|
মেহেরপুরে খ্রীষ্টানরা শঙ্কিত নিরাপত্তা নিয়ে
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
মেহেরপুর-১ আসনের সংখ্যালঘু ভোটাররা গত নির্বাচনের সহিংসতা ও অত্যাচারের বিরূপ অভিজ্ঞতার পর এবারের ভোটেও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে
চিন্তিত৻
মেহেরপুরের এই আসনের ভেতরেই পড়ছে মেহেরপুর সদর ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার গৌরবমন্ডিত মুজিবনগর গ্রাম৻ মুজিবনগর ও তার আশেপাশের গ্রামগুলো খ্রীষ্টান-অধ্যুষিত, এবং সেখানে বড়দিনে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি নির্বাচনী আমেজও রয়েছে পুরো মাত্রায়৻ তবে তা সত্ত্বেও এই ভোটাররা সরাসরি বলছেন, ভোট দিতে যাওয়ার সময় এবং ভোট দিয়ে ফেরার পর তাঁরা সার্বিক নিরাপত্তা চান ৻ নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের এই আশঙ্কার কারণ আর কিছুই নয় – ২০০১ সালের ভোটের পর চরম অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা৻ স্থানীয় একজন খ্রীষ্টান ভোটার বলছিলেন, সেই নির্বাচনের পর টানা দু-একমাস ধরে তাদের ঘরছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে – এবং শুধুমাত্র সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেই তাদের এই অত্যাচার সইতে হয়েছে৻ ওই ভদ্রলোক বলছিলেন, গ্রামে আওয়ামী লীগের সমর্থক যে-সব মুসলিম পরিবার ছিল তাদের অতটা দুর্ভোগ পোহাতে না-হলেও বেছে বেছে খ্রীষ্টান পরিবারগুলির উপরেই কোপ ফেলা হয়েছিল৻ আর সে কারণেই এবার যাতে আর সেই অত্যাচারের পুনরাবৃত্তি সইতে না-হয়, তার জন্য তাঁরা বেশ সতর্ক ও শঙ্কিত৻ এই আবহের মধ্যেই মেহেরপুর-১ আসনে এবার মূলত ত্রিমুখী লড়াই হচ্ছে৻ মহাজোটের হয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের জয়নাল আবেদিন, কিন্তু চার-দলীয় জোটের হয়ে বিএনপি-র প্রার্থী ও গতবারের বিজয়ী মাসুদ অরুন যেমন আছেন, তেমনি জোটের শরিক জামায়াত-ই-ইসলামের সমির উদ্দিনও লড়ছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে৻ ফলে শরিকি লড়াই নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না মহাজোট প্রার্থীকে৻ মি: আবেদিন জানালেন, মুজিবনগরে স্থলবন্দর স্থাপন, ভৈরব নদীর পুনর্খনন, পাইপলাইন মারফত মেহেরপুরে গ্যাস নিয়ে আসা এবং সন্ত্রাস দমনের মতো বিষয়গুলোই উঠে আসছে তাদের প্রচারে৻ বিএনপি-র মাসুদ অরুন মুখে অবশ্য আমলই দিচ্ছেন না জামায়াতের প্রার্থীকে৻ তাঁর কথায়, লড়াই এখানে সরাসরি মহাজোট আর ঐক্যজোটের – আর ঐক্যজোটের প্রার্থী তিনিই৻ তবে জামায়াতের প্রার্থীকে নিয়ে জোটে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেটা এখনও মিটে যেতে পারে বলে তিনি আশা করছেন৻ সেরকম কোনও রফার সম্ভাবনা অবশ্য পরিষ্কার নাকচ করে দিচ্ছেন জামায়াতের সমির উদ্দিন৻ তিনি পরিষ্কার বলছেন – শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকছেন তিনি, সরে দাঁড়ানোর কোনও প্রশ্নই নেই৻ বরং স্থানীয় বিএনপি দুভাগ হয়ে গিয়ে তার একটি গোষ্ঠী তাঁদের হয়েই কাজ করছেন বলে দাবি জামায়াত প্রার্থীর ৻ (উপরে উল্লিখিত তিনজন প্রার্থী ছাড়াও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল কালাম কাশেমি) |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||