করা উচিত। এসময় একজন দর্শক মনে করেন সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে পিলখানা হত্যাকান্ড সম্পর্কে সিংহভাগ স্পষ্ট ধারনা দিয়েছে এর পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং সিআইডি'র তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশিত হলে পিলখানা হত্যাকান্ডের পুরো ব্যাপারটি জনগনের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। আরেকজন দর্শক জানতে চান বিডিআর এর নাম পরিবর্তন করে পিলখানা হত্যাকান্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ নিশ্চিত যাবে কিনা? আরেকজন দর্শক জানতে চান পিলখানা হত্যাকান্ডের কারণ হিসেবে যে সমস্যাগুলো উঠে এসেছে সেগুলো পর্যালোচনা করে এরূপ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাহীনতার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধকল্পে সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা? এসময় একজন দর্শক মি. রহমানের কাছে জানতে চান বিডিআর বিদ্রোহের নেপথ্যে অপারেশন ডাল-ভাত কর্মসূচী এবং সেনাকর্মকর্তা দ্বারা নিগৃহীত হওয়াটাই শুধুমাত্র কারণ কিনা? বিডিআর বিদ্রোহ এবং পিলখানা হত্যাকান্ড সংক্রান্ত এসকল প্রশ্নের জবাবে জয়েনাল আবেদীন ফারুক বলেন, বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য এ ধরনের জঘন্যতম হত্যাকান্ডের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন এই ঘটনার মূল হোতাদের সর্বাগ্রে চিহ্নিত করতে হবে।
বিএনপি কর্তৃক সরকারী তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান প্রসংগে তিনি বলেন স্বাধীন তদন্ত কমিটিতে সমন্বয়কারীর নিয়োগ বিএনপির কাছে বিভ্রান্তিমূলক মনে হওয়ায় তারা এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া এ প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা অমূলক নয় বলে বলে তিনি দাবি করেন। আবদুস শহিদ বলেন, পিলখানা হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রতিবেদনকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কোন অবকাশ নেই। তিনি মনে করেন পিলখানা হত্যাকান্ডের বাকি তদন্ত প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হলে এ ঘটনার মূল কুশীলবদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। বিডিআর বিদ্রোহের নেপথ্য কারণ সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মি. রহমান বলেন, শুধুমাত্র অপারেশন ডাল-ভাত কর্মসূচী এবং নিপীড়নের কারণে এত নৃশংস ঘটনা পারে না। তিনি এই হত্যাকান্ডের পেছনে দেশী ও বিদেশী ষড়যন্ত্র আছে বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তী প্রশ্নকারী ছিলেন মো. শহিদুর রহমান। তিনি জানতে চান পিলখানা হত্যাকান্ডের অপরাধীদের সেনা আইনে বিচার করলে দেশের প্রচলিত আইনকে চ্যালেঞ্জ করা হবে কিনা? প্রথমেই এ প্রশ্নের জবাব দেন মি. রহমান। তিনি বলেন, সেনা আইন এবং দেশের প্রচলিত আইন; এই দুটোই সংবিধান কর্তৃক গৃহীত রাষ্ট্রীয় আইন। সেইসাথে তিনি জানান এই (পিলখানা হত্যাকান্ডের) অপরাধীদের সেনা আইনে বিচার করলে দেশের প্রচলিত আইনকে চ্যালেঞ্জ করা হবে না বরং বিচারকাজে গতি আসবে। মি. কবীর বলেন, রাষ্ট্র ও জনগনের নিরাপত্তা সম্পর্কিত সকল ঘটনার বিচার অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে সবার সামনে নিষ্পন্ন হওয়া দরকার যাতে কোন পক্ষ এটার মধ্যে দিয়ে তাদের সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ উদ্ধার করতে না পারে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মি. কবীর জানান, পিলখানা হত্যাকান্ডের প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে একটা নাম বাদ পড়েছে যেটা অপ্রকাশিত মূল তদন্ত প্রতিবেদনে ছিল। তিনি মনে করেন পিলখানা হত্যাকান্ডের অপরাধীদের বিচার বিডিআর-এর ঐ সময়ের প্রচলিত আইন দিয়েই করা উচিত। এসময় একজন দর্শক মনে করেন, পিলখানা হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচার দেশের প্রচলিত আইনেই করা উচিত। তার মতে সেনা আইনে এ ঘটনার বিচার করা হলে বিচারে নিরপেক্ষতার বদলে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। আরেকজন দর্শক