BBCBengali.com
BBCHindi.com
BBCNepali.com
BBCSinhala.com
BBCTamil.com
BBCUrdu.com
 
সর্বশেষ আপডেট: 09 এপ্রিল, 2008 - প্রকাশের সময় 00:06 GMT
 
বন্ধুকে ইমেইল করুন   ছাপার উপযোগী সংস্করণ
খাদ্য সংকট কী নীরব দূর্ভিক্ষ?
 
panelists at Sanglap in Dhaka on Apr. 05, 2008
প্যানেল সদস্যরা (বাঁ দিক থেকে): আব্দুর রাজ্জাক, সুলতানা কামাল, কে এস মুর্শিদ এবং আসম হান্নান শাহ

কথা ও ছবি: রাসেল মাহমুদ

বিবিসি বাংলার বাংলাদেশ সংলাপের গত ৫ই এপ্রিল ২০০৮ এর আয়োজনের প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর অন্যতম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি চেয়ারপার্সনের অন্যতম উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আসম হান্নান শাহ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস এর গবেষণা পরিচালক ড. কে এস মুর্শিদ।

আর এবারের অনুষ্ঠানে সঞ্চালক হিসেব দায়িত্ব পালন করেন বিবিসি’র কামাল আহমেদ।

অনুষ্ঠানে প্রশ্ন নেয়া হয় সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ের উপর শ্রোতাদের করা প্রশ্ন থেকে। প্যানেল সদস্যরা সেসব বিষয়ের উপর তাদের মন্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া উপস্থিত অন্য দর্শকরাও বিভিন্ন সম্পুরক প্রশ্ন ও মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন গাজীপুর থেকে আসা মো. রুবেল আহমেদ। কারো কারো মতে বাংলাদেশে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে এবং সরকার একে বলছে `হিডেন হাঙ্গার` এমন কথা উল্লেখ করে তিনি জানতে চান প্যানেল সদস্যরা এবিষয়ে কি মনে করছেন।

ড. কে এস মুর্শিদ হিডেন হাঙ্গার বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, এতোদিন তিনি জানতেন পুষ্টিহীনতাকে (মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট ডিফিশিয়েন্সী) হিডেন হাঙ্গার বলা হয়৻ আর এখন এসে তিনি জানতে পারলেন ভাত খেতে না পারা কিংবা চালের অভাবকে হিডেন হাঙ্গার বলা হচ্ছে। তিনি বলেন এখানে সংজ্ঞাই পরিবর্তিত হয়েছে।

ক্ষুধার সংজ্ঞা
Dr. K.S. Murshid
 ভাত খেতে না পারা কিংবা চালের অভাবকে হিডেন হাঙ্গার বলা হচ্ছে। এখানে সংজ্ঞাই পরিবর্তিত হয়েছে।
 
ড. কে এস মুর্শিদ

তিনি আরো বলেন, প্রতিবছরই মার্চ-এপ্রিল মাসগুলোতে মানুষ সাধারনত অভাবে পড়ে এবং তার ফলে কম খায়।

তবে সেই সাথে তিনি এও বলেন এবার অস্বাভাবিক দ্রব্যমুল্যের কারনে মানুষে কষ্টে আছে। তবে একে এখনো তিনি ঠিক দুর্ভিক্ষ বলতে রাজি নন। তবে তিনি মনে করেন যে সব জায়গায় দরিদ্রসংখ্যা বেশী সেখানে মানুষের একটু কষ্ট হচ্ছে। তবে তিনি আবারো বলেন সেটা এমন বড় আকারের নয় বলেই একে দুর্ভিক্ষ বলা যাবে না।

তবে একে দুর্ভিক্ষই বলতে চান মি. আব্দুর রাজ্জাক। কারন হিসেবে তিনি বলেন, ‘‘মানুষ আনাহারে আছে, কচু-ঘেচু‌ খাচ্ছে এবং পত্রিকায় দু’এক জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ হয়েছে’`।

তিনি আশা করেন না মানুষ মারা যাক আর সেকারনেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে যেন মানুষ খেতে পারে।

তিনি মনে করেন, বাস্তবতা হলো মানুষ খেতে পারছে না, তা তার নাম যাই দেয়া হোক না কেন।

নিরন্ন মানুষ
Abdur Razzak
 মানুষ আনাহারে আছে, কচু-ঘেচু‌ খাচ্ছে এবং পত্রিকায় দু’এক জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে।
 
আব্দুর রাজ্জাক

হান্নান শাহ মনে করেন বিভিন্ন রকমের ভাষা প্রয়োগ করে বর্তমান পরিস্থিতিকে অবমুল্যায়ন করার অবকাশ নেই। কারন বিভিন্ন এলাকায় কমদামে চাল কেনার জন্য মানুষের লাইন দেখলেই বোঝা যাবে অবস্থা কি।

