|
দিনাজপুরে প্রচারে চাপ ফেলছে ধর্ম
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
উত্তরবঙ্গের দিনাজপুরে এবারে সবচেয়ে নজরকাড়া আসন দিনাজপুর-১, যার মধ্যে রয়েছে বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলা – এবং সেখানে নির্বাচনী
প্রচারনায় ধর্মীয় বিষয় বেশ ভালরকমই ছাপ ফেলছে বলে অভিযোগ৻
এই আসনটিতে মূল লড়াই আওয়ামী লীগের মনোরঞ্জন শীল গোপালের সঙ্গে চার দলীয় জোটের প্রার্থী, জামায়াত-ই-ইসলামীর নেতা মাওলানা মোহাম্মদ হানিফের৻ ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াত-ই-ইসলামী এই আসনটিতে জিতলেও চার বছর পর তাঁদের সংসদ সদস্যের মৃত্যুর পর যখন এখানে উপনির্বাচন হয়, তখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সেই ভোটে জিতে অনেককেই চমকে দিয়েছিলেন মনোরঞ্জন শীল গোপাল৻ পরে তিনি যোগ দেন আওয়ামী লীগে, এবং এবারেও সেই দল থেকেই তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন৻ শীতের কুয়াশা-মোড়া কাহারোলের একটি বাজারে গিয়ে কথা বলে দেখেছি, মানুষজন বলছেন নির্বাচনী প্রচারে ধর্ম এবার খুবই প্রাধান্য পাচ্ছে৻ জামায়াত প্রার্থীর প্রতি ইঙ্গিত করে তাঁরা বলছিলেন, বিভিন্ন মাহফিলের আয়োজন করে তারা সেখানে নানা ধর্মীয় বিষয়ের অবতারণা করছেন৻ কেউ আবার বলছিলেন, হিন্দু একজন প্রার্থী জিতে এলে হাত তুলে দোয়া পর্যন্ত করা যাবে না – এমনও প্রচার চলছে৻ একই কথা আরও খোলাখুলি বললেন এই আসনে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মহম্মদ আলতাফ হোসেইন৻ তিনি জানালেন, জামায়াত প্রচার করছে হিন্দু প্রার্থীর বিরুদ্ধে সব মুসলিম ভোট এককাট্টা হলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জয় নিশ্চিত৻ আর কমিউনিস্ট পার্টিকে তাঁরা নাকি ‘খ্রীষ্টানদের দল` বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ! এই সব অভিযোগই অবশ্য ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন জামায়াতের প্রার্থী ও দলের ডাকসাইটে নেতা মাওলানা মহম্মদ হানিফ৻ তাঁর সাফ কথা, হিন্দু-মুসলমান কোনও ইস্যুই নয় ; কারণ যিনি স্রষ্টা মুসলমানেরও, তিনি স্রষ্টা হিন্দুরও৻ আর যেহেতু ‘সেই আল্লার পক্ষ থেকে` তিনি প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেই হেতু গোপালের চেয়ে প্রার্থী হিসেবে তিনি অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য – দাবি মি: হানিফের ! তাহলে গত উপনির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী এই আসনে কীভাবে পরাজিত হয়েছিলেন ? মি: হানিফ তার জবাবে বলছেন – মরহুম আবদুল্লা আল কাফি, যিনি ২০০১-য়ে এই আসন থেকে জিতেছিলেন তিনি অনেক ভাল কাজ করলেও তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু দুর্নীতিরও অভিযোগ ছিল৻ তিনি প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন, মানুষ সেবার সেই দুর্নীতির বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছিলেন৻ দিনাজপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোরঞ্জন শীল গোপাল অবশ্য এসব কোনও কিছু নিয়েই বিচলিত নন – বরং এবারেও তাঁর জয় নিয়ে তিনি নিশ্চিত৻ তিনি বলছেন, ২০০৫-র উপনির্বাচনে ‘সমস্ত সরকারি সুবিধা ব্যবহার করেও` জামায়াত প্রার্থী ৪৮ হাজারের বেশি ভোট পাননি – অথচ সেই জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি ভোট পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১৩ হাজার৻ সুতরাং এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিরপেক্ষ প্রশাসনের আমলে বিপুল ভোটে জেতা নিয়ে তাঁর অন্তত কোনও সংশয় নেই! (উপরে উল্লিখিত তিনজন প্রার্থী ছাড়াও দিনাজপুর-১ আসনে লড়াইয়ে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনও
৻) |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||