বিডিআর সদস্যদের রহস্যজনক মৃত্যুর কারণ জানতে চান। পিলখানা হত্যাকান্ডের অপরাধীদের বিচার প্রসংগে মি. ফারুক মনে করেন পিলখানা হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচার দেশের প্রচলিত আইনেই হওয়া উচিত। মি. শহিদ সবকয়টি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত জনগনকে অপেক্ষা করতে বলেন। তিনি জানান সবকয়টি তদন্ত প্রতিবেদনের পরে সরকার জনগনকে অভিহিত করবে পিলখানা হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচার কিভাবে হওয়া উচিত। এছাড়া তিনি মনে করেন বিডিআর সদস্যদের রহস্যজনক মৃত্যুর পেছনে যদি কোন কারণ থকে তাহলে সেটি অবশ্যই চিহ্নিত করা উচিত। মি. কবীর এ প্রসংগে বলেন, বিডিআর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে সেনাকর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ক্ষোভ চরিতার্থ করা হচ্ছে কিনা এই প্রশ্ন জনগনের মধ্যে আছে। পরবর্তী প্রশ্নকারী ছিলেন মো ফজলুর রহমান সোহেল। তিনি জানতে চান টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতা কেন সরকারিভাবে করা হচ্ছে না?
এ প্রসংগে মি. ফারুক বলেন, বিশেষজ্ঞ দল ভারতে প্রেরণ করে করে সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি করে যেকোন মূল্যে টিপাইমুখের বাঁধ প্রতিহত করতে হবে, নাইলে এদেশে ফারাক্কার চেয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে। মি. রহমান এ প্রসংগে মি. ফারুকের সাথে একমত পোষণ করে বলেন, এ বাঁধের ফলে মেঘনা, কুশিয়ারা এবং যমুনা নদী শুকিয়ে যাবে, সেই সাথে ভূমিকম্পের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। তিনি আশংকা প্রকাশ করেন টিপাইমুখে বাঁধ নির্মিত হলে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন ভারতের এই পানি আগ্রাসন বাংলাদেশের জন্য পারমাণবিক যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ। সেইসাথে তিনি জানান এটা প্রতিরোধে সমস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এসময় আরেকজন দর্শক জানতে চান নদীমাতৃক দেশের তকমাটা বাংলাদেশের নামের সাথে আর কতদিন টিকে থাকতে পারবে? আরেকজন দর্শক প্রশ্ন করেন টিপাইমুখে বাঁধ নির্মিত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে মৎস সম্পদের ঘাটতি দেখা দিবে কিনা? এসময় একজন দর্শক নদী সমস্যাকে আন্তর্জাতিক সমস্যা অভিহিত করে বলেন এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ কেন আন্তর্জাতিক আদালতের শরণ নিচ্ছে না? এ প্রসংগে বলতে গিয়ে মি কবীর প্রথমেই জানান মূলতঃ একটি নয় দু’টি বাঁধ (একটা টিপাইমুখে এবং আরেকটি ফুলেরতালে) নির্মাণ করা হচ্ছে। এই দু’টি বাঁধের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন বিগত অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেছে বাংলাদেশ ফারাক্কা বাঁধসহ আরও কয়েকটি সমস্যার ক্ষেত্রে ভারতের প্রতি উদার মনোভাব দেখতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও জানান বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ এ বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দ্বিধাবিভক্ত। তিনি মনে করেন বাংলাদেশে সরকারের উচিত এদেশের জনগনের স্বার্থে আঞ্চলিকভাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে এই বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করা। বাঁধ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মি. শহিদ বলেন, আমরা দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য জনগনের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ অঙ্গীকার রক্ষার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে। এরপর প্রশ্নকর্তা ছিলেন রোকেয়া বেগম। তিনি বলেন একদিকে সরকার বলেছে ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’য় ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে, অপরদিকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে দেখাচ্ছে দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না। তিনি জানতে চান তাহলে কি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ভুল দেখাচ্ছে? প্রথমেই এ প্রসংগে বলেন মি. কবীর। তাঁর মতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ভুল দেখানো হচ্ছে না। তিনি জানান ‘আইলা’ মোকাবেলায় সরকারের চেষ্টা থাকলেও ত্রাণসম্পদের ঘাটতি আছে। সেইসাথে তিনি মনে করেন বাংলাদেশের জনগনের টাকায় চলা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কেন জনগনের প্রকৃত দুর্দশার চিত্র তুলে ধরছে না ব্যাপারে সরকারের নজর দেয়া উচিত। মি. রহমান ত্রাণ বিতরণের মূল প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন দুর্গমতাকে। এছাড়া তিনি বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবকে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের প্রধান সমস্যা হিসেবে অভিহিত করে এ সমস্যার আশু নিরসনে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান। এসময় একজন দর্শক জানতে চান প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চলগুলোকে রক্ষা করার জন্য স্থায়ী সমাধানের কোন পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা? দর্শকদের মধ্যে থেকে আরেকজন বলেন বিগত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সরকারের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি সংস্থা দুর্যোগ মোকাবিলায় যথেষ্ট ভূমিকা পালন করতে দেখা গেলেও কিন্তু এবার সেটা দেখা যাচ্ছে না। তিনি জানতে চান এর পেছনের কারণটা কি? মি. ফারুক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার এবং বিরোধী দলের একযোগে ছুটে যাওয়া উচিত। সেই সাথে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে অতিদ্রুত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। মি. শহিদ এ প্রসংগে বলেন, ‘আইলা’ মোকাবিলায় সরকার অপ্রতুল ত্রাণ নিয়েও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসরকারী সংস্থাগুলোর সহায়তা সম্পর্কে তিনি বলেন সহায়তা প্রদানের জন্য পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজন। তিনি আরও জানান ত্রাণ গ্রহনের ব্যাপারে দ্বিমত বা কার্পণ্যের কোন সুযোগ নেই। অনুষ্ঠানের সর্বশেষ প্রশ্ন করেন তারেক আহমেদ সাবেদ। তিনি জানতে চান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনই কি বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ? মি. রহমান এ প্রসংগে বঙ্গবন্ধুকে দলীয়করন না করতে সরকারি দলের কাছে অনুরোধ জানান। মি. কবীর বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের বিকাশের জন্যে প্রত্যেকের অবদানকে সঠিক জায়গায় প্রতিস্থাপন করার সংস্কৃতি বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের বোঝা খুবই দরকার। সেই সাথে বর্তমানের নাম বদলের সংস্কৃতিকে দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন এ সংস্কৃতির বদল হওয়া দরকার। এসময় একজন দর্শক জানতে চান কোন সরকারই কি নিরপেক্ষভাবে কোন প্রতিষ্ঠানকে স্বীয় নামে পরিচিত হতে দিবে না? আরেকজন দর্শক জানতে চান নাম বদলের সংস্কৃতি আইন করে বন্ধ করা যায় কিনা? মি. ফারুক বলেন, নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি যারা শুরু করেছে তারাই বর্তমানে নাম পরিবর্তন করছে। তিনি নাম বদলের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে দিনবদলের আহবান জানান। সবশেষে মি শহিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে যারা এদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে বিকৃত করেছে তাদের মুখেই নাম বদলের সংস্কৃতি শোভা পায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন দিনবদলের অর্থ হচ্ছে বিগত সময়ের অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো বর্তমান সময়ে ঘটতে না দেয়া। (অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয় গত ৩১শে মে, ২০০৯ বিবিসি বাংলার ‘প্রবাহ’ অধিবেশনে৻) বাংলাদেশ সংলাপ প্রযোজনা করেছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ। |
স্থানীয় লিংকস্
ক্রস ফায়ারের বিচার17 মে, 2009 | Lei
কর্মসংস্থান না ছাঁটাই?08 মে, 2009 | Lei
পীলখানায় 'আত্মহত্যা`?29 এপ্রিল, 2009 | Lei
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||