তিনি বলেন, দুর্ভিক্ষ হতে হলে মানুষ মারা যেতেই হবে এমন কথা নেই। তিনি মনে করেন এমন অবস্থা হওয়ার আগেরই বাস্তবতা স্বীকার করে মানুষ যাতে বাঁচতে পারে এমন ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। তিনি এখন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের কাছে তাগিদ দেন।

দর্শকদের একজন এমুহুর্তে বাংলাদেশের দুটি বড় দলের কাছে এবিষয়ে কাজ করতে আহ্বান জানান। আরেকজন দর্শক দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এই সংকট মোকাবেলার আহ্বান জানান। অন্য একজন বলেন সমস্যাটি আরো বড় হওয়ার আগেই সমাধান করা যায় কি না সেটি দেখতে হবে।

অন্য এক দর্শক বলেন, অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে এখন খাবার জোগাড় করতে গিয়ে একটি পরিবারের সবাইকে দোকানে লাইন দিতে হচ্ছে। তিনি পরিবার প্রতি বরাদ্ধ করা চালের পরিমান বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।

সুলতানা কামাল নিজের দেখা অভিজ্ঞতা বর্ননা করে বলেন, মানুষ খুবই কষ্টে আছে এমনকি তিনি অনেক জায়গায় একবেলা কম খাওয়ার কথাও শুনেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, এখন মানুষ ব্যক্তিগতভাবেও সাহায্য করে আর পারছে না।

তিনি আরো বলেন, সরকার এখন কিছু মানুষকে ডাকতে পারেন এবং তাদের পরামর্শ নিতে পারেন।

সেনাপ্রধান বাজারে খাবারের সংকট নেই এমন বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, মানুষ সহজে খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহ যেন পায় তার ব্যবস্থাই এখন করতে হবে। তিনি মনে করেন দেশে খাদ্য সংকট হয়তো নেই কিন্তু তা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।

তিনি আরো মনে করেন, বাজারকে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের যে প্রস্তুতি থাকে তাতে ঘাটতি ছিলো বলেই এমন হয়েছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ
Sultana Kamal
 বাজারকে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের যে প্রস্তুতি থাকে তাতে ঘাটতি ছিলো৻
 
সুলতানা কামাল

এবিষয়ে একটি সম্পুরক প্রশ্ন করেন পুর্নিমা ইসলাম। তিনি জানতে চান, দেখে খাদ্য ঘাটতি প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে তা নিরসনে সরকার কেন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না?

মি. রাজ্জাক এবিষয়ে বলেন, তারা যেহেতু এখন সরকারে নেই সেহেতু সরাসরি তাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হয় না। তিনি মনে করেন বিভিন্ন কৃষি উপকরন সঠিক সময়ে সরবরাহের জন্য তার দল অনেক আগেই দাবী জানিয়েছিলো কিন্তু তা সেসময় মানা হয় নি।

বিষয়টি অনুধাবন করতে বিলম্ব হয়েছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন এখন যেখান থেকেই হোক না কেন চাল সংগ্রহ করতে হবে যেন জনগনকে বাঁচানো যায়।

মি. হান্নান শাহ মি. রাজ্জাকের সাথে একমত পোষন করে বলেন তাদের দল থেকেও সরকারকে খাদ্য মজুদ গড়ে তোলার জন্য বলেছিলেন, তখন সরকার তা মূল্যায়ন করেনি।

তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, সামনে আরো খারাপ দিন আসছে। তিনি মনে করেন এখন জনগনের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য একটি পদ্ধতি খুঁজে বের করে আনতে বলেন।

দর্শকদের একজন এসময় বলেন দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কোন কিছু করতে গেলেই সরকার তা প্রতিরোধ করে, অথচ নারী অধিকার বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই মিছিল হলেও সরকার কিছুই বলে না। তিনি মনে করেন সরকার এখানে কোন ভুমিকা রাখবে বলে তো তিনি দেখেন না।

আরেক দর্শক বলেন, দ্রব্যমুল্যে বৃদ্ধি গত জোট সরকারের আমলেই শুরু হয়েছিলো। তিনি মনে করেন রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত এ অবস্থায় সরকারকে কি সুপরামর্শ দেয়া যায় তা ঠিক করা। আর এক দর্শক মনে করেন এবিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে বসে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে৻

আরেক দর্শক প্রশ্ন করেন, প্রতি বছর পান্তা ইলিশ খেয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয় এবার কি তাহলে আলু-সবজি খেয়ে তা উদযাপন করা হবে?

বাস্তবতা
ASM Hannan Shah
 পরিস্থিতিকে অবমুল্যায়ন করার অবকাশ নেই। কমদামে চাল কেনার জন্য মানুষের লাইন দেখলেই বোঝা যাবে অবস্থা কি।
 
আসম হান্নান শাহ

মি. মুরশিদ এবিষয়ে বলেন, এমন অবস্থা হবে তা অনেক আগেই বোঝা গিয়েছিলো কিন্তু সরকার সময়মতো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এই ব্যর্থতার দায়ভার আগের সরকারগুলোর উপরেও দিতে চান বলে জানান।

এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এধরনের সমস্যা নিরসনে সরকারী যে ব্যবস্থা ছিলো যেমন টিসিবি, সেগুলোকে অকার্যকর করে দেয়া হয়েছে তার ফলে এখন ব্যবসায়ীদের উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।

মি. শাহ বিষয়টি নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, তাদের সরকারের সময় সরকারের হাতে কমপক্ষে ‌১০ লক্ষ টন খাদ্য মজুদ ছিলো এবং খাদ্য তখন মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও ছিলো বেশি।

তিনি মনে করেন বিষয়টি নিয়ে তাদের কিংবা আওয়ামী লীগ সরকারের উপর দোষ চাপালেই হবে না। এমনকি রেশন ব্যবস্থাও ভেঙ্গেছে অনেক আগে।

এসময় মি. মুর্শিদ বলেন ৯০এর দশকের শেষ দিকে সরকার দাতা গোষ্ঠির পরামর্শে এই ব্যবস্থাটি ভেঙ্গে দেয়। তিনি বলেন, রেশনের ব্যবস্থা ভেঙ্গে দেয়ার ফলে সংকটের সময়গুলি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

মি. রাজ্জাক বলেন, বিশ্বব্যংক বাংলাদেশের মতো দেশগুলিতে অনেক উপদেশ দিয়ে থেকে। তিনি মনে করেন সবটা গ্রহন করলে মানুষের সমস্যা হবে। তিনি মনে করেন বিকল্প ব্যবস্থা তাদের সরকার গ্রহন করেছিলো বলেই তাদের সময়ে খাদ্য নিয়ে সমস্যা হয়নি।

আন্তুর্জাতিক সাহায্য গ্রহন প্রসঙ্গে আখতার বেগম ডলি প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানান। তিনি জানতে চান বর্তমানে খাদ্য সংকটের কারনে আন্তর্জাতিক সাহায্য চাওয়া উচিত কি না? অবশ্য তিনি নিজে মনে করেন এমনটা করা উচিত।

একই মত সুলতানা কামালেরও। তিনি মনে করেন, মানুষকে এখন বাঁচাতে হলে আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন জানানো উচিত। তিনি বলেন, অনেক দেশ এই সাহায্য দেয়ার জন্য প্রস্তুত, শুধু চাইতে হবে।

মি. রাজ্জাক মনে করেন প্রথমে উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া উচিত। তাতে সম্ভব না হলে সাহায্য চাওয়া যেতে পারে।

audience
উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের একাংশ

দর্শকদের একজন এসময় বলেন, ভারত থেকে চাল আমদানী করা যেতে পারে। আরেক দর্শক বলেন রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের সাথে বসে এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।

মি. শাহ বলেন, রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে এ সমস্যাই তৈরী হতো না। এবং এখন আন্তর্জাতিক সাহায্য চাওয়া উচিত বলেও তিনি জানান। নিজ্স্ব উৎপাদন বাড়ানোর কথা এসময় আবারো বলেন মি. মুর্শিদ।

পরের প্রশ্ন করেন ফাহিম আহমেদ। তিনি জানতে চান দুই নেত্রীকে ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সরকারের সংলাপ করা উচিত হবে কি না?

মি. শাহ মনে করেন বর্তমানে দুই নেত্রী এবং প্রবীন রাজনীতিবিদদের নিয়ে সংলাপ করতে হবে তাহলেই জনগন তা গ্রহন করবে।

মি. রাজ্জাক মনে করেন দুই নেত্রীকে বাদ দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কঠিন। আর তাদের ছাড়া সংলাপ হলে তাঁর দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, তাদের নেত্রী বলেছেন তাঁকে ছাড়া সংলাপ করতে। তবে তাদের দল চায় নেত্রীকে নিয়ে সংলাপে বসতে।

মি. শাহ বলেন বাস্তবতা হলো সংলাপে এই দুই নেত্রীর উপস্থিতি প্রয়োজন। তা না হলে সংলাপ অর্থবহ হবে না এবং তা না হলে তাদের দলের সংলাপের যাওয়ার কোন অর্থ নেই।

এসময় দর্শকদের একজন বলেন, দলগুলো নেত্রীর মুক্তির জন্য অনশন করছেন অথচ দেশের মানুষ না খেয়ে আছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতার পাগল বলে অবিহিত করেন। আরেক দর্শক জানান যে দুই নেত্রী দেশের অধিকাংশ মানুষের নেত্রী তাই তাদের দুজনকে বাদ দিয়ে কোন সংলাপ হতে পারে না।

আরেক দর্শক বলেন, তারা আশা করেছিলেন যে দেশে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। জনগনের জন্য চিন্তা করতে তিনি রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্ববান জানান। আরেক দর্শক জানান যে তিনি মনে করেন না দুই নেত্রীকে নিয়ে আলোচনা করে তেমন কোন সুফল আসবে।

তবে ভিন্ন মত পোষন করে আরেক দর্শক বলেন, দুই নেত্রীর দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা আছে, এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তা নেই বলেই এখন দেশের এই অবস্থা।

মি. মুর্শিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ১১ই জানুয়ারীর পরিস্থিতিতে দেশের কেউ ফিরতে চায় না। তিনি মনে করেন সংলাপ হোক বা না হোক দেশে একটি নির্বাচন দরকার।

সুলতানা কামাল বলেন, দুই নেত্রী সংলাপে অংশ নিতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু সেই সাথে তিনি আরো বলেন এখন মুল চিন্তা হওয়া উচিত মানুষকে নিয়ে। তিনি বলেন, এখনকার অবস্থা থেকে উত্তরনের জ্ন্য দ্রুত কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন জনগন এখন একটি অবাধ নির্বাচনের প্রত্যাশা করে।

পরের প্রশ্ন করেন জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে আটক দুই নেত্রীর একজনের বিরুদ্ধে চলা বিচার প্রক্রিয়া যত দ্রুত চলছে আরেকজনের বিরুদ্ধে তা ততই শ্লথ। তিনি জানতে চান এই বৈষম্য কেন?

মি মুর্শিদ বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় এখানে বৈষম্য আছে। তিনি এই বৈষম্য দুর করার আহবান জানান।

সুলতানা কামাল বলেন কাউকে বিনাবিচারে আটক করে রাখায় মানবাধিকার লংঘন।

দর্শকদের একজন এসময় বলেন বিষয়টি পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। তিনি সরকারের উদ্দ্যেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মি. রাজ্জাক বলেন, ১১ই জানুয়ারীর আগের সরকার সঠিকভাবে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে না পারার কারনেই এখনকার পরিস্থিতি।

মি. শাহ বর্তমানে চলা মামলাগুলিকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দ্যেশপ্রনোদিত বলে মন্তব্য করেন৻

পরের প্রশ্ন করে কিশোর কুমার হাওলাদার। তিনি জানতে চান দেশে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন থাকতে ট্রুথ কমিশন গঠনে প্রয়োজনীতা আছে কিনা?

মি শাহ বলেন, ট্রুথ কমিশন হয় যখন কোন দেশে যুদ্ধ বিগ্রহের পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধীদের জন্য ট্রুথ কমিশন করা হয় আর বাংলাদেশে দুর্নীতি দমনের জন্য এমন কমিশন গঠন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতির জন্য দেশে প্রচলিত আইন আছে। এই ব্যবস্থাকে তিনি দ্বৈত নীতি বলেই মনে করেন।

মি. মুর্শিদ এই ব্যবস্থাকে ইউনিক বলে আখ্যায়িত করে বলেন এটি কতখানি কার্যকরী হবে তা নিয়ে তার সন্দেহ আছে।

একজন দর্শক জানান যে তিনি মনে করেন দেশে ট্রুথ কমিশনের কোন প্রয়োজন নেই। আরেক দর্শক একই মত দিয়ে বলেন, এতে সরকারের কেউ কেউ লাভবান হবে। অন্য এক দর্শক বলেন দেশে যে আইন আছে তাতে ট্রুথ কমিশনের কোন দরকার নেই।

একই মত আরেক দর্শকের, তিনি বলেন কিছু ব্যক্তিকে মামলা থেকে অব্যহতি দেয়ার জন্যই সরকার এই কমিশন গঠন করছে।

মি. রাজ্জাক বলেন, কারো ভুলকে ক্ষমা করার জন্য এই পদ্ধতি করার প্রয়োজন নেই। তিনি মনে করেন দেশের প্রচলিত আইনেই বিচার হওয়া উচিত।

একই মত দেন সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, এই কমিশনের কার্যকারিতা তাঁর কাছে খুব স্পষ্ট নয়৻

 
 
সর্বশেষ সংবাদ
 
 
বন্ধুকে ইমেইল করুন   ছাপার উপযোগী সংস্করণ
 
  RSS News Feed
 
BBC Copyright Logo ^^ পাতার শুরুতে
 
  প্রথম পাতা | বিশেষ আয়োজন | অনুষ্ঠান| বেতার তরঙ্গ | আবহাওয়া
 
  BBC News >> | BBC Sport >> | BBC Weather >> | BBC World Service >> | BBC Languages >>
 
  আমাদের সম্পর্কে | যোগাযোগ | সাহায্যের বোতাম | গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিবৃতি