|
সম্পাদকের ডায়রী: নির্বাচন নিয়ে উড়ো ভাবনা
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনপঞ্জী:
ঢাকা ডিসেম্বর ২৫, ২০০৮: সবাই পরিবর্তনের লক্ষণ খুঁজছেন৻ প্রার্থীদের আচরণে, প্রচারণার ভাষায়, ভোটারদের প্রতিক্রিয়ায়, প্রশাসনের ব্যবহারে, মিডিয়ার রিপোর্টিংয়ে৻ মিছিলের ফলে রাস্তা-ঘাটে যানজটের ঘটনা এবার বিরল; রাতভর মাইকে ভাষণ বা গান-বাজনা একেবারেই নেই৻ সবই আচরণবিধির ফল৻ এ ধরনের আচরণবিধি আগেও ছিলো, কিন্তু এবার প্রয়োগের সম্ভাবনা বেশি৻ তারপরও, একটি ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন অনেককেই হতাশ করেছে৻ নির্বাচনী আইনের ৯১ ই ধারা নিয়ে অনেক বাক-বিতণ্ডা হয়েছে৻ নির্বাচন কমিশন অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়েই এই ধারা বাতিলের জন্য বিএনপির দাবি প্রত্যাখান করেছিলো৻ কিন্তু এখন তারা বলছেন, এই নির্বাচনে ৯১ ই ধারা প্রয়োগের জন্য যে সময় তাদের দরকার, সেই সময় তাদের হাতে নেই ৻ যদিও বেশ কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ আছে৻ এই ধারা প্রয়োগ করে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা যেতো৻ তাহলে কি এবারো ‘ যত গর্জে তত বর্ষে না‘, এই কথাই সঠিক প্রমাণিত হবে? ‘না‘ ভোটের অপশন এবার ব্যালট পেপারে ‘না‘ ভোটের অপশন একটি নতুন সংযোজন৻ তবে নির্বাচন কমিশনই মনে হয় ‘না‘ ভোটের সবচে বড় প্রবক্তা হয়ে উঠেছে ! টেলিভিশনে বাউল সঙ্গীতের মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণের কথা বলার সময় শুধু মাত্র একটি প্রতীকের কথাই বলা হয় – সেটা হচ্ছে ‘না‘ ভোট৻ সেদিন টেলিভিশনে সাক্ষাতকার শেষে একজন নির্বাচন কমিশনার ভোটারদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানানোর সময় ‘না‘ ভোটের উপর বেশ জোর দিলেন৻ অনেকে ‘না‘ ভোট দেবার সুযোগ পেয়ে খুশি৻ কিন্তু পাবলিক ‘না‘ চিহ্নে ভোট দিলে নির্বাচন কমিশনের কি লাভ হবে, তা বোধগম্য নয়৻ নতুন করে পুরাতন বাকযুদ্ধ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, উত্তেজনা মনে হয় ততই বাড়ছে৻ সাথে সাথে বাড়ছে নেতা-নেত্রীদের পারস্পরিক অভিযোগের পালা৻ সম্প্রতি কুমিল্লার দেবীদ্বারে জামা‘আতুল মুজাহিদিনের দুই সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেনেডসহ গ্রেফতার হবার পর থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় উত্তাপের মাত্রা বেড়ে গেছে৻ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলছেন,ঐ গ্রেনেডের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তিনি৻ তাঁর সমর্থকরা বলছেন, মিসেস জিয়াকে হত্যা করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা চলছে৻ অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, গ্রেনেড যেহেতু খালেদা জিয়ার সভাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাওয়া গেছে, সেহেতু বিএনপির অভিযোগ একটি ‘সাজানো নাটক‘ ছাড়া কিছুই না৻ বাক-বিতণ্ডা সেখানেই থেমে নেই৻ বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে একটা গুঞ্জন চলছে যে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে আসতে চায়৻ এই গুঞ্জনটা কারা ছড়াচ্ছে সেটা এখনো পরিস্কার নয়৻ নির্বাচনের দুদিন আগে কেন,বা কিভাবেই বড় দুটি দলের একটি সরে আসবে, সেটাও সহজে বোঝা যাচ্ছে না৻ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এই কথাকে স্রেফ অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন নির্বাচন থেকে সরে আসার কোন প্রশ্নই আসে না৻ খালেদা জিয়ার এই কথা বিএনপির নির্বাচনে অংশ গ্রহণ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাবে বলেই মনে হচ্ছে৻ তারপরও, কিছু মানুষের মনে নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে৻ তবে একথাও ঠিক যে তিন মাস আগে যেধরনের সন্দেহ ছিলো, এখন সেটা অনেকাংশেই কমে গেছে৻ |
স্থানীয় লিংকস্
সম্পাদকের ডায়রী: নির্বাচন নিয়ে উড়ো ভাবনা19 ডিসেম্বর, 2008 | বিশেষ আয়োজন
